M.A. Agrovet

M.A. Agrovet Animal Health Solution.

01/04/2026

*"টিটেনাস"* (Tetanus) ছাগল পালনে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা রোগ, তাই জানিয়ে রাখি:

*ছাগলের টিটেনাস:*
- এটা একটা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, সাধারণত ক্ষতস্থান দিয়ে জীবাণু ঢুকলে হয় (যেমন খাসি করানো, শিং কাটা, বাচ্চা হওয়ার সময় নাভিতে ইনফেকশন, কাঁটার খোঁচা ইত্যাদি)।
- লক্ষণ: শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, চোয়াল আটকে যাওয়া (চোয়াল খুলতে পারে না, তাই "lockjaw" বলে), কান খাড়া, লেজ শক্ত, হাঁটতে কষ্ট, অল্প শব্দ/আলোতেও চমকে ওঠা। খুব কষ্টদায়ক রোগ, মৃত্যুহার বেশি।

*প্রতিরোধ (সবচেয়ে জরুরি):*
- *টিকা* দাও: Tetanus Toxoid ভ্যাকসিন। বাচ্চা ছাগলকে ২৪ ঘন্টার ভিতরে অবশ্যই দিতে হবে।
- খাসি করানো/অপারেশনের সময় জীবাণুমুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করো, ক্ষতস্থান পরিষ্কার রাখো।
- গর্ভবতী ছাগীকে বাচ্চা হওয়ার ৪-৬ সপ্তাহ আগে টিকা দিলে বাচ্চা মায়ের দুধ থেকে সুরক্ষা পায়।

*চিকিৎসা:* হয়ে গেলে চিকিৎসা কঠিন, দ্রুত পশু ডাক্তার দরকার (অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক, সাপোর্টিভ কেয়ার)। তাই টিকা দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভিডিও সংগৃহীত
#টিটিনাছ #প্রাণিসম্পদ

L*D রোগে আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন দিয়ে গরুকে বিপদে ফেলবেন না!গরুর Lumpy Skin Disease (L*D) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সচ...
25/08/2025

L*D রোগে আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন দিয়ে গরুকে বিপদে ফেলবেন না!

গরুর Lumpy Skin Disease (L*D) একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সচেতন না হয়ে ভুল চিকিৎসা করলে গরুর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হলো, যেগুলো অনুসরণ করলে গরু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে:

১. প্রথম সপ্তাহে বেশি ওষুধ নয়:
রোগের শুরুতে গরুর শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজ করতে দিন। শুরুতেই অতিরিক্ত ওষুধ দিলে তা রোগ নিরাময় প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই পর্যবেক্ষণ করুন—গরু নিজে কতটা মোকাবিলা করতে পারছে, সেই অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা দিন।

২. এন্টিবায়োটিক নয়:
প্রথম দুই সপ্তাহে কোনো এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না। মনে রাখবেন, L*D ভাইরাসজনিত, ব্যাকটেরিয়া নয়। অকারণে এন্টিবায়োটিক দিলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।

৩. বেশি ওষুধ মানে বেশি ক্ষতি:
প্রথম সপ্তাহে যত বেশি ওষুধ দেবেন, গরুর সুস্থ হতে তত বেশি সময় লাগবে, চিকিৎসা ব্যয় বাড়বে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বাড়বে।

৪. জ্বর মাপা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি:
থার্মোমিটার দিয়ে নিয়মিত জ্বর মাপুন। জ্বর থাকলে ফার্স্টভেট বা পাইরালজিন ট্যাবলেট ৮ ঘণ্টা পরপর দিনে ৩ বার দিন। গরুকে দিনে ২-৩ বার গোসল করান ও শরীর মুছে দিন। চেষ্টা করুন শরীরের তাপমাত্রা ১০৪°F এর নিচে রাখতে।

৫. ঘরোয়া সহায়ক উপকরণ:

বড় গরুকে: খাবার সোডা ৩০ গ্রাম,

বাছুরকে: ১৫ গ্রাম,

পরিমাণমতো নিমপাতা,

জিংক সিরাপ: বাছুরকে ৫০ মি.লি, বড় গরুকে ১০০ মি.লি,
এগুলো ১৫-২০ দিন খাওয়াতে থাকুন। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হবে।

৬. গুটি হওয়া স্বাভাবিক:
গুটি উঠতে দিন, ভয় পাবেন না। এতে গরুর শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করছে। জোর করে বন্ধ করবেন না। পরে নন-স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। যেমন—এষ্টাভেট বা রেনাসিন ইনজেকশন (১০০ কেজি ওজনের জন্য ৮-১০ সিসি করে একদিন পরপর তিনবার)। তবে রেজিস্টার্ড ভেটের পরামর্শ ছাড়া নয়।

৭. খাবার ও পুষ্টি বজায় রাখুন:
স্বাভাবিক খাবার দিন। ইলেকট্রোলাইট, ডেক্সট্রোজ, মিনারেল সাপোর্ট, ওরস্যালাইন, লেবুর রস, ক্যালসিয়াম, এমাইনোভেট প্লাস ইত্যাদি দিন। এতে গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

৮. ভাইরাস দুর্বল করতে সাহায্যকারী পাউডার:
No Lumpy, Lumpy Cure, FRA C12 পাউডার খাওয়াতে পারেন। এগুলো ভাইরাসকে ভেতর থেকে দুর্বল করে।

৯. নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা:
নিমপাতা সিদ্ধ পানি, পটাশ মিশ্রিত পানি, শ্যাম্পু, বা টিমসেন / GPC8 / FAM-30 ব্যবহার করে গরুকে গোসল করান।

---

শেষ কথা:
উপরের নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে মেনে চললে আপনার গরু ভয়ংকর L*D রোগ থেকেও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে। ধৈর্য ধরুন, আতঙ্কিত হবেন না, এবং সবসময় রেজিস্টার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

*D #ভাইরাস #লাম্পি #লাম্পিরোগ

★★গাভী ডেলিভারি:ডেলিভারির সময় হয়েছে কিনা, তা বোঝার জন্য বেশ কিছু লক্ষণ আছে। এই লক্ষণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনি স...
16/07/2025

★★গাভী ডেলিভারি:
ডেলিভারির সময় হয়েছে কিনা, তা বোঝার জন্য বেশ কিছু লক্ষণ আছে। এই লক্ষণগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার গাভী বাচ্চা প্রসবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

★শারীরিক লক্ষণসমূহ
১/ ওলান বড় হওয়া ও দুধ আসা:
গাভীর ওলান (বাট) বড় হয়ে যাবে এবং শক্ত হয়ে উঠবে। অনেক সময় বাট থেকে দুধ বা দুধের মতো আঠালো তরল পদার্থ বের হতে দেখা যায়। বিশেষ করে প্রথমবার মা হওয়া গাভীর ক্ষেত্রে ওলান অনেক আগে থেকেই বড় হতে পারে, তবে ডেলিভারির কাছাকাছি সময়ে এটি আরও দ্রুত বড় ও পূর্ণ দেখাবে।

২/ যোনিমুখের পরিবর্তন:
যোনিমুখ ফোলা, নরম এবং শিথিল হয়ে যাবে। অনেক সময় যোনিমুখ থেকে স্বচ্ছ বা হালকা রক্তমিশ্রিত আঠালো স্রাব বের হতে দেখা যায়। এটি প্রসবের ১২-২৪ ঘণ্টা আগে দেখা যেতে পারে।

৩/পেট ঝুলে পড়া:
গাভীর পেট নিচের দিকে আরও বেশি ঝুলে পড়বে এবং পেছনের দিকটা কিছুটা সরু দেখাবে।

৪/ লেজের গোড়ার পরিবর্তন:
লেজের গোড়ার দুই পাশের হাড় বা রগগুলো শিথিল হয়ে যাবে এবং গর্তের মতো দেখাবে। এটি প্রসবের খুব কাছাকাছি সময়ে (বিশেষ করে ১২-২৪ ঘণ্টার মধ্যে) স্পষ্ট বোঝা যায়।

★আচরণগত লক্ষণসমূহ
১/ অস্থিরতা ও ছটফট করা:
গাভী অস্থির হয়ে উঠবে, ঘন ঘন উঠবে-বসবে এবং ঘষটাঘষি করতে পারে।

২/ দল থেকে আলাদা হওয়া:
অনেক গাভী অন্য গরু থেকে আলাদা হয়ে নিরিবিলি জায়গায় যেতে চায়। এটি নিরাপদ স্থানে প্রসব করার একটি প্রাকৃতিক প্রবৃত্তি।

৩/ ব্যথা ও অস্বস্তি:
গাভী তার পেটে ব্যথা অনুভব করতে পারে, যেমন মাসিকের ব্যথার মতো টান বা চাপ। এটি হলে গাভী তার পেটের দিকে তাকাবে বা লাথি মারবে।

৪/খাবার কমে যাওয়া:
প্রসবের কাছাকাছি সময়ে গাভীর খাবার রুচি কমে যেতে পারে বা খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

৫/ ঘন ঘন প্রস্রাব:
গাভী ঘন ঘন প্রস্রাব করার চেষ্টা করতে পারে।

৬/ দম নেওয়া ও হাম্বা হাম্বা ডাকা:
গাভী ঘন ঘন লম্বা শ্বাস নিতে পারে এবং অস্থিরভাবে হাম্বা হাম্বা ডাকতে পারে।

★চূড়ান্ত পর্যায়ের লক্ষণ (প্রসব বেদনা শুরু হলে)

১/ জরায়ুর সংকোচন: নিয়মিত বিরতিতে গাভীর পেট শক্ত হবে এবং জরায়ুর সংকোচন দেখা যাবে।

২/ পানির থলি দেখা যাওয়া:
যোনিমুখ দিয়ে পানির থলি (ওয়াটার ব্যাগ) বেরিয়ে আসতে দেখা যাবে। এটি দেখা গেলে সাধারণত ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে বাছুর প্রসব হওয়ার কথা।

৩/ বাছুরের পা ও নাক দেখা যাওয়া:
স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে প্রথমে বাছুরের সামনের দুটি পা এবং তার ওপরে নাক দেখা যাবে।

যদি এই লক্ষণগুলো দেখতে পান, তাহলে প্রস্তুতি নিন এবং প্রয়োজনে একজন পশু চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। প্রসবের সময় কিছু ব্যতিক্রম দেখা গেলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

🐄 নতুন গরুর খামারিদের জন্য সেরা ৪০টি সফলতার টিপস 🐄(যা অনুসরণ করলে খামার দাঁড়াবে, অবহেলা করলে ধ্বংস অনিবার্য)📌 পোস্টটি পড়...
23/06/2025

🐄 নতুন গরুর খামারিদের জন্য সেরা ৪০টি সফলতার টিপস 🐄

(যা অনুসরণ করলে খামার দাঁড়াবে, অবহেলা করলে ধ্বংস অনিবার্য)
📌 পোস্টটি পড়ে শেষ পর্যন্ত থাকো, শিখবে এমন কিছু—যা কেউ কখনও বলে না!

🔰 📦 শুরুতে কীভাবে শুরু করবো?

1️⃣ একেবারে বড় স্কেলে শুরু কোরো না—১ বা ২টা গরু দিয়েই শুরু করো।
2️⃣ গরুর জাত বুঝে কিনো—দেশি, শাহীওয়াল, ফ্রিজিয়ান বা হাইব্রিড না বুঝে কিনলে বিপদ।
3️⃣ দালালের মাধ্যমে না কিনে খামারি বা বিশ্বস্ত উৎস থেকে গরু কিনো।
4️⃣ গরু কেনার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও—চোখ, দাঁত, নখ, হাটা ইত্যাদি দেখে।
5️⃣ নিজের হাতে কাজ শেখো—"আমি বস খামার করবো না" ভাবলে শেষ।
6️⃣ ছায়াযুক্ত, বাতাস চলাচলকারী, উঁচু জায়গায় ঘর করো।
7️⃣ গরুর থাকার জায়গা সব সময় শুকনো রাখো—জলাবদ্ধতা হলে রোগ বাড়বে।
8️⃣ ঘরে হালকা আলো থাকলে ভালো—অন্ধকার গরুর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ।
9️⃣ গরুকে বিশ্রামের আলাদা জায়গা দাও—ঘুম থেকে খাওয়া পর্যন্ত রুটিন থাকা দরকার।
🔟 খামারের ঘর পরিকল্পনায় থাকুক আলাদা জায়গা—বাচ্চা গরু, বড় গরু, অসুস্থ গরু।

🍀 🥗 খাদ্য ও পানির বিষয়গুলো

1️⃣১️⃣ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার দাও—রুটিন বদলালে গরুর হজম ও বৃদ্ধি কমে।
1️⃣২️⃣ গরুকে পানির জন্য সব সময় পরিষ্কার পানি রাখো—গরমকালে দিনে ৩ বার পানি দাও।
1️⃣3️⃣ খড়, ভুসি, খৈল, গম, ছোলা—এসব ব্যালেন্স করে দাও।
1️⃣4️⃣ বাজারের সব রেডিমেইড খাবার ভালো না—নিজে বানানো খাবার সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
1️⃣5️⃣ গরুর জন্য মিনারেল মিক্স, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট প্রতিদিন দাও।
1️⃣6️⃣ রোদে শুকানো পঁচা খাবার বা পুরাতন ভুসি খাওয়াবে না—এসব বিষাক্ত হয়।
1️⃣7️⃣ গরুকে প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটাও—গরু হাঁটলে মাংস নরম হয়।
1️⃣8️⃣ খাবারের মধ্যে কখনোই সোজা লবণ দিও না—তাপে পেট গরম হয়, গ্যাস হয়।
1️⃣9️⃣ খাওয়ানোর পরপরই পানি দিও না—কমপক্ষে ৩০ মিনিট পরে পানি দাও।
2️⃣0️⃣ খাবার তৈরির জন্য একজন দক্ষ মানুষ রাখো, না হলে গরু রুগ্ন হয়ে যাবে।

💉 ⚕️ স্বাস্থ্য, ওষুধ ও টিকা বিষয়ক টিপস

2️⃣1️⃣ গরুকে নিয়মিত টিকা দাও—FMD, ব্ল্যাক কোয়ার্টার, ব্রুসেলোসিস ইত্যাদি সময়মতো।
2️⃣2️⃣ বছরে ২ বার কৃমির ওষুধ দাও (বৈশাখ ও কার্তিক মাসে)।
2️⃣3️⃣ গরুর শরীর, নখ, চোখ প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করো।
2️⃣4️⃣ হঠাৎ খাবারে অনীহা বা দাঁড়িয়ে না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখাও।
2️⃣5️⃣ পশু চিকিৎসকের নাম্বার মোবাইলে সেভ করে রাখো, প্রয়োজনে যেন দেরি না হয়।
2️⃣6️⃣ গরু হাঁচি দিলে বা নাক দিয়ে পানি ঝরলে আলাদা করো অন্যদের থেকে।
2️⃣7️⃣ গরুর নাকের শুষ্কতা, দম নিতে কষ্ট—এর মানে গরু অসুস্থ।
2️⃣8️⃣ গরুর পায়খানার রঙ দেখে বুঝো—কালচে, পাতলা হলে সমস্যা।
2️⃣9️⃣ গরুর দাঁতের বয়স দেখে বয়স আন্দাজ শেখো (অনেকেই ঠকে যায়)।
3️⃣0️⃣ গরুর জ্বরের সময় সরাসরি পানি বা ঠান্ডা খাবার দিও না—জরুরি চিকিৎসা নাও।

📈 💼 ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও মেন্টালিটি

3️⃣1️⃣ লাভ না হলে হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দিও না—১টা সিজনে লাভ না হলেও শেখা হয়।
3️⃣2️⃣ সব খরচের হিসাব লিখে রাখো—খাওয়ানো, চিকিৎসা, কর্মচারী, পানি, বিদ্যুৎ সব।
3️⃣3️⃣ কোরবানির ৩ মাস আগে থেকেই মোটা-তাজা করো—বাজার চাহিদা তখন বেশি।
3️⃣4️⃣ শুধু মোটা নয়, সুস্থ ও ঝকঝকে গরু-ই বেশি দাম পায়।
3️⃣5️⃣ ফেসবুকে নিজের খামারের ছবি, ভিডিও আপলোড করো—অনলাইন মার্কেট বড় হচ্ছে।
3️⃣6️⃣ লোকাল বাজার ছাড়াও অনলাইন বিক্রির প্ল্যান রাখো।
3️⃣7️⃣ নিজের খামার থেকে গোবর, মূত্র সংগ্রহ করে জৈব সার বানাও—অতিরিক্ত আয়।
3️⃣8️⃣ বাচ্চা গরু হলে, আলাদা করে বড় করো—তারা অন্যদের সঙ্গে থাকলে ধাক্কা খায়।
3️⃣9️⃣ পশু প্রেমিক হতে শেখো—গরুকে মেরে বা ভয় দেখিয়ে লাভ হয় না, ক্ষতি হয়।
4️⃣0️⃣ সবশেষে—ধৈর্য + শিক্ষা + পর্যবেক্ষণ = সফল খামার।

🧠 বিশেষ পরামর্শ:

✅ খামার করতে এসেছো? খামারটাকে বিজনেস হিসেবে না দেখে দায়িত্ব হিসেবে দেখো।
✅ একবার সফল হলে, তুমি নিজেই অন্যদের শিক্ষক হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ!

📢 এখন তোমার কাজ:

✅ পোস্টটা সেভ করে রাখো।
✅ তোমার পরিচিত নতুন খামারিদের ইনবক্সে পাঠাও।
✅ নিজেও শেয়ার করো—জানাও সবাইকে।

#ফ্যাশন এগ্রো #নতুন_খামারি #খামার_পরামর্শ #গরু_পালন #ফার্মিং_বাংলাদেশ
#ফার্মিং_গাইড

গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে যেসব খাদ্য খাওয়ানো খুবই জরুরি♦️-------------------------------------------------------------♦️মো...
11/04/2025

গরু দ্রুত মোটাতাজা করতে যেসব খাদ্য খাওয়ানো খুবই জরুরি
♦️-------------------------------------------------------------♦️
মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা শির্শক আলোচনায় আপনাকে স্বাগতম। গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফিড ফরমুলেশন করাটা খুবই চ্যালেন্জের।

প্রীয় খামারি ভাই, আপনি নিশ্চয় আমার সাথে একমত হবেন যে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ খামারে লাভ বা প্রফিট করা সম্ভব না।
কেননা একটি খামারে সবচেয়ে বেশি যে খাতে ব্যায় হয় তা হলো খাদ্য ব্যবস্থাপনায়। তার উপর ইদানীং কালের গরুর বাজারদর যেমন কম আর গো খাদ্যের বাজারদর তেমনি বেশি। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কস্ট ইফেকটিভ ফিডিং পলিসি অবলম্বন না করলে নিশ্চিত লোকসান।
আর তাই আপনার গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকার সকল উপকরণের পুষ্টিগুণ ও দাম সম্পর্কে যেমন সঠিক ধারনা থাকা দরকার তেমন আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎভাবনার সাথেও পরিচিতি থাকা দরকার। তবেই আপনি কস্ট ইফেকটিভ ফিড অর্থাৎ সবচেয়ে কম খরচে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য বা সরবরাহ করতে পারবেন।

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা
ভুট্টা, সয়াবিন মিল, চাউলের কুড়া, গমের ভূষি, চাউলের খুদ, খৈল, কলাই, মটর, খেশারী ইত্যাদি আমাদের দেশের প্রধান দানাদার খাদ্য উপাদান। এগুলোর সাথে পরিমানমত বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরি করা হয়। তবে গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরি তে খাদ্যের গুনগত মানের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।
খাদ্যের প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহায়ড্রেট ইত্যাদির পরিমান চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যের মাধ্যমে সরবরাহ হচ্ছে কি-না দেখতে হবে। গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য মোটাতাজাকরণের গরুকে নিয়মিত খাওয়ানোর মাধ্যমে আশানুরূপ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব হয়।gp&k

গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তালিকা বা ফর্মুলেশন
প্রতি ১০০ কেজি গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরির ফরমুলেশন দেওয়া হলো-

ভুট্টা ভংগা ৩৫ কেজি
গম ভাংগা ১৫ কেজি
সয়াবিন থৈল ২০ কেজি
চাউলের কুড়া/রাইচ ব্রান ২৫ কেজি
লাইম স্টোন ১ কেজি
ডিসিপি/এমসিপি ৫০০ গ্রাম
লবন ২ কেজি
ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ১৫০ গ্রাম
সোডিয়াম বাই-কার্বনেট ৫০০ গ্রাম
এনজাইম ৫০ গ্রাম
টেবিল- গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য তৈরির ফরমুলেশন
গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য সরবরাহ পদ্ধতি
গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্পে গবাদি পশুর জন্য পরিমাণ মত সুষম গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য সরবরাহ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের তালিকায় শর্করা (Carbohydrates), আমিষ (Protein), চর্বি (Fat) ও ভিটামিন-মিনারেল এর পরিমান সাধারণত খাদ্যের চেয়ে বেশি থাকতে হবে। প্রচুর পরিমাণ টিউবয়েলের টাটকা পানি সরবরাহ করা প্রয়োজন।

আমাদের দেশে গবাদি প্রাণির সবচেয়ে সহজলভ্য ও সাধারণ খাদ্য হলো খড়, যার ভিতর আমিষ, শর্করা ও খবিজের ব্যাপক অভাব রয়েছে। তাই খড়কে ইউরিয়া ও মোলাসাস(চিটাগুর) দ্বারা প্রকৃয়াজাত করে খাওয়াতে হয়। গবাদিপশু পালন ও কৃষি ।
সেই সাথে সুষম দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
মোট খাদ্য চাহিদার ৪০-৫০ন ভাগ দানাদার ও ৫০-৬০ ভাগ আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন খড়, ঘাস ইত্যদি দিতে হবে।
সাইলেজ অথবা ইউএমএস অথবা ফর্মান্টেড ভুট্টা খাওয়াতে হবে।
প্রতিদিন একই সময়ে একই ধরনের খাদ্য সরবরাগ করতে হবে। খাদ্য ও খাদ্য প্রদানের সময় কোনটা পরিবর্তন করা যাবে না।
খাদ্য টাটকা ও ধুলো বালি মুক্ত হতে হবে।
খাদ্য সহজ পাচ্য হতে হবে।

