23/07/2026
বর্ষাকালে এক্সোটিক পাখির স্বাস্থ্য সুরক্ষা: যেসব ব্যাকটেরিয়াল রোগে সতর্ক থাকবেন
বর্ষাকাল প্রকৃতির জন্য যেমন স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসে, তেমনি এক্সোটিক পাখি পালনকারীদের জন্য এটি একটি সংবেদনশীল সময়। অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ভেজা পরিবেশ, অপর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং খাঁচার ট্রের স্যাঁতসেঁতে অবস্থা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়। ফলে এ সময়ে পাখি বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
নিচে বর্ষাকালে বেশি দেখা যায় এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়াল রোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
১. শ্বাসতন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (Respiratory Infection)
বর্ষাকালে ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশ, অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল থাকলে এ কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বেড়ে যায়।
লক্ষণ:ঘন ঘন হাঁচি,নাক দিয়ে পানি,শ্বাস নিতে কষ্ট,শ্বাসের সময় শব্দ হওয়া,লেজ উঠা নামা,চোখ ফুলে যাওয়া।
২. সিটাকোসিস (Psittacosis / Avian Chlamydiosis)
Chlamydia psittaci নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে এ রোগ হয়। আক্রান্ত পাখির মল, পালক ও শ্বাসনালীর নির্গত তরল থেকে এটি এক পাখি থেকে অন্য পাখিতে ছড়াতে পারে। বর্ষাকালের আর্দ্র পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
লক্ষণ:সবুজ রঙের পাতলা পায়খানা,চোখ ও নাক দিয়ে পানি,শ্বাসকষ্ট,দুর্বলতা,বডি শুকিয়ে আসা বা ওজন কমে যাওয়া
৩. মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণ (Mycoplasmosis)
বর্ষাকালে স্ট্রেস, একই জায়গায় অনেক পাখি এবং আর্দ্র পরিবেশের কারণে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
লক্ষণ:হাঁচি,চোখ ফুলে যাওয়া,নাক দিয়ে তরল নির্গমন,শ্বাসকষ্ট,বাচ্চা পাখিতে স্বাভাবিক গ্রোথ কমে যাওয়া।
৪. ব্যাকটেরিয়াল এন্টারাইটিস (Bacterial Enteritis)
দূষিত পানি,খাবার ভিজে যাওয়া, স্টিমড বা বয়েলড বা সেদ্ধ সফটফুড লম্বা সময় কেইজে রাখা এবং অপরিষ্কার খাঁচা এ রোগের প্রধান কারণ। বর্ষাকালে এসব সমস্যা বেশি হওয়ায় সংক্রমণও বৃদ্ধি পায়।
লক্ষণ:পাতলা বা পানিযুক্ত পায়খানা,ক্ষুধামন্দা,দুর্বলতা,দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা শুকিয়ে আসা।
৫. ই. কোলাই সংক্রমণ (Colibacillosis)
অপরিষ্কার পরিবেশ ও দূষিত পানির মাধ্যমে E. coli সংক্রমণ ছড়ায়। বর্ষাকালের আর্দ্রতা এ ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
লক্ষণ:ডায়রিয়া,পালক ফুলিয়ে বসে থাকা,ক্ষুধা কমে যাওয়া,শ্বাসকষ্ট,গুরুতর ক্ষেত্রে হঠাৎ মৃত্যু
৬. স্ট্যাফাইলোকক্কাস ও স্ট্রেপ্টোকক্কাস সংক্রমণ
খাঁচার ময়লা, ভেজা পার্চ বা পায়ে ছোট ক্ষতের মাধ্যমে এ ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
লক্ষণ:পায়ে ফোলা,ক্ষত বা পুঁজ,খুঁড়িয়ে হাঁটা,দুর্বলতা
একজন এক্সোটিক বার্ডস প্যারেন্টস হিসেবে সুত্র মুখস্ত রাখতে হবে,প্রতিরোধই সর্বোত্তম ব্যবস্থা।
বর্ষাকালে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১.খাঁচা সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন।
২.প্রতিদিন পরিষ্কার ও নিরাপদ পানীয় পানি দিন।
৩.ভেজা বা নষ্ট খাবার খাঁচায় রাখবেন না।
৪.নতুন পাখি অন্তত ৩০ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখুন।
৫.খাঁচায় পর্যাপ্ত আলো ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন।
৬.অতিরিক্ত গাদাগাদি করে পাখি রাখা এড়িয়ে চলুন।
৭.সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসুস্থ পাখিকে দ্রুত আলাদা করুন।
চিকিৎসা:
উপরোক্ত লক্ষনগুলো প্রকাশ হলেই অবশ্যই একজন এভিয়ান প্রাক্টিশনার ভেট এর সাথে দ্রুত বিস্তারিত লক্ষন জানিয়ে পরামর্শ গ্রহন করুন।
এক্ষেত্রে আমার পছন্দের তালিকায় সর্বপ্রথম ভেট সালাহউদ্দিন শাকিল ভাই।(যোগাযোগ-01711191485)।
তিনি আজীবনই পাখির ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে আসছেন তবে পারসোনাল জীবনে ব্যস্ত একজন ব্যক্তি হওয়ায় তাকে ফোনে সহজে পাওয়া কঠিন অতএব ভদ্রতা বজায় রেখে ধৈর্য নিয়ে কল ট্রাই করলে অবশ্যই ভাইকে পাওয়া সম্ভব।
তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত ভাবে উপরোক্ত লক্ষনগুলোর সমস্যা দেখা দিলে ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহার করি।এটি একটি ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক।এটি ব্যাকটেরিয়ার 30S Ribosomal Subunit-এ যুক্ত হয়ে প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করতে পারে না (Bacteriostatic effect) এবং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে সংক্রমণ দূর করে।তবে,যেকোনো এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে, অপর্যাপ্ত ডোজ,ভুল মিশ্রন,ভুল প্রয়োজন,অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার আপনার পাখিকে সেই এন্টিবায়োটিক এর প্রতি রেজিস্ট্যান্স করে দিবে।
মেডিসিন ব্র্যান্ড নেইম:
সবচেয়ে ভালো ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড পাখিদের জন্য বাজারজাত করে আসছে ভেটাফারম।
যা ট্রিপল সি(Triple C) নামে পাওয়া যায়।এতে ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড ১০% পাউডার রুপে থাকে যেটা পানির সাথে প্যারোট বা প্যারাকিট টাইপ পাখিকে ৫গ্রাম/লিটার অনুপাতে এবং ফিঞ্চ জাতীয় পাখিকে ২.৫গ্রাম/লিটার দেয়া যাবে।
সিট্টাকোসিস প্রতিরোধে অনেক এক্সোটিক ব্রিডার বিশেষ করে ইংলিশ বাজেরিগার এর ক্ষেত্রে অফ সিজনে ৫গ্রাম/কেজি ড্রাই এগফুডে মিক্স করে ৪৫ দিন ব্যবহার করে থাকেন বছরে একবার।
হ্যান্ডফিডিং এ থাকা বাচ্চা পাখিদের ক্ষেত্রে উল্লেখিত লক্ষনজনিত সমস্যা প্রকাশ পেলে ১গ্রাম প্রতি ১০০গ্রাম অনুওয়াতে হ্যান্ডফিডিং ফরমুলায় মিক্স করে নিয়ে এরপর ব্যবহার করা সম্ভব।
অবস্থা ও পরিস্থিতি ভেদে ট্রিপল সি সাধারণত সমস্যার সমাধানে ৫-৭ দিন ও কিছুক্ষেত্রে ১৪দিন পর্যন্ত ব্যবহার প্রয়োজন হতে পারে।
আমাদের দেশের কিছু এগ্রোভেট ফারমাসিটিক্যালস ক্লোরটেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড ২০% পাউডার বাজারজাত করে আসছে এর মাঝে স্কয়ার এর Cotra vet এবং এস্কায়েফ এর Eska CTC রয়েছে।এক্ষেত্রে Eska CTC এর ১০গ্রাম এর প্যাকেট পাওয়া যায়।
এই দুটির ক্ষেত্রে, প্যারোট/প্যারাকিট এর জন্য ২.৫গ্রাম/লিটার এবং ফিঞ্চ জাতীয় পাখির ক্ষেত্রে ১.২৫গ্রাম/লিটার অনুপাতে ৫-৭দিন ব্যবহার করা যাবে।