05/08/2025
ছেলেপুলে গুলো আজকাল ভীষণ অবাধ্য হয়েছে। পড়াশোনার নাম নেই কেবল থালা বাজিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছে আর লোকের বাড়িতে উঁকি মেরে টোকা দিয়ে খোঁজ নিচ্ছে তার বাড়িতে আগে পিছে কোন অনুষ্ঠান আছে কিনা। এ যেমন জন্মদিন, বিয়ে, বিবাহবার্ষিকী, গৃহপ্রবেশ, অন্নপ্রাশন পৈতে...নিদেন পক্ষে ছেরাদ্দ.... কিছুই কি নেই? মানে হলে একটু ভাল মন্দ জোটে আর কি! নাহলে তো রোজই সেই মাংস সেদ্ধ আর ভাত।
ছি: ছি: এসব শুনে তো লজ্জায় আমার মাথা কাটা যায়। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠিয়ে সকলকে বলেছি, -এই, যে পাড়ায় বেরবে তার ঠ্যাং খোঁড়া করে দেব। বই নিয়ে বস। ঠিক ঠাক পড়া মুখস্ত কর তার পর খেতে দেব।
গুণ্ডা চোখে চশমা দিয়ে হাতে ছড়ি নিয়ে বসেছে পড়াতে,
-এই সব একে একে বল দেখি, - একে....
আর্চি লাফিয়ে উঠে বলে,
-আমি জানি, একে চন্দ্র।
আর্চির পাশে বসে থাকা মিছরির দিকে গুণ্ডা ছড়ি ওঠাতেই মিছরি বলে,
-দুইয়ে পক্ষ স্যার দুইয়ে পক্ষ।
মিছিরির পিছনে বেঞ্চে বসে ছিল রুণি, এবার তার পালা, রুণি বলে
-তিনে নেত্র। মানে ত্রিনয়ন যাকে বলে। মা দূর্গার ত্রিনয়ন থাকে না!
গুণ্ডা হেঁকে বলে,
- আমি অংক কষাতে বসেছি না কি ইতিহাস পড়াতে? তোকে এতো বকতে কে বলল রুণি?
রুণি কাঁচুমাচু মুখ করে বলে,
-সরি স্যার আর হবে না।
- টেরি.......
টেরি ঢোঁক গিলতে গিলতে বলে স্যার,
মানে পেটটা কদিন ধরে খুব খারাপ মানে মাঠ আর ঘর এই করছি আর কি! তাই মানে ইয়ে, পড়াটা ঠিক ইয়ে হয় নি....আঁ আঁ স্যার মারবেন না স্যার... আর হবে না, সত্যি বলছি আর হবে না।
টেরির পরে বসেছিল ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল, মোহর।
গুণ্ডা মোলায়েম স্বরে বলল,
- মা মোহর, চারে কি হয় একটু বলে দাও তো এই গর্ধভ দের।
মোহর তার চার ইঞ্চির ছাতি চব্বিশ করে, ঘাড় বেঁকিয়ে বলল,
- চারে বেদ।
গুণ্ডা স্মিত হেসে বলল,
-তুমি আমাদের গর্ব।
তারপরই চোখ পড়ল পিছনের বেঞ্চের দিকে। কি হল, ওটা খালি কেন? ওটা তো চকলেটের সিট। সে মর্কট গেল কোথায়।
মোহর বলল,
- ছিল তো স্যার একটু আগেও ছিল।
- ছিল তো গেল কোথায়, কর্পূর নাকি উবে যাবে!
এবার টেরি একটু সাহস সঞ্চয় করে বলল,
-স্যার এখনো সময় আছে। বেঞ্চের তলায় দেখুন না হলে এবার চকলেট উবেই যাবে।
সকলে একসাথে বেঞ্চের নীচে উঁকি মেরে দেখে চকলেট মন দিয়ে মোবাইলে কি যেন দেখছে।
গুণ্ডা সবে তার বেত উঁচিয়েছে, অমনি চকলেট বেঞ্চের ওপর লাফিয়ে উঠে বলে,
- ইউরেকা ইউরেকা পেয়েছি।
- কি পেয়েছিস তুই মর্কট। পাঁচে কত হয় বল তার পর দেখছি তুই কি পেয়েছিস।
- আরে স্যার পাঁচে কি হয় সেটা গুগুল সার্চ করতে গিয়ে দেখি দেখাচ্ছে আজ তো পাঁচ-ই অগাস্ট।
-তা পাঁচ-ই অগাষ্ট তো তোর কি।
-আরে স্যার পাঁচ-ই অগাষ্ট শুধু আমার নয় সকলের পোয়া বারো😃😃😃😃। বন্ধুগণ আজ ৫ই অগাস্ট পিহুর জন্মদিন আর সেই উপলক্ষে শেল্টারে জোরদার পার্টি।
- আচ্ছা মানে পিহু আমাদের সেই পিহু যে ছোট্টবেলায় বাবা মা র হাত ধরে আমাদের জন্য ফান্ড রেসিং এ আসত।
-হ্যাঁ রে সেই পিহু যে আমাদের জন্য রঙ মেখে রাস্তায় পথ নাটিকাতে অভিনয় করেছিল।
-মানে আমাদের বন্ধু পিহুর জন্মদিন আজ।
যেই না কথাটা ছড়িয়ে পড়ল ক্লাসে অমনি ক্লাস ফাঁকা। বেচারা গুণ্ডা একা একা বসে থেকে আর কি করবে। সেও থালা হাতে ছুটল পার্টির ভোজ খেতে। দেরি হলে আবার ফুরিয়ে যাবে।
আজ পিহুর জন্মদিন আর সেই উপলক্ষে শেল্টারে ছিল পার্টি। পার্টির মেনু ছিল মুরগীর ঝোল আর ভাত আর শেষ পাতে রসগোল্লা। সবাই খেয়ে দেয়ে ঢেকুর তুলতে তুলতে বলল, খাসা হয়েছে ভোজ টা।
Happy birthday Pihu🎉🎉🎉🎉Stay blessed always ❤️❤️