17/08/2026
# বিড়াল পালন ও যত্ন: নতুন মালিকদের জন্য সম্পূর্ণ ভেটেরিনারি গাইড
বিড়াল পোষা যেমন আনন্দের, তেমনি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একটি বিড়ালকে সুস্থ, নিরাপদ ও সুখী রাখতে শুধু খাবার দিলেই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক পুষ্টি, টিকাদান, পরজীবী নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মানসিক উদ্দীপনা এবং নিরাপদ পরিবেশ।
বিড়াল মানুষের সঙ্গে সহজেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। তাই অনেক পরিবারেই বিড়াল প্রিয় পোষ্য হিসেবে জায়গা করে নেয়। তবে বিড়াল বাড়িতে আনার আগে তার প্রয়োজন, আচরণ ও স্বাস্থ্য-ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কিছু মৌলিক বিষয় জানা অত্যন্ত জরুরি।
# # ১. বিড়াল পালন কি জায়েজ?
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিড়াল পালন বৈধ। ইসলামী ঐতিহ্যে বিড়ালের প্রতি সদয় আচরণের কথা পাওয়া যায়। তবে কোনো প্রাণী পালন করলে তার খাবার, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসার প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাকে অযথা কষ্ট না দেওয়া মালিকের দায়িত্ব।
অর্থাৎ শুধু বিড়াল পোষা নয়—তার প্রতি দায়িত্বশীল ও মানবিক আচরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
# # ২. বিড়াল পালনের উপকারিতা ও দায়িত্ব
বিড়াল অনেক মানুষের জন্য চমৎকার সঙ্গী হতে পারে। তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, খেলাধুলা করা এবং যত্ন নেওয়া মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ দিতে পারে।
তবে বিড়াল পালন মানেই কিছু দায়িত্বও গ্রহণ করা। যেমন—
* প্রতিদিন পর্যাপ্ত খাবার ও পরিষ্কার পানি দেওয়া
* লিটার বক্স পরিষ্কার রাখা
* টিকা ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ করা
* অসুস্থতার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা
* নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা
* নিয়মিত খেলাধুলা ও মানসিক উদ্দীপনার সুযোগ দেওয়া
* প্রয়োজন হলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
পোষা বিড়ালকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাইরে ঘোরাফেরা করতে দিলে দুর্ঘটনা, মারামারি, সংক্রামক রোগ, পরজীবী, বিষক্রিয়া ও হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
# # ৩. বিড়াল বাড়িতে আনার আগে কী কী বিবেচনা করবেন?
প্রথমবার বিড়াল পালনের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব বিষয়ও বিবেচনা করুন।
# # # পরিবারের সদস্যদের সম্মতি
পরিবারের সবাই বিড়াল পালনে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন কি না আগে নিশ্চিত করুন। কারও অ্যালার্জি বা বিড়ালভীতি থাকলে সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
# # # বয়স
নতুন মালিকের জন্য খুব ছোট, সদ্য জন্মানো বিড়ালছানার চেয়ে কিছুটা বড় ও নিজে খাবার খেতে পারে এমন বিড়াল তুলনামূলকভাবে সহজে পালন করা যায়।
# # # স্বাস্থ্য
বিড়াল নেওয়ার আগে তার—
* চোখ ও নাক পরিষ্কার কি না
* স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছে কি না
* খাবারে আগ্রহ আছে কি না
* ডায়রিয়া বা বমি আছে কি না
* শরীরে অতিরিক্ত চুলকানি বা ক্ষত আছে কি না
* অতিরিক্ত দুর্বল বা নিস্তেজ কি না
এসব লক্ষ্য করুন।
সম্ভব হলে বিড়ালটি নেওয়ার পর দ্রুত একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