প্রথমে ভুট্টার গুড়া করে নিতে হবে যা একটু মোটা হবে সুজির দানার মতো হলে ভালো হয়। পর্যাপ্ত পানিতে মিশিয়ে ভুট্টার গুড়া মাখা মাখা করতে হবে। এবার একটি কাপে বা গ্লাসে এক কাপ কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ চিটাগুড় বা মোলাসেস মিশিয়ে নিতে হবে। এর পর ১ চা চামচ বেকারি ইস্ট (স্যাকারোমাইসিস সেরাভেসিয়া) কাপের চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ঢেলে ভালো করে সব মিশিয়ে নিতে হবে।
এর পর ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ড্রাই ঈস্ট কাপের পানিতে লাইভ বা জিবিত হয়ে ফুলে উঠবে। এই কাপের পানিতে মিশানো ঈস্ট আগে থেকে মাখা মাখা করে মেশানো ভুট্টার গুড়ার সাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
এই ঈস্ট মেশান ভুট্টার গুড়া একটা বালতি বা পাত্রে বায়ুনিরোধী করে রেখে দিন মাত্র ৮-১০ ঘন্টার জন্য। ব্যাস তৈরী হয়ে গেল ঈস্ট ফার্মেন্টেটেড কর্ণ এখন এটা গরুর দানাদার ও খড় বা ঘাসের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র বা UMS
ইউরিয়া মোলাসেস স্ট্র বা UMS বানান খুবই সহজ পদ্ধতি। গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য সারা পৃথিবিতে এটি জনপ্রীয়। এটি তৈরী করতে তিন টি উপকরণ প্রয়োজন হয় খড়, চিটাগুর ও ইউরিরয়া। সাধারণ খরের পুষ্টিগুণ খুব কম থাকে তাই খড়ের গুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করতে আইএমএস তৈরি করে খাওয়ালে গরু দ্রুত মোটাতাজাকরণ হয় এবং খাদ্য খরচ অনেক কম পরে। ছোট ছোট করে কাটা ১০০ কেজি শুকনো খড়, ৫০ কেজি বিশুদ্ধ পানি, ২৫ কেজি চিটাগুড় ও ৩ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে এটি তৈরী করতে হয়।
ইউরিয়া মোলাসেস মিনারেল ব্লক বা UMMB
ইউরিয়া মোলাসেস মিনারেল ব্লক বা UMMB গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সহজ সমাধান। এই ব্লকে থাকে প্রোটিন ও ভিটামিন-মিনারেল যা গরুর মাংস বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে। এই গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য গরু চেটে চেটে খায় আর তাই গরুর ইউরিয়া টক্সিসিটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কমে যায়।

ইউরিয়া মোলাসেস মিনারেল ব্লক বা UMMB তৈরী করতে যেসকল উপকরণের প্রয়োজন হয় তাহলো- গমের ভুসি ৩ কেজি, ঝোলাগুড় বা চিটাগুড় ৬ কেজি, ইউরিয়া ৯০ গ্রাম, আয়োডিন যুক্ত লবণ ৩৫ গ্রাম, ৫০০ গ্রাম খাবার চুন, ভিটামিন মিনারেল মিক্সার এবং কাঠ বা লোহার ছাপ। প্রথমে চিটাগুড়ের সাথে ইউরিয়া, লবন, চুন, সিমেন্ট, ভিটামিন মিনারেল মিক্সার এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
এর পর এই মিশ্রণের সাথে গমের ভুসি ও অন্যান্য ইপকরণ মিশিয়ে একটি শক্ত কাঠ বা লোহার ছাচে ফেলে ব্লক তৈরী করা হয়। এই ব্লক রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়।
দানাদার খাদ্যে সরাসরি ইউরিয়া ব্যবহার
দানাদার খাদ্যে ইউরিয়া ব্যবহার করে খাদ্যের প্রোটিন মান বৃদ্ধি করা যায়। ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের গবাদিপশুর ইউরিয়া মিশ্রিত খাদ্য তালিকা, উপকরণ ও পরিমান-
ধানের শুকনো খড় = ২ কেজি
সবুজ ঘাস = ২ কেজি (ঘাস না থাকলে ৪ কেজি খড় ব্যবহার করতে হবে)
দানদার খাদ্য মিশ্রন = ১.২-২.৫ কেজি
ইউরিয়া = ৩৫ গ্রাম
চিটাগুড়া বা রাব বা লালি = ২০০-৪০০ গ্রাম
লবণ = ২৫ গ্রাম
দানাদার খাদ্যের সাথে লবন, ইউরিয়া, চিটাগুড়, ধানের খড়, কাঁচা ঘাস ছোট ছোট করে কেটে এক সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ বার এই গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য খাওয়াতে হবে।
মোটাতাজাকরণ গরুর আঁশযুক্ত খাদ্য
মোটাতাজাকরণ গরুকে তার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত রাফেজ বা আঁশযুক্ত খাদ্য অবশ্যই দিতে হবে। কিছু কিছু খামারি মনে করে খর, বিছালি বা কাচা ঘাস কম খাইয়ে দানাদার খাবার বেশি খাইয়ে গরুকে দ্রুত মোটাতাজাকরণ করা সম্ভব। কিন্তু আসলে তা সঠিক নয়। কখনো কখনো প্রচুর ঔষধ -পত্র প্রয়োগ করে হয়তো সম্ভব কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়ে।
গরুর চার প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট পাকস্থলী কে ইংরেজিতে রুমেন বলা হয়। আর এধরনের প্রাণীদের বলা হয় রুমিনান্ট। সকল রুমিনান্টস তথা গরুর রুমেন তৈরিই হয়েছে আঁশ বা রাফেজ জাতীয় খাদ্যের জন্য। গরু বা ছাগল পর্যাপ্ত আঁশ জাতীয় খাবার না খেলে রুমেনে হজমে সমস্যা হয়।
গরু মোটাতাজাকরণ খাদ্য -এ পর্যাপ্ত ফাইবার বা আঁশের অভাব থাকলে নিম্নোক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়।
পেটে এসিডিটি তৈরি হয়।
হজম ক্ষমতা কমে যায়।
খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়।
গরুর উৎপাদন কমে যায়।

গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ যে পাঁচটি ভুল করে থাকে। 1) বেশি খাবার দিলেই বেশি খাবে এবং তাড়াতাড়ি মোটাতাজা হব...
15/01/2025

গরু মোটাতাজাকরণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ যে পাঁচটি ভুল করে থাকে।

1) বেশি খাবার দিলেই বেশি খাবে এবং তাড়াতাড়ি মোটাতাজা হবে এটা ভেবে অতিরিক্ত খাবার দেয়, এটা ভুল।
এতে করে খাদ্যের অপচয় ও খাদ্যের খরচ বৃদ্ধি পায়।

2) কাঁচা ঘাস বা UMS না খাওয়ানো। এবং শুধু দানাদার খাদ্যের উপর নির্ভর করা।
কাঁচা ঘাস না থাকলেও সমস্যা নেই কিন্তু এর বিকল্প হিসেবে UMS তৈরি করে খাওয়াতে হবে।

3) খাবারের পরিবেশ আরামদায়ক না হওয়া।
অনেকে গরুর জন্য ডাইনিং টেবিলের মত খাবার চারি তৈরি করে কিন্তু এতে খাবার গ্রহণ ক্ষমতা কমে যায়।

4) বেশি খাবার খাবে এই আশায় রাতে খাবার দেয় অথচ রাতে কখনো খাবার দেওয়া উচিত নয়।
পশুকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে খাবার গ্রহণ ও সেই খাবার পরিপাক করার।

5) ভাত, জাউ এগুলো খাদ্য তালিকায় একেবাইরে রাখা যাবে না।
তবে Rice polish খাওয়ানো যেতে পারে এতে প্রচুর পরিমাণ ফ্যাট থাকে যা খুদের ভাতের থেকে আপনাকে ভালো রেজাল্ট দিবে।
ভাত, জাউ এর কারণে বিষক্রিয়া/ফুড পয়জনিং হতে পারে।

পোষ্টটি সবাই সবার প্রোফাইলে শেয়ার করে রেখে দিন যাতে নিজেদের কাজে লাগে এবং অন্যরা উপকৃত হয়!
গবাদি পশু পালন তথ্য ও পরামর্শ
#গবাদিপশুপালনতথ্যওপরামর্শ

শীতকালে গরুর ওজন বৃদ্ধিতে যে কৌশল অবলম্বন করবেন♦️-----------------------------------------------------------♦️শীতে মাংস ...
03/01/2025

শীতকালে গরুর ওজন বৃদ্ধিতে যে কৌশল অবলম্বন করবেন
♦️-----------------------------------------------------------♦️
শীতে মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা গরুগুলোর দৈনিক গড় দৈহিক ওজন বৃদ্ধি মোটামুটি স্বাভাবিক রাখার জন্য কি করণীয় সেই প্রসংগে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো এই পোস্টে।
শীতে সাধারণত গরুর দৈহিক ওজন খুব একটা বাড়ে না বছরের অন্যান্য সময়ের মতো! গবাদিপশু পালন ও কৃষি । এর কারণ হচ্ছে গরু তার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে তার শরীরে উৎপাদিত শক্তির অনেকটাই এর পেছনে ব্যায় করে ফেলে! ফলস্বরূপ, তার দৈহিক বৃদ্ধি, হজম প্রক্রিয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক ভাবে সম্পন্ন করার জন্য যতটুকু শক্তির প্রয়োজন হয় তা যথাযথ ভাবে সরবরাহ করতে পারে না যদি না খামারী তাকে যথাযথ পুষ্টি সম্বৃদ্ধ খাদ্য ও ভিটামিন গরুকে সরবরাহ করতে না পারে। এই সমস্যা নিরসনে খামারী যা করতে পারেন তার কয়েকটা নিচে উল্লেখ করছি।
★ খামারীকে শীতে অবশ্যই উচ্চ প্রোটিন যুক্ত এবং উচ্চ শক্তি উৎপন্ন হয় এমন খাদ্য গরুকে সরবরাহ করতে হবে।gp&k
★ গরুকে হে বা খড় জাতীয় ফাইবার অথবা উচ্চমানের সাইলেজ সরবরাহ করতে হয় মাংস উৎপাদনের গরু গুলিকে অন্যান্য সময়ের চাইতে । এই অতিরিক্ত পরিমাণে সরবরাহ করা খড় বা হে জাতীয় খাদ্যগুলিকে যথাযথ ভাবে হজম করানোর জন্যই উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাদ্য গরুকে দিতে হয় শীতকালে! মনে রাখতে হবে যে শীতকালে গরুকে সরবরাহ করা ফাইবার বা ফোরেজে ১৪% প্রোটিন থাকলে গরুর শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি উৎপাদিত হবে যা থেকে গরু তার শরীরের তাপ উৎপাদনের জন্য শক্তি খরচ করলেও দৈহিক বৃদ্ধির উপর আর বিরূপ প্রভাব পরবে না তেমন।

★ যেহেতু শীতে কাঁচা ঘাসের সরবরাহ কম থাকে তাই অতিরিক্ত ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্টারী গরুর খাদ্যে সরবরাহ করা হয় শীতের সময়টুকুতে। এতে গরুর শরীরে শক্তি উৎপাদনের মাত্রা ঠিক থাকে।

★ আরেকটা ব্যাপার যেটির দিকে দৃষ্টি দিলে গরুর শরীরে তাপ উৎপাদনের জন্য গরুর শরীরে সঞ্চিত শক্তির খরচ তেমন একটা হবে না! সেটা হলো গরুর জন্য শীতকালে গরুর শেডের অভ্যন্তরে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ পরিবেশ তৈরী করা! সেইক্ষেত্রে গরুর শেডে তাপ উৎপাদক যন্ত্র ব্যাবহার করা বা হিটার অথবা শেডে যাতে ঠান্ডা হাওয়া প্রবেশ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখা, গরুর বসার জায়গাটি যাতে ঠান্ডা না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখা,গরুর গায়ে থার্মাল কোট বা চটের কোট পরিয়ে রাখা ইত্যাদি।ধন্যবাদ সবাইকে

বাছুর জন্মের পর প্রতিদিন কয় কেজি দুধ খাওয়াতে হবে এটা অনেকেই জানেনাদেখে নিন শেয়ার করে অন্যজনকে দেখার সুযোগ করে দিন ধন্...
02/01/2025

বাছুর জন্মের পর প্রতিদিন কয় কেজি দুধ খাওয়াতে হবে এটা অনেকেই জানেনা
দেখে নিন শেয়ার করে অন্যজনকে দেখার সুযোগ করে দিন ধন্যবাদ সবাইকে

1ম সপ্তাহ > মোট 2 লিটার

2য় সপ্তাহ > 3 লিটার

3য়-12 সপ্তাহ > 4 লিটার

13-16 সপ্তাহ > 3 লিটার

17-20 সপ্তাহ > 2 লিটার

দুধ ছাড়া পর্যন্ত > 1 লিটার

আঁশ ও দানাদার জাতীয় খাদ্যঃ

বাছুর জন্মের 1 মাস পর থেকেই অল্প অল্প করে কাঁচা ঘাস ও দানাদার খাদ্যে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। বাছুরের বয়স 2 মাস হতে পরিমিত সহজপাচ্য আঁশ জাতীয় খাদ্য এবং দৈনিক 250-500 গ্রাম দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হবে।

বাছুরের বয়স অনুযায়ী দানাদার খাদ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে 4 মাস বয়সে দৈনিক প্রায় 750 গ্রাম, 6 থেকে 9 মাস বয়স পর্যন্ত 1 কেজি এবং 1 বছর বয়সে দৈনিক 1.5 কেজি দানাদার খাদ্য দিতে হবে। অনুরূপভাবে কাঁচা ঘাসের পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে হবে। এ সময় বাছুরকে দৈনিক 6-8 কেজি কাঁচা ঘাস দিতে হবে!

খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপনাখাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপণার শুরুতেই বলে নেওয়া প্রয়োজন যে, এর...
02/01/2025

খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপনা

খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপণার শুরুতেই বলে নেওয়া প্রয়োজন যে, এর খাবার ব্যবস্থাপনা কম বেশি নির্ভর করবে তার বর্তমান স্বাস্থ্যের উপর, আশেপাশে যেসকল খাদ্য উপকরন পাওয়া যায় তার উপর ভিত্তি করে এবং খাসির জাতের উপর। খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি ও ব্যবস্থাপণা সম্পর্কে এই লেখাটি কোন থিওরিটিক্যাল লেখা নই। প্রয়োগ করে সুফল পেয়েছি তার উপর ভিত্তি করে লিখছি।
প্রথমেই বাচ্চা জন্মানোর পর থেকে খাসি বিক্রয় করা পর্যন্ত কোন কোন বয়সে কতটুকু খাবার প্রয়োজন তার একটা ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। তারপর জানাব দানাদার খাদ্য তৈরির ফরমুলা।

খাসি ছাগলের বাচ্চার খাদ্য ব্যবস্থাপণা

খাসি জন্মলাভের পর থেকে পরববর্তী তিন মাস পর্যন্ত খাদ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক ও গুরুত্বের সাথে করা উচিত। কেননা এই সময় থেকেই খাসি কে সঠিক খাদ্যাভাসে আনতে হবে।

১ থেকে ৩ দিন মায়ের শাল দুধ দিতে হবে পরিমান ৩৫০ মিলি দিনে ৩ বার

৪ দিন থেকে ১৪ দিন মায়ের দুধ অথবা মিল্ক রিপ্লেসার ৩৫০মিলি দিনে ৩ বার

১৫ থেকে ৩০ দিন সমপরিমান দুধের সাথে ক্রিপ ফিড এবং গাছের পাতা ( কাটার একদিন পর যাতে একটু শুকনা হয় ) সামান্য পরিমান

৩১ দিন থেকে ৬০ দিন ৪০০ মিলি দুধ ২ বার সাথে ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম ক্রিপ ফিড সাথে পর্যাপ্ত একদিনের শুকনা ঘাস ৫০% ও পাতা ৫০%

৬১ থেকে ৯০ দিন ২০০ মিলি দুধ ২ বার সাথে ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ক্রিপ ফিড সাথে পর্যাপ্ত একদিনের শুকনা ঘাস ৫০% ও পাতা ৫০%

