22/12/2016
কবুতরের শীতের (Nov’15-March’2016) মাসিক ছক :
By Kf SohelRabbi
১লা-৫তম দিনঃ
সাল্মনেল্লা কোর্স- ২ টেবিল চামচ শাফি+ ২ টেবিল চামচ ফেবনিল+মারবেলাস ১ চামচ= ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ৪-৫ দিন সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন (একটানা)। অথবা (হোমিও ব্যাপ্তেসিয়া ৩০, ১ সিসি =১ লিটার পানিতে মিক্স করেও ৫ দিন আপনি এই কোর্স করাতে পারবেন।
(বিঃদ্রঃ এই কোর্স চলাকালীন কবুