16/04/2017
উন্মুক্ত বা ছাড়া অবস্হার হাঁসের খাদ্য ব্যাবস্হাপনাঃ
===================================
মুক্ত এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ে দিনের বেলায় ছাড়া অবস্তায় থাকবে এবং সেখানে খাবে,রাতের বেলায় ঘরে আসে।জলাশয়ে যদি খাবার কম পায় তাহলে সকালে এবং সন্ধায় প্রতি হাঁসের জন্য ৬০-৮০ গ্রাম খাবার দিতে হয় ,পরিমান নির্ভর করে কতটুকু খাবার কম পেল তার উপর।
ছাড়া অবস্থায় প্রতি হাঁসের জন্য দেড় থেকে ২ বর্গফুট জায়গা লাগবে।
বাচ্চা পালন :
======= হাঁসের বাচ্চা পালন মুরগির বাচ্চা পালনের মত। হাঁসের বাচ্চার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা হচ্ছে- ১ম সপ্তাহে ৩২ সে.,
২য় সপ্তাহে ২৯ সে.,
৩য় সপ্তাহে ২৬ সে.,
৪র্থ সপ্তাহে ২৩ সে.,
৫ম সপ্তাহে ২১ সে. তাপমাত্রা প্রয়োজন।
বাচ্চা ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে ব্রুডারের তাপমাত্রা ঠিক করতে হবে। গরমকালে ৪ সপ্তাহ এবং শীতকালে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত হাঁসের বাচ্চাকে তাপ দিতে হয়।
বাচ্চার খাবারঃ
========= প্রতিটি বাচ্চা হাঁসকে ১ম সপ্তাহে ১০-২০ গ্রাম,
২য় সপ্তাহে ২১-৩১ গ্রাম,
৩য় সপ্তাহে ৩১-৪১ গ্রাম,
৪র্থ সপ্তাহে ৪১-৫৫ গ্রাম
৫ম সপ্তাহে ৫৫-৬৫ গ্রাম খাদ্য দিতে হয়।
খাদ্যঃ
========= হাঁস প্রধানত দুই রকমের খাদ্য খায়। যেমনঃ প্রাকৃতিক খাদ্য ও সম্পূরক খাদ্য।
প্রাকৃতিক খাদ্যঃ
========== হাঁস প্রাকৃতিক ও সম্পূরক খাদ্যের মাধ্যমে খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে। জলাশয়ের আগাছা, ক্ষুদেপানা, পোকামাকড়, কচি ঘাস পাতা, ঝিনুক, শামুক ও ছোট মাছ ইত্যাদি খেয়ে অর্ধেক খাদ্যের প্রয়োজন মেটায়।
সম্পূরক খাদ্যঃ
========= পুকুর, খাল-বিল, নদী ইত্যাদিতে হাঁস চড়ে বেড়ায় এবং সেখান থেকেই তারা খাদ্য জোগাড় করে খেয়ে থাকে। আর এসব এলাকা থেকে প্রাপ্ত খাদ্যের উপরই এদের উৎপাদন নির্ভর করে। আবার অনেক খামারি প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি গম ভাঙা, চালের কুড়া, গমের ভূষি ইত্যাদি খেতে দেন।
তবে দেখা গেছে বেশিরভাগ খামারিদেরই হাঁসের জন্য সুষম খাদ্য তৈরি ও খাওয়ানোর পদ্ধতির সম্পর্কে সঠিক ধারনা নেই। ফলে পরবর্তীতে হাঁসের ডিম উৎপাদন কমে যায়। আবার ডিম পাড়ার সময় অধিক হারে পুষ্টি ডিমের মাধ্যমে চলে যায় বলে কিছু দিন পরে দেখা যায় হাঁসের ওজন কমে যাচ্ছে।
হাঁস ভিজা খাবার পছন্দ করে। এজন্য হাঁসের খাদ্যে সবসময় পানি মিশিয়ে দিতে হয়।সম্পূরক খাদ্য হিসাবে সকালে এবং সন্ধায় প্রতি হাঁসের জন্য ৬০-৮০ গ্রাম নিম্নলিখিত হারে দিতে পারি।
নিচে বিভিন্ন বয়সের হাঁসের জন্য সুষম খাদ্য তৈরির একটি ফরমোলেশনঃ
=============================================
*******টেবিল-১******
খাদ্য উপাদান (%) > > > বাচ্চা হাঁস(০-৬ সপ্তাহ) > > > বাড়ন্ত হাঁস(৭-১৯ সপ্তাহ)
গম ভাঙা ------------- ৩৬.০০ ------------------------ ৩৮.০০
ভুট্টা ভাঙা ------------ ১৮.০০ ------------------------- ১৮.০০
চালের কুঁড়া ---------- ১৮.০০ ------------------------- ১৭.০০
সয়াবিন মিল --------- ২২.০০ ------------------------- ২৩.০০
প্রোটিন কনসেনট্রেট - ২.০০ ---------------------------- ২.০০
ঝিনুক চূর্ণ ------------ ২.০০ ---------------------------- ২.০০
ডিসিপি --------- ------১.২৫ ---------------------------- ১.২৫
ভিটামিন প্রিমিক্স ---- ০.২৫ ---------------------------- ০.২৫
লাইসিন --------------- ০.১০ --------------------------- ০.১০
মিথিওনিন ------------ ০.১০ -------------------------- ০.১০
লবণ ------------------- ০.৩০ ------------------------- ০.৩০
---------------------------------------------------------------------------------
মোট === ======১০০.০০ ------------------------ ১০০.০০
এসব খাদ্য উপাদান পোল্ট্রির খাদ্য বিক্রেতার কাছে পাবেন। আর যদি তাও না পান তবে আরো সহজে নিম্নলিখিত উপায়ে খাদ্য তৈরি করতে পারবেনঃ
===========================================
**********টেবিল-২*********
খাদ্য উপাদান পরিমান (%)
---------------------------------
গম ভাঙা ৪৫
চালের কুঁড়া ২০
গমের ভুষি ১২
তিলের খৈল ১২
শুটকি মাছের গুঁড়া ১০
লবন ০.৫
ভিটামিন ০.২৫
----------------------------
মোট ১০০
ডিম পাড়া শুরুর ২ সপ্তাহ আগে থেকে শেষ পর্যন্ত
বা ডিম পাড়া হাঁস(২০ সপ্তাহ থেকে তদুর্ধে) হাঁসকে খাওয়ানোর চার্টঃ
***************টেবিল-৩******************
খাদ্য উপাদান >>>> পরিমান (%)
-------------------------------------
গম ভাঙা ৪০
চালের কুঁড়া ২৫
গমের ভুষি ৫
তিলের খৈল ১২
শুটকি মাছের গুঁড়া ১০
ঝিনুক ভাঙা ৭.২৫
লবন ০.৫
ভিটামিন ০.২৫
--------------------------------
মোট ১০০
খাওয়ানোর নিয়মঃ
============ বর্ষা মৌসুমে অর্ধছাড়া অবস্থায় পালনকৃত বাচ্চা হাঁসকে দৈনিক ৪০ গ্রাম এবং বয়স্কগুলোকে ৬০ গ্রাম হারে সুষম খাদ্য দিতে হবে। তবে শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমান কমে যায় বলে এসময় ছেড়ে খাওয়ানোর পাশাপাশি ৭০ থেকে ৮০ গ্রাম খাদ্য সরবরাহ করা দরকার। তবে প্রাকৃতিক খাদ্য না দিতে পারলে খাকী ক্যাম্পবেল হাঁসকে দৈনিক ১৭৬ গ্রাম হারে এবং জিন্ডিং হাঁসকে দৈনিক ১৬০ গ্রাম হারে খাদ্য দিতে হবে।
*তথ্য সূত্রঃ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক প্রাণিসম্পদ & Livestock website