14/05/2020
বিখ্যাত এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি যারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এনিম্যাল রেস্কিউয়ার সংগঠন হিসেবে পরিচিত American Society for the Prevention of Cruelty to Animals (ASPCA) এর মতে বিড়ালের বেশিরভাগ ইন্ট্যারনাল(ইন্তেস্টিনাল) পারাসাইটিস সংক্রমনের মুল কারন হলো কৃমি।বেশিরভাগ বিড়াল মালিকের অজান্তেই কৃমির দ্বারা সংক্রমিত হয় এর এর ফলে বিড়ালদের নানা রকম সাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয় এবং কিছু কিছু কৃমি বিড়াল/কুকুরের গায়ে থেকে মানুষের দেহেও নানা রকম সমস্যার সৃষ্টি করে।
কৃমির সমস্যা সমাধান করতে হলে আগে জানতে হবে কৃমি কি আর কোন কোন কৃমির ফলে কি ধরণের সমস্যা তৈরি হয়??আর কিভাবে বোঝা যাবে কোন কৃমির দ্বারা আক্রান্ত।নিচে বিড়াল এর শরীরে যেই কৃমিগুলা হয় তা তুলে ধরা হলো।
Round worm
বিড়ালদের শরীরে সকল ধরণের কৃমির মধ্যে গোল কৃমি সবথেকে বেশিরভাগ সময় হয়ে থাকে।এই কৃমিগুলা লম্বায় ৩-৪ ইঞ্ছি হয়ে থাকে।বেশিরভাগ সময়ে মায়ের বুকের দুধ পান থেকে এই কৃমিগুলা বিড়ালের শরীরে আসে।
hook worm
সকল ধরণের কৃমির মধ্যে এই কৃমিগুলো বিড়ালের রক্ত পান করে এর ফলে বিড়াল রক্তশুন্যতায় ভুগে।বেশির ভাগ সময় এই কৃমি মুলত খাবারের মাধ্যমে যেমন ময়লা আবর্জনা তে মুখ দেয়া,তীক্ষ্ণদাঁত বিশিস্ট প্রানী যেমন ইদুর শিকার করে খায়।মুলত যেইসব বিড়াল ময়লা আবর্জনা মরা ইদুর পাখি ইত্যাদি শিকার করে খায় তাদের দেহে হুকওয়ার্ম হবে।এই ওয়ার্ম এ আক্রান্ত বিড়ালদের ম্যাগট হয়।
Tape worm
এই অয়ার্ম সাইজে ৪-২৪ ইঞ্চির হয়ে থাকে।এই ওয়ার্ম এ আক্রান্ত বিড়ালদের মুলত বমি হয় আর বমি হবার ফলে ওজন কমে যায়।যেইসব বিড়াল ময়লা আবর্জনা মরা ইদুর পাখি ইত্যাদি শিকার করে খায় তাদের দেহেও এই ওয়ার্ম হয় আবার টিকস এবং ফ্লি থেকেও এই রোগ হয়।
lungworm
এই কৃমি হলে বোঝার কোন উপায় নেই যে যকৃতে এই কৃমির আছে।প্রাথমিক ভাবে কফ থাকলে ধরে নেওয়া যায় যে বিড়াল এই কৃমি দ্বারা সংক্রমিত।যেসব বিড়াল শামুক ময়লা অথবা পাখি শিকার এবং ইদুর মেরে খায় তাদের এই যকৃত কৃমি হবার সম্ভাবনা বেশি তবে মুলত বেশিরভাগ বাইরের বিড়াল মানে যেইসব বিড়াল ঘরের বাইরে থাকতে পছন্দ করে এবং বাইরে থাকেই তাদের এই কৃমিতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
সাধারন কিছু সিম্পটম যেইগুলা কুকুর/বিড়ালে হলে প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করা যায় কুকুর/বিড়াল কৃমিতে আক্রান্ত।
১.ডাইরিয়া
২.বিড়ালের পায়খানাতে কৃমি অথবা মলদ্বারের আশে পাশ ক্রিমি/কালো হয়ে থাকা।
৩.পায়খানায় রক্ত গেলে
৪.ওজন কমে যাওয়া এবং খাওয়ার অরুচি।
৫. কোষ্ঠকাঠিন্য
৬.কফ
৭.স্বাভাবিক নিঃশ্বাসে বাঁধা।
বিড়ালের কখন এবং কিভাবে ডিওয়ার্মিং করাতে হয়?
কিটেন/বাচ্চা বিড়ালঃ
প্রথমে বিড়ালকে ৬ সপ্তাহ, ৮ সপ্তাহ, ১০ সপ্তাহ এবং ১২ সপ্তাহে ১৬ সপ্তাহে কৃমির মেডিসিন দিতে হবে বিড়ালের গায়ের ওজন অনুযায়ী।তারপর বিড়ালের বয়স ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিমাসে ১ বার করে কৃমির মেডিসিন দিতে হবে এবং তারপর প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর ডিওয়ার্ম করাতে হবে।সেই সাথে বিড়ালের মা কেও ডিওয়ার্ম করাতে হবে।
প্রাপ্তবয়স্ক বিড়ালকে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর গায়ের ওজন অনুযায়ী ডিওয়ার্ম করাতে হবে।
নতুন বিড়াল বাসায় আনার পর পর ২ সপ্তাহ ডিওয়ার্ম করাতে হবে।
সতর্কতাঃ
১.প্রেগনেন্ট বিড়ালকে কৃমির মেডিসিন দেওয়া যাবে না।
২.৬ সপ্তাহের নিচের বিড়ালকে কৃমির মেডিসিন দেওয়া একদমই যাবে না।
৩. কোন রকম মেডিসিনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া যাবে না।
৪. কৃমির মেডিসিন টি অবশ্যই পরিমান মতো দিতে হবে।
বিড়ালের সব ধরণের কৃমির মেডিসিনের জন্য kiwof cat অত্যান্ত কার্যকরী এবং ভালো একটি কৃমির মেডিসিন।অনেকেই বিড়ালকে কুকুর এর কম্পোজিশনের কৃমির মেডিসিন দেন এতে করে আপনারা নিজের অজান্তেই নিজের বিড়ালের ক্ষতি করছেন।