# # ৪. কোন জাতের বিড়াল নির্বাচন করবেন?
বিড়ালের জাত নির্বাচন করার সময় শুধু সৌন্দর্য নয়, তার স্বভাব, পরিচর্যার প্রয়োজন, আপনার বাসার পরিবেশ এবং আপনার সময় দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত।
# # # ব্রিটিশ শর্টহেয়ার
সাধারণত শান্ত ও তুলনামূলক স্বাধীন স্বভাবের। অ্যাপার্টমেন্টে পালন করা যায়।
# # # রাশিয়ান ব্লু
সাধারণত বুদ্ধিমান, সংবেদনশীল ও পরিচ্ছন্ন স্বভাবের। নিরাপদ indoor পরিবেশে ভালোভাবে পালন করা যায়।
# # # র্যাগডল
বড় আকৃতির এবং সাধারণত শান্ত স্বভাবের জন্য পরিচিত। নিয়মিত পশম পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
# # # বার্মিজ
মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে আগ্রহী হতে পারে।
# # # দেশি/ডোমেস্টিক শর্টহেয়ার
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও স্থানীয় পরিবেশে দেশি বিড়াল অত্যন্ত ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে। অনেক দেশি বিড়ালও অত্যন্ত সুন্দর, বুদ্ধিমান ও বন্ধুসুলভ হয়।
**মনে রাখবেন:** ভালো পোষ্য হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জাত আবশ্যক নয়। স্বাস্থ্যবান ও ভালোভাবে সামাজিকীকরণ করা দেশি বিড়ালও অসাধারণ সঙ্গী হতে পারে।
# # ৫. নতুন বিড়ালকে বাড়িতে আনার প্রস্তুতি
বিড়াল বাড়িতে আনার আগে প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত রাখুন।
প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন হতে পারে—
* খাবারের বাটি
* পানির বাটি বা water fountain
* বয়স উপযোগী cat food
* লিটার বক্স ও cat litter
* litter scoop
* আরামদায়ক বিছানা
* scratching post
* খেলনা
* carrier
* grooming brush
* nail clipper
* দাঁত পরিষ্কারের উপকরণ
* নিরাপদ hiding place
প্রথম কয়েকদিন বিড়ালকে একটি শান্ত ও নিরাপদ জায়গায় রাখুন। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে তাকে সময় দিন।
# # ৬. Indoor নাকি Outdoor—কোনটি ভালো?
শহরের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে সাধারণত **নিরাপদ indoor living** বিড়ালের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।
Indoor বিড়ালের সুবিধা—
* গাড়ি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম
* অন্য প্রাণীর আক্রমণের ঝুঁকি কম
* সংক্রামক রোগ ও পরজীবীর সংস্পর্শ কম
* হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম
* বিষাক্ত পদার্থ খাওয়ার ঝুঁকি কম
তবে indoor বিড়ালের পর্যাপ্ত ব্যায়াম ও মানসিক উদ্দীপনা নিশ্চিত করতে হবে।
Scratching post, climbing structure, interactive toys এবং প্রতিদিন মালিকের সঙ্গে খেলাধুলা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
বাইরে নিতে হলে সম্ভব হলে নিরাপদ harness ও leash ব্যবহার করা যেতে পারে। বিড়ালকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়া নিরাপদ নয়।
# # ৭. বিড়ালের খাবার ও পুষ্টি
বিড়াল **obligate carnivore**—অর্থাৎ প্রাণিজ উৎসের পুষ্টি তাদের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ।
বিড়ালের বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং রোগ অনুযায়ী খাদ্যের প্রয়োজন পরিবর্তিত হয়।
# # # প্রধান খাদ্য
বয়স অনুযায়ী সম্পূর্ণ ও balanced commercial cat food একটি ভালো বিকল্প। Kitten, adult এবং senior বিড়ালের জন্য সাধারণত আলাদা formulation থাকে।
শুধু ভাত-মাছ বা ভাত-মাংস দীর্ঘদিন খাওয়ালে প্রয়োজনীয় সব vitamin, mineral, amino acid এবং অন্যান্য পুষ্টি সঠিক অনুপাতে নাও পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে **taurine-এর ঘাটতি বিড়ালের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।**
ঘরে তৈরি খাবার দিতে চাইলে veterinary nutrition সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
# # # যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
বিড়ালকে—
* পেঁয়াজ
* রসুন
* চকলেট
* অ্যালকোহল
* অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার
* অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার
* কাঁচা হাড়
* কাঁচা মাংস/মাছের অনিরাপদ খাবার
* মানুষের জন্য তৈরি কিছু ওষুধ
দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে **paracetamol/acetaminophen বিড়ালের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী হতে পারে।**
# # ৮. পরিষ্কার পানি অত্যন্ত জরুরি
বিড়াল অনেক সময় পর্যাপ্ত পানি পান করে না। তাই সবসময় পরিষ্কার ও তাজা পানি রাখুন।
কিছু বিড়াল running water পছন্দ করে। তাদের ক্ষেত্রে water fountain ব্যবহার উপকারী হতে পারে।
Wet food খাদ্যতালিকায় রাখলে খাবারের মাধ্যমে পানির গ্রহণও বাড়তে পারে।
# # ৯. টিকাদান
বিড়ালের সুস্থতা রক্ষায় টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিড়ালের টিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বয়স, পূর্বের টিকাদানের ইতিহাস, জীবনযাপন, অন্যান্য প্রাণীর সংস্পর্শ এবং স্থানীয় রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়।
সাধারণভাবে feline core vaccination-এর মধ্যে **FVRCP**-জাতীয় টিকা গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বাংলাদেশে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিবেচনায় **Rabies vaccination** অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু পরিস্থিতিতে **FeLV (Feline Leukemia Virus)** টিকার প্রয়োজন হতে পারে।
Nobivac, Rabisin বা অন্যান্য ব্র্যান্ডের টিকা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোন টিকা, কখন এবং কত ডোজ প্রয়োজন তা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
**টিকার নির্দিষ্ট schedule সব বিড়ালের জন্য এক নয়।**
তাই টিকা দেওয়ার আগে বিড়ালের বয়স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উত্তম।
# # ১০. কৃমি ও পরজীবী নিয়ন্ত্রণ
বিড়ালের শরীরে roundworm, hookworm, tapewormসহ বিভিন্ন অন্ত্রের পরজীবী থাকতে পারে।
এছাড়াও flea, tick এবং mite-এর সমস্যা হতে পারে।
কৃমিনাশক বা antiparasitic medicine নিজের ইচ্ছায় বারবার দেওয়া উচিত নয়। বিড়ালের ওজন, বয়স, স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য পরজীবীর ধরন অনুযায়ী ওষুধ নির্বাচন করা উচিত।
**কুকুরের কিছু flea/tick medicine বিড়ালের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।**
বিশেষ করে **permethrin-containing কিছু dog product বিড়ালে ব্যবহার করা বিপজ্জনক।**
# # ১১. গ্রুমিং ও পরিচ্ছন্নতা
বিড়াল স্বভাবগতভাবেই নিজেকে পরিষ্কার রাখে। তাই সুস্থ বিড়ালকে নিয়ম করে মাসে দুইবার গোসল করানো বাধ্যতামূলক নয়।
অতিরিক্ত গোসল করলে ত্বক শুষ্ক বা irritated হতে পারে।
বরং প্রয়োজন অনুযায়ী—
* পশম brush করা
* নখ trim করা
* কান পরীক্ষা করা
* দাঁতের যত্ন নেওয়া
* flea/tick পরীক্ষা করা
এসব বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
লম্বা পশমের বিড়ালের নিয়মিত brushing প্রয়োজন হতে পারে।
# # ১২. দাঁতের যত্ন
বিড়ালের মুখের স্বাস্থ্য অবহেলা করা উচিত নয়।
দাঁতে plaque ও tartar জমে periodontal disease হতে পারে।
সম্ভব হলে বিড়ালের জন্য তৈরি toothpaste ও toothbrush ব্যবহার করে নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা ভালো।
মানুষের toothpaste ব্যবহার করবেন না।
মুখ থেকে দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত লালা, খাবার চিবাতে কষ্ট বা মুখে ব্যথা দেখা দিলে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
# # ১৩. লিটার বক্স
বিড়াল সাধারণত পরিষ্কার জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করতে পছন্দ করে।
লিটার বক্স এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বিড়াল সহজে যেতে পারে এবং যেখানে অতিরিক্ত শব্দ বা ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
সাধারণ নিয়ম হিসেবে—
**বিড়ালের সংখ্যা + ১টি লিটার বক্স**
রাখা একটি ভালো নির্দেশনা।
অর্থাৎ একটি বিড়াল থাকলে সম্ভব হলে ২টি লিটার বক্স রাখা ভালো।
প্রতিদিন মল পরিষ্কার করুন এবং নিয়মিত litter পরিবর্তন করুন।
হঠাৎ লিটার বক্স ব্যবহার বন্ধ করে দিলে শুধু behavioural problem ধরে নেওয়া যাবে না। প্রস্রাবের সমস্যা, urinary blockage, cystitis বা অন্যান্য রোগও এর কারণ হতে পারে।
# # ১৪. বিড়ালের মানসিক স্বাস্থ্য
বিড়ালকে শুধু খাবার ও ঘুমের জায়গা দিলেই তার সব প্রয়োজন পূরণ হয় না।
প্রতিদিন খেলাধুলার সুযোগ দিন।
ব্যবহার করতে পারেন—
* interactive toys
* feather toys
* puzzle feeders
* scratching post
* climbing shelves
* cat tree
* নিরাপদ hiding space
খেলার সময় string বা ছোট বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করবেন না যাতে বিড়াল তা গিলে ফেলতে পারে।
# # ১৫. বিড়ালকে নিরাপদ রাখুন
বাড়িতে বিড়াল থাকলে কিছু ঝুঁকি বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
জানালা ও বারান্দায় secure mesh/net ব্যবহার করুন।
কারণ বিড়াল উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হতে পারে।
এছাড়া দূরে রাখুন—
* ইঁদুর মারার বিষ
* কীটনাশক
* ক্ষতিকর cleaning chemicals
* মানুষের ওষুধ
* বৈদ্যুতিক তার
* ধারালো বস্তু
* বিষাক্ত গাছ
কিছু indoor plants বিড়ালের জন্য বিষাক্ত হতে পারে। তাই ঘরে গাছ রাখার আগে সেটি বিড়ালের জন্য নিরাপদ কি না নিশ্চিত করুন।
# # ১৬. টক্সোপ্লাজমোসিস ও মানুষের স্বাস্থ্য
**Toxoplasma gondii** নামের পরজীবী টক্সোপ্লাজমোসিস সৃষ্টি করতে পারে। বিড়াল এই পরজীবীর lifecycle-এর গুরুত্বপূর্ণ host।
তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি বিড়াল বা বিড়ালের লালা থেকে মানুষ টক্সোপ্লাজমোসিসে আক্রান্ত হবে।
সংক্রমণের প্রধান ঝুঁকির সঙ্গে বিড়ালের মল ও contaminated soil/food-এর সম্পর্ক রয়েছে।
লিটার পরিষ্কার করার সময়—
* gloves ব্যবহার করা
* পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
* প্রতিদিন litter পরিষ্কার করা
উপকারী।
গর্ভবতী নারী ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
# # ১৭. জলাতঙ্ক থেকে সুরক্ষা
জলাতঙ্ক একটি প্রাণঘাতী zoonotic disease। বিড়ালকেও rabies vaccination-এর আওতায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে জলাতঙ্কের ঝুঁকি রয়েছে।
বিড়াল কামড়ালে বা আঁচড়ালে ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শুধু বিড়ালটি পোষা বলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি সম্পূর্ণ শূন্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।