বাচ্চা ছাগলের ক্রিপ ফিড তৈরির ফরমুলেশন

ভুট্টা ভাঙা -৩০%

গমের ভুষি -২০%

সয়াবিন খৈল -৪০%

চিটাগুড় -৪%

লবন -১%

চুনাপাথর -৩%

চিলেটেড মিনারেল মিক্স -২%

খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা

খাসি ছাগলের খাদ্য তালিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী খাদ্য তৈরি করতে হবে। এরপর ৯০ দিনের পর থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম দানাদার (নির্ভর করে সাইজও জাতের উপর)। সাথে ঘাস ৫০% এবং লিগুম বা পাতা ৫০% পর্যাপ্ত পরিমান ( ঘাস ও লিগুম এ প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে যা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস অনুপাত ঠিক রাখবে )

খাসি ছাগলের খাদ্য তৈরির ফরমুলেশন

ভুট্টা ভাঙা ৪৭%

সয়াবিন খৈল ৩০%

চিটা গুড় ৭%

গমের ভুষি ১০%

লবন ১%

চুনাপাথর ৩%

চিলেটেড মিনারেল মিক্স ২%

এটি একটি নমুনা মাত্র। আপনারা চাইলে এভাবে নানান ধরনের খাদ্য উপাদান মিশিয়েও দানাদার খাদ্য তৈরি করতে পারেন। তবে খাবারের গুণগত মানের দিকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে।gp&k

খাসি ছাগলের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ

খাসি ছাগলের খাদ্য তৈরি তে নিম্নোক্ত পুষ্টিগুণ যাতে বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

প্রোটিন- ১৬-১৮%

ফ্যাট- ৪-৫%

ফাইবার- ৫%

মেটাবলিক এনারর্জি- ২৮০০-৩০০০ কিলো-ক্যালোরি/কেজি ।
©

ছাগলের আদর্শ সুষম দানাদার খাদ্য তালিকাঃ♦️---------------------------------------------------♦️ছাগলের জন্য 100 কেজি আদর্শ...
29/12/2024

ছাগলের আদর্শ সুষম দানাদার খাদ্য তালিকাঃ
♦️---------------------------------------------------♦️

ছাগলের জন্য 100 কেজি আদর্শ সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির রেশন ফর্মূলেশন করব ইনশাআল্লাহ্।

খাদ্য উপাদানের নাম ও পরিমাণঃ

1) গমের ভুষি 42 কেজি
2) ভুট্টা ভাঙ্গা 35 কেজি
3) সয়াবিন মিল 10 কেজি
4) সরিষা/তিলের খৈল 10 কেজি
5) ডিসিপি 1 কেজি
6) ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স 1 কেজি
7) খাবার লবন 1 কেজি

মোট পরিমাণঃ 100 কেজি।

উপরোক্ত উপাদানের সমন্বয়ে খাদ্য তৈরি করলে এর পুষ্টিমান হবে নিম্নরূপঃ

প্রোটিনঃ 18.59% বিপাকীয় শক্তিঃ 2556 কিলো ক্যালরী। এবং উল্লেক্ষিত খাদ্য আপনার ছাগলকে খাওয়ালে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মোটাতাজা হবে ইনশাআল্লাহ্!!
শেয়ার করে রেখে দিন অনেকের উপকারে আসবে।

©

গরুর খামার ঘর (সেড) তৈরিঃ এমন করেই যে দিতে হবে তা কোন কথা নয় কিন্তু এমন করে দিলে ভালো হয় (বিস্তারিত বর্ণনা)গরুর খামারে ম...
29/12/2024

গরুর খামার ঘর (সেড) তৈরিঃ এমন করেই যে দিতে হবে তা কোন কথা নয় কিন্তু এমন করে দিলে ভালো হয়
(বিস্তারিত বর্ণনা)

গরুর খামারে মুনাফার ৪টি শর্তের একটি হল গরুর জন্য আরামদায়ক ঘরের ব্যবস্থা করা।

গরুর খামার ঘর তৈরি করতে জানা অর্থ কিভাবে আপনি নিজের নির্দিষ্ট টাকা ও জায়গা দিয়ে গরুর জন্য সর্বোচ্চ আরামদায়ক সেডের ব্যবস্থা করবেন। এর জন্য আপনাকে গরুর ঘরের বিভিন্ন অংশের মাপ এবং এই মাপগুলো কম-বেশি করলে কি সুবিধা-অসুবিধা তা জানতে হবে।

গরুর ঘর তৈরির নিয়ম
প্রথমে আমরা ঠিক করব খামারে দুই সারিতে নাকি এক সারিতে গরু পালব। দুই সারির নিয়ম বুঝলে এক সারি সহজেই বোঝা যাবে। দুই সারি করে হিসাব করলে ১০ টি গরুর জন্য প্রতি সারিতে ৫ টি করে গরু থাকে। আর মাঝে হাটার জন্য একটি রাস্তা। সুতরাং এক সারি গরু ও মাঝের রাস্তার জায়গার হিসাব করলেই ঘরের জায়গার হিসাব বেড়িয়ে যাবে ইংশাল্লাহ।

গরুর খামার তৈরির নকশা
প্রথমে ঘরের চওরা। একটি গরুর জন্য মাথা থেকে পেছন পর্যন্ত ৬ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত জায়গা দিতে হবে। আমরা ধরে নিলাম এটি ৭ ফুট(জায়গা বেশি থাকলে ৮ ফুট করা ভাল) । গরুর সামনে খাবার পাত্রের জন্য ২.৫ ফুট জায়গা আর পেছনে ড্রেনের জন্য 0.৫ ফুট জায়গা রাখা হল।
সুতরাং এক সারি গরুর জন্য টোটাল ৭ + ২.৫ + 0.৫ = ১০ ফুট জায়গা দরকার। এবং দুই সারির জন্যে চওরায় ২০ ফুট।

গরুর খামার তৈরির নকশা
মাঝের রাস্তা মিনিমাম ৪ থেকে ১০ ফুট রাখতে হয়। আমরা এখানে ৪ ফুট ধরলাম। সুতরাং ঘরের চওড়া টোটাল ২০ + ৪ = ২৪ ফুট।

একটি গরুর জন্য তার সামনে ৪ ফুট( জায়গা বেশি থাকলে সাড়ে ৪ ফুট) জায়গা দিতে হবে, অর্থাৎ গরু থেকে গরুর দুরত্ব হবে ৪ ফুট। তাহলে ৫ টি গরুর জন্য ২০ ফুট। সাথে গেটের জন্য ৪ ফুট লাগবে।
সুতরাং মোট লম্বা ২৪ ফুট, গেট মাঝ রাস্তা দিয়ে হলে ২০ ফুট।

আমাদের দেশের শেডের উচ্চতা নরমালি ১০/১৩ বা ১২ / ১৫ ফিট বা ১২ / ১৪ ইত্যাদি হয়ে থাকে। শেড যত উচু হবে তত ভালো। আধুনিক বড় খামারগুলোতে ৪০-৫০ ফিট শেড উচু করতে হয়।

হেড টু হেড / টেল টু টেল
হেড টু হেডঅর্থ হল গরু গুলো ভেতরে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে গোবর বাইরে পড়বে।
টেল টু টেল অর্থ গরুগুলো পরস্পরের বিপরীতে দাঁড়াবে, গোবর ভেতরে পড়বে।

দুটো সিস্টেমেরই সুবিধা – অসুবিধা আছে। নিচে তুলে ধরা হল-

হেড টু হেডের সুবিধাঃ
১। খাবার দিতে সুবিধাঃ হেড টু হেডের ক্ষেত্রে গরুগুলো মুখোমুখি দাড়াবার কারনে দ্রুত ও ভালোভাবে খাবার দেওয়া যায়।
২। গ্যাসের সমস্যা কমঃ গোবর – প্রসাব বাইরের দিকে পড়ার কারনে ভেতরে গ্যাসের সমস্যা কম হয়।
৩। গরুর গুতোর বিপদ নেইঃ গরু গুলো খাবার পাত্রের অপর পাশে থাকার কারনে গুতো খাবার বিপদ কম।
৪। ছেড়ে গরু পালনের জন্য সুবিধাঃ গরুর পেছনে খালি মাঠ বা জায়গা থাকে। ফলে এক্ষেত্রে হেড টু হেড সিস্টেম একমাত্র উপায়।

টেল টু টেলের সুবিধাঃ
১। পর্যাপ্ত আলো বাতাসঃ গরুর মুখ বাহিরের দিকে থাকার কারনে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায়।
২। দ্রুত গোবর-মূত্র পরিস্কার করা যায়ঃ দুই সারির গোবর এক দিকে পরার কারনে সহজে ও দ্রুত পরিস্কার করা যায়।
৩। দুধ দোয়ানোতে সুবিধাঃ ভেতরের দিকে থাকার কারনে দুই সারি গাভি থেকে সহজে দুধ নেওয়া যায়।
৪। শ্বাসজনিত রোগ সহ অন্যান্য রোগ ছড়াবার সম্ভাবনা কমঃ প্রায় সব রোগ মুখের শ্বাস, লালা, নাকের মিউকাস ইত্যাদি দিয়ে ছড়ায়। গরুগুলো একে অপরের বিপরীত দিকে থাকার কারনে এটির সম্ভাবনা কম।
৫। একটি ড্রেনই যথেস্টঃ পাশে একটু বেশি জায়গা দিয়ে মাঝে একটি ড্রেন দিয়েই সমস্ত ময়লা দূর করা যায়।
৬। গোসলে সুবিধাঃ দ্রুত ও সহজে গোসল দেওয়া যায়।

এবার আলোচনা করা যাক কোনটি ভালো। দেখা যাচ্ছে টেল টু টেলের সুবিধা অনেক বেশি। কিন্তু হেড টু হেডের সুবিধাগুলো কি আসলেই সুবিধা কিনা, কিংবা সেগুলোর গুরুত্ব কতটুকু সেটা একটু দেখা যাক।

প্রথমত, খাবার দেবার সুবিধার কথা যদি ভাবা হয় তাহলে অন্য দিকে গোবর পরিস্কার, গোসল, দুধ দোয়ানো সহ অনেক কাজে অসুবিধা বেশি। কাজেই এ পয়েন্টটি টিকছে না। দ্বিতীয়ত, গোবরের গ্যাসের কথা ভাবতে গিয়ে গরু যদি আলো বাতাস কম পায় তাহলে সেটা তেমন কাজে দিবে না।
এদিকে গাভির ক্ষেত্রে গুতোর তেমন সম্ভাবনা নেই। ফ্যাটেনিং এর ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ন। তবে টেল টু টেলে যদি খাবার বাইরে থেকে দেওয়া যায় তাহলে এ সমস্যাটা থাকছে না।
তবে ছেড়ে গরু পালার ক্ষেত্রে হেড টু হেডের বিকল্প নেই। আমাদের দেশে এখন অনেক আধুনিক খামার গড়ে উঠছে যেগুলোতে গরু ছেড়ে পালার সিস্টেম থাকে। এসব ক্ষেত্রে হেড টু হেড সবচেয়ে ভালো। অন্যথায় টেল টু টেল সিস্টেম হেড টু হেডের চেয়ে অনেক গুনে ভালো।

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে শেড বানাবার সময় বেশিরভাগ খামারি নিজের সুবিধার কথা ভাবে, গরুর সুবিধা না (অবশ্য বর্তমানে অনেক শিক্ষিত খামারির সংখ্যা বাড়ছে) । হেড টু হেড হলে সে সহজেই খাবার পানি দিতে পারবে। অথচ খামারে লাভ করার সূত্রের ৪ নাম্বার শর্ত ছিল গরুকে আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়া।

তবে অনেক খামারির পক্ষে আসলে হেড টু হেড ছাড়া উপায় থাকে না। আলাদা ঘর না থাকার কারনে চোরের উপদ্রপের ভয়ে বাহিরের দেয়াল উচা বা টিন দিয়ে ঘেরাও করে ফেলতে হয়। ফলে গরুকে হেড টূ হেড রাখতে হয়। আবার জায়গার স্বল্পতার কারনে অনেকের বাহিরে গিয়ে খাবার দেবার উপায় থাকে না।
কিন্তু একটু বুদ্ধি করে টিনের মাঝে জানালার মত করে ফাকা করে রাখলে বাহির থেকে খাবার দেওয়া যায়। আবার রাতে বন্ধ করে রাখা যায়। কিন্তু ওই যে বললাম, বেশিরভাগ খামারি এই কস্ট টুকু করতে চায় না।

ঘরের মেঝে কেমন হবে
উদ্দেশ্য হল যাতে সহজের পরিস্কার করা যায় এবং গরুর জন্য কোন সমস্যার না হয়।
ফ্লোর বা মেঝে দুই ভাবে বানানো যায় –
১। ইট দিয়ে সলিং
২। ঢালাই

১। ইট দিয়ে সলিংঃ বালু দিয়ে তার উপর ইটের সলিং পেতে সিমেন্ট বালুর মশলা তৈরি করে দুইটি ইটের সংযোগ স্থলে মশলা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।
এটি খুব ভালো ভাবে করতে হবে। অন্যথায় কদিন পর পর ইট উঠানোর ঝামেলা আছে। এমনকি এখন না হলেও ৪/৫ বছর পর ইট উঠে যায় এবং উচু নিচু হয়ে যায়। ফাকা জায়গা দিয়ে গরুর প্রসাব ও গাসলের পানি কাদা তৈরি হয়।

২। ঢালাইঃ সিমেন্ট মশলা দিয়ে একেবারে ঢালাই দেওয়া হয়। ভালভাবে না দিলে এখানেও কদিন পর পর ঢালাই উঠে যায়।
ঢালাইতে পিছলে গরু পরে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাবধান থাকতে হবে।

খামারে ঘরের মেঝে ঢালু দিতে হবে যাতে গোবর ময়লা সহজেই ড্রেনে চলে যায়। মাঝের রাস্তার স্লোপ বা ঢালু মাঝখান থেকে দুই দিকে যাবে। এতে পানি দু দিকে চলে যাবে। মেঝের ঢাল সামনে থেকে ড্রেনের দিকে গাভীর ক্ষেত্রে প্রতি ফিট এর জন্য ০.২৫ ইঞ্চি এবং ষাড় গরুর জন্য ০.৫০ ইঞ্চি করে দিতে হবে। ফলে ৮ ইঞ্চির জন্য গাভির ক্ষেত্রে ২-৩ ইঞ্চি এবং ষাড় গরুর ক্ষেত্রে ৪-৫ ইঞ্চি ঢাল দিতে হবে।
গাভির চেয়ে ষাড় গরুতে ঢাল বেশি দেবার যুক্তি হিসেবে বলা হয় যে পেছনে বেশি ঢালু থাকলে পেছনে মাংস তারাতারি বাড়ে। কিন্তু এটি সাইন্টিফিক কিনা জানি না।

গরুর খাবার ও পানির হাউস ( চারি )
অনেকে ভাবেন খাবার হাউস যত উচু হবে তত ভালো, গরু সহজে খেতে পারবে। ব্যাপারটাকে তারা অনেকটা ডাইনিং টেবিলের মত বানিয়ে ফেলেছেন। মানুষের যেমন ডাইনিং টেবিলে খেতে সুবিধা হয়, গরুর ক্ষেত্রেও তেমনটা ভাবা হচ্ছে।

কেন ডাইনিং টেবিল নয় ?

গরু স্বাভাবিক ভাবে মাঠে নিচে থেকে ঘাস খায়। এটাই তার স্বভাব। তাই খাবার জায়গা উচা করে দেওয়া অর্থ তার স্বভাবের বিরুদ্ধে কাজ করা।
এছাড়া মুখ নিচের দিকে থাকার কারনে মুখ দিয়ে যথেস্ট লালা আসে যা খাবারের হজমে সহায়ক। অথচ খাবার স্থান উচা করে দিলে যথেস্ট পরিমান লালা আসে না।
আলাদা খাবার ও পানির পাত্র করতে ব্যাপক পরিমান খরচ হয়, অথচ এই খরচের কোন প্রয়োজন ছিল না।

তাই গরুর সামনে সামান্য উচু দেওয়াল করে লোহার পাইপ বা বাশ টেনে দিতে হবে (নিচের ছবির মত)। এর সামনে ফ্লোরেই খাবার রাখতে হবে। পানি আলাদা একটি পাত্র বা কাটা ড্রামে দেওয়া যেতে পারে কিংবা জায়গা থাকলে পানির জন্য আলাদা লাইন করতে হবে।

কিন্তু কিছু পুরোনো গরুর খামার ভিসিট করলে অনেকের মনে নিচের প্রশ্নগুলো আসবে ?

পুরোনো খামারে তো খাবার হাউজ উচু করে দেওয়া আছে। তাদের তো লস হচ্ছে না।
পাত্র উচু করে দেওয়ার জন্য গরু খাচ্ছে না বা অসুস্থ হয়েছে এমন তো কোন প্রমান নেই।
এভাবে ফ্লোরে খাবার দিলে খাবার নস্ট হয়।
হ্যা, পুরোনো পদ্ধতিতে খাবার দিলে আপনার লস হবে তা নয়, কারন গরু তো এর জন্য খাওয়া বন্ধ রাখবে না। তবে

এটি গরুর জন্য আরামদায়ক বা স্বাভাবিক হবে না।
হাউজ উচু করতে অতিরিক্ত খরচ হবে।
প্রযুক্তি সর্বদাই পরিবর্তন হয়। টিকে থাকে তারাই যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
আর ফ্লোরে খাবার নস্ট দূর করার জন্য উপরের ব্যাপারটিকে ঠিক রেখেই আমরা একটি ব্যবস্থা নিতে পারি। সেটা হল খাবারের হাউস বানানো হবে কিন্ত তার গভীরতা হবে একেবারে ফ্লোরের কাছাকাছি, উচ্চতা গরুর সামনে ১২ ইঞ্চি এবং বাইরের দিকে ১৮ ইঞ্চি।

প্রাচীর থেকে নালা দিকে খাবার ও পানির হাউজের জন্য ২.৫ ফিট। প্রতি গরুর জন্য সামনে ৪ ফিট। সুতরাং দুই গরু তে ৮ ফিট। তাহলে মাঝে একটা ২ ফিট পানির হাউজ বানিয়ে বাকি ৬ ফিট অর্থাৎ ৩ ফিট করে প্রতি গরুতে একটা খাবার হাউজ হবে। পানির হাউজ একত্রে বানাবার কারনে জায়গা কম লাগবে, ওদিকে খাবার হাউজে বেশি জায়গা দেওয়া যাবে। এছাড়া আলাদা ভাবে বানালে ৪ ফিটের মধ্যে খাবার হাউজে ২.৫ ফিট এবং পানির হাউজে ১.৫ ফিট করে নিতে হবে। আলাদা রাখার সুবিধা হল এক গরুর রোগ হলে পাশের গরু সহজে সেই রোগে আক্রান্ত হবে না। এছাড়া বোঝা যাবে কোন গরুটি কেমন পানি খাচ্ছে।

ঘরের চাল কেমন হবে ?
কয়েক ধরনের আছে। যেমন –

১। ঢালাইঃ খরচ বেশি, কিন্তু গরমে তাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। গরুর প্রধান সমস্যা হয় গরমে, শীতে না।
২। টিনের চালঃ খরচ কম, কিন্তু গরম বেশি কিন্তু শীতে ঘর অনেক ঠান্ডা থাকে। এক্ষেত্রে গরম কমাতে চালের নিচে ইন্সুলেসন দেওয়া যেতে পারে।
৩। প্লাস্টিকের চাল = মরিচা ধরে না, রোদের তাপে গরম হয় না, দিনের বেলা আলো পৌছায়।

শেডের চারপাসে ওয়াল কিভাবে দিতে হবে ?
ওয়াল ২.৫ ফুট সবচেয়ে ভালো। তবে চোরের ভয় থাকলে ৩ ফুট পর্যন্ত করে এর উপরে জানালাসহ টিন দেওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় নেট দিয়ে ঘিরে দিলে। অনেকে ভাবেন শীতে ঠান্ডা লাগবে। কিন্তু আমাদের দেশে গরুর জন্য শীত নয়, প্রধান সমস্যা হয় গরমে।

গরুগুলোকে কি পাইপ /বাশ দিয়ে আলাদা করে দিতে হবে ?
সেডে গরুগুলোকে পাইপ বা বাশ দিয়ে আলাদা করে দিলে এক গরু অন্য গরুর দিকে পায়খানা করতে পারবে না, পেছনের দিকে করবে, ফলে পরিস্কারের সময় সুবিধা হবে। কিন্তু পায়খানা করবে সে গরু বসলে সেটির অপর বসবে, আর গাভি হলে টিট দিয়ে জীবাণু ঢুকে যাবে।

ড্রেনের মাপ কেমন হবে ?
প্রসাব ও গোবর যাবার ড্রেনের জন্য – ড্রেন ০.৫ থেকে ১.৫ ফিট লম্বা এবং ১ থেকে ২.৫ ফিট গভীর হতে হবে। তবে ড্রেনের ওপর খোলা থাকলে গভীরতা যাতে বেশি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। গরুর পা পড়ে এক্সিডেন্ট হবার সম্ভাবন রয়েছে।

শেড কি পূর্ব পশ্চিম নাকি উত্তর দক্ষিন ?
পূর্ব – পশ্চিমে শেড করার ব্যাপারটি পোল্ট্রিতে যত গুরুত্বপূর্ণ, গরুর খামারের ক্ষেত্রে তত নয়। কারন পোল্ট্রিতে এমোনিয়া গ্যাস জমলে অনেক রোগের সৃষ্টি হয়ে মুরগি মারা যায়, যেমন, ঠান্ডা বিশেষ করে মাইকোপ্লাসমা দ্বারা এবং পরবর্তীতে ঠান্ডার কারনে আরো অনেক রোগের আগমন। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে প্রোডাকসনে প্রবলেম নিয়ে আসে তা নয়। তবে চেস্টা করতে হবে পূর্ব পশ্চিমে করার।

শীতকালে আমাদের দেশে বায়ু সাধারণত উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে ভূ-পৃষ্ঠের প্রচন্ড উত্তাপে ভারতের পশ্চিম-কেন্দ্রভাগ জুড়ে একটি নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে বঙ্গোপসাগর থেকে একটি উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুস্রোত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উল্লিখিত নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়। কাজেই সেড পূর্ব পশ্চিম বরাবর লম্বা করলে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারবে।

আরো একটি সুবিধা হল যে সূর্যের আলো তখন গরুর পেছনে অর্থাৎ প্রসাব ও গোবরের ওপর পরে, ফলে ন্যাচারালি কিছুটা জীবানুমুক্ত হয়। কিন্তু সেড উত্তর দক্ষিনে লম্বা করলে সূর্যের আলো সরাসরি গরুর মুখে পড়বে।

শেয়ার করে অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন ধন্যবাদ 🐄

Address

29 Mohakhali C/A
Dhaka
1212

Telephone

+8809611041116

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M.A. Agrovet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to M.A. Agrovet:

Share

Category