15/08/2026
স্বাধীনতার সাতকাহন 🇨🇮
আজ স্বাধীনতার জন্মদিন। দেখতে দেখতে ঊনআশি বছর পার করে আজ ৮০ বছরে পা রেখেছে সে। তাই আজ দেশ জুড়ে স্কুলে কলেজে, অফিস আদালত, ক্লাব ময়দান সর্বত্র উত্তোলিত হয়েছে আমাদের গর্বের জাতীয় পতাকা।
স্বাধীনতা : এ স্বাদের ভাগ হবে না।
বিনতা ইন্টারভিউটা ক্র্যাক করেছে। সামনের সপ্তাহে চাকরিতে জয়েনিং। ছোট ছোট খরচগুলোর জন্য আর তাকে প্রবালের কাছে হাত পাততে হবে না। এখন থেকে একটু স্বাধীন ভাবে খরচা করতে পারবে সে।
কোর্ট চত্তরে দাঁড়িয়ে বুক ভরে একটা শ্বাস নিল ইভা। অবশেষে নিলয়ের কাছ থেকে ডিভোর্সটা পেল সে। প্রতিদিন রাতে মদ্যপ স্বামীর অকথ্য নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছিল না সে। আজ সে স্বাধীন।
সতেরো বছরের গুড়িয়া এনজিওর বারন্দায় বসে আকাশটাকে উঁকি মেরে দেখছিল। কত দিন সে খোলা আকাশ দেখে নি। আজ দুবছর আগে বিয়ে করবে বলে তার প্রেমিক তাকে নিয়ে এসেছিল শহরে। তারপর বেচে দিল তাকে অন্ধকার গলিতে। দিনের পর দিন শরীর আর মনের ওপর অত্যাচার সহ্য করেছে সে। এই কানা গলি থেকে কখনো যে বের হতে পারবে তা সে জীবনেও ভাবে নি। আজ ভোর রাতে এনজিওর সুজি ম্যাডাম পুলিশ সাথে করে নিয়ে তাকে আর আর পাঁচ জনকে বের করে এনেছে ওই নরক থেকে। বলেছেন এখন থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি হাতের কাজ শিখতে হবে। স্বাধীনভাবে বাঁচতে হবে। স্বাধীন ভাবে.....
ঠিক একবছর আগে নিজের পুরানো বেড়ার ঘরখানা, নিজের সঙ্গী সাথি সব ছেড়ে তাকে চলে আসতে হয়েছিল এই কষাইখানায়। সে তো আসতে চায় নি। কিন্তু তার কথা কেই বা শোনে! সে কি স্বাধীন? একের পর এক ছাগলগুলো তার সামনেই জবাই হচ্ছিল আর তাদের ছাল চামড়া ছাড়ানো বডিটা টাঙিয়ে দিচ্ছিল হুকে। সবাই চলে গেছে একে একে শুধু পড়ে আছে সে। হঠাৎ কে যেন এল।দুচোখ ভরে তাকাল তার দিকে, তার ও যেন কেমন চেনা চেনা লাগছে। কোথাও কি দেখা হয়েছিল আগে? সে কষাই এর সাথে কি সব কথা বলল, তার পর ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিল তাকে, আর তারপরই তাকে নিয়ে চলল বাজারের বাইরে। কোথায় যাচ্ছে সে জানে না। কিন্তু এটুকু জানে, যা হতে যাচ্ছিল তার থেকেও খারাপ তো আর কিছু হতে পারে না। তাই যা হচ্ছে হতে দাও। বিশ্বাস করা ছাড়া গতি নেই। গাড়ির সামনের সিটে তাকে কোলে নিয়ে বসল সে আর তার গলা জড়িয়ে ধরে তার গালে গাল ঠেকাল। কোথায় যেন চেনা চেনা লাগল এই আদরটা। তবে কি আগে কোথাও দেখা হয়েছিল তাদের?
স্বাধীনতার দিনে তার স্বাধীন হওয়া। তাই মা তার নাম দিয়েছে "আজাদী"। আদর করে মা ডাকে, "আজাদু-উউউ" এই ডাকটাও যেন খুব চেনা লাগে তার। তবে কি আগেও কেউ এই ভাবে ডেকেছে তাকে? যাইহোক আজ সে স্বাধীন। যা খুশি করতে পারে সে। শুধু মা বলেছে, " আম গাছ, সবেদা গাছগুলো খেয়ে দিস না প্লিজ আজাদু"।
আজ সকালে মা বলল, আজ নাকি তার জন্মদিন। আজাদী র জন্মদিন। তিনরঙা বেলুনে সাজানো হয়েছে তার ঘর খানা। মা সাধ করে একটা ছোট ঘণ্টি কিনে দিয়েছে তাকে। আর থালা সাজিয়ে দিয়েছে তার পছন্দের সব খাবার। আর তার জন্মদিনের খুশিতে বাড়িতে আজ মহাভোজ। সবাই আনন্দ করে খেয়েছে মুরগীর ঝোল আর রসগোল্লা। শঙ্করদাদারজন্যও এসেছে ফল সব্জি। টুকটুকের জন্য মাছ সেদ্ধ।
মায়ের থেকে জানতে পেরেছে তার জন্মদিন উপলক্ষে এইসব কিছু দিল্লি থেকে পাঠিয়েছে এক মিম্মিম। তোমাকে আমার অনেক ভালবাসা মিম্মিম। খুব ভাল থেকো। ভাল হোক তোমাদের সক্কলের। 🐐