# # ১৮. বিড়াল অসুস্থ হলে কোন লক্ষণগুলো গুরুত্ব দেবেন?
নিচের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—
* ২৪ ঘণ্টার বেশি খাবার না খাওয়া
* বারবার বমি
* দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া
* শ্বাসকষ্ট
* অস্বাভাবিক নিস্তেজতা
* প্রস্রাব করতে না পারা
* বারবার litter box-এ যাওয়া কিন্তু প্রস্রাব না হওয়া
* রক্তপাত
* খিঁচুনি
* হঠাৎ হাঁটতে না পারা
* চোখ বা নাক থেকে অস্বাভাবিক discharge
* দ্রুত ওজন কমে যাওয়া
বিশেষ করে **পুরুষ বিড়াল প্রস্রাব করতে না পারলে এটি জরুরি অবস্থা হতে পারে।**
# # ১৯. সাপ্লিমেন্ট কি সব বিড়ালের প্রয়োজন?
সুস্থ ও balanced diet খাওয়া বিড়ালের জন্য সবসময় vitamin বা mineral supplement প্রয়োজন হয় না।
অপ্রয়োজনে supplement দিলে উপকারের পরিবর্তে ক্ষতিও হতে পারে।
বিশেষ রোগ, nutritional deficiency, growth problem বা veterinary indication থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী supplement দেওয়া যেতে পারে।
# # ২০. বিড়াল পালনের আনুমানিক খরচ
বিড়াল পালনের খরচ নির্ভর করে তার খাবার, জাত, বয়স, স্বাস্থ্য, litter ব্যবহার, চিকিৎসা এবং আপনার জীবনযাপনের ওপর।
মাসিক খরচের মধ্যে থাকতে পারে—
* Cat food
* Litter
* Treat
* Grooming supplies
* Parasite control
* অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী
এছাড়া টিকা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসুস্থতার চিকিৎসা ও জরুরি চিকিৎসার জন্য আলাদা বাজেট রাখা উচিত।
বিদেশি breed-এর ক্ষেত্রে grooming ও স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
# # ২১. বিড়াল পালনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
একটি বিড়ালকে ভালো রাখার জন্য মনে রাখুন—
**ভালো খাবার + পরিষ্কার পানি + টিকা + পরজীবী নিয়ন্ত্রণ + পরিচ্ছন্নতা + নিরাপদ পরিবেশ + খেলাধুলা + ভালোবাসা + নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ = সুস্থ ও সুখী বিড়াল।**
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিড়াল অসুস্থ হলে নিজের ইচ্ছায় মানুষের ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না। বিড়ালের শরীর মানুষের মতো নয় এবং অনেক প্রচলিত মানব-ওষুধ বিড়ালের জন্য মারাত্মক বিষাক্ত হতে পারে।
# # # শেষ কথা
বিড়াল পালন শুধু শখ নয়—এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। আপনি যখন একটি বিড়ালকে নিজের পরিবারে নিয়ে আসছেন, তখন তার খাবার, নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও মানসিক সুস্থতার দায়িত্বও গ্রহণ করছেন।
তাই বিড়াল কেনার পরিবর্তে সম্ভব হলে অসহায় বা পরিত্যক্ত বিড়ালকে **adopt** করার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।
একটি সুস্থ বিড়াল আপনার পরিবারের আনন্দের অংশ হতে পারে বহু বছর ধরে। আর তার সেই সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আপনার।
**আপনার পোষ্য বিড়ালের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ভালোবাসার যত্ন নিন—কারণ পোষ্য প্রাণী শুধু ঘরের প্রাণী নয়, তারা আমাদের পরিবারেরই একজন।**
FAQ
বিড়ালকে পোষ মানানোর উপায় কি?
উত্তরঃ সহজভাবে বিড়াল পোষ মানানোর উপায় হল তাকে সময় দেয়া, তার সাথে খেলা। সম্ভব হলে নিয়মিত বিড়ালকে বাইরে কিছু সময়ের জন্য বের করা উচিত।
নতুনদের জন্য বিদেশী না দেশি বিড়াল ভালো?
উত্তরঃ আপনি যদি বিড়াল পালনে একেবারে নতুন হন তাহলে দেশি জাতের বিড়াল ভালো হবে। কারন দেশি বিড়ালের তুলনামূলক কম যত্নের প্রয়োজন হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী থাকে।
বিড়ালের যত্ন করতে প্রতিদিন কতটুকু সময় লাগে?
উত্তরঃ বিড়াল পরিচ্ছন্ন প্রানী। তাই লিটার বক্স পরিস্কার সহ প্রতিদিনের যত্নে কম পক্ষে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগতে পারে।
কতক্ষণ পোষা বিড়ালকে একা রাখা যাবে?
উত্তরঃ প্রতিটা বিড়ালের চাহিদা ভিন্ন। এছাড়া মালিকের সাথে সম্পর্ক ও বাড়িতে অন্য প্রানীর উপস্থিতির ভিত্তিতে ৪ ঘন্টা একা রাখা যেতে পারে।
বিড়াল থেকে কি কি রোগ জীবানু ছড়ায়?
উত্তরঃ সুস্থ ও অসুস্থ সব ধরনের বিড়ালের লালা ও মলমূত্রে টকশোপ্লাজমসিস নামে এক ধরনের জীবাণু পাওয়া যায় যা গর্ভবতী নারীদের জন্য ক্ষতিকর। এই জীবাণু বিড়ালের শরীরেও লেগে থাকতে পারে যা খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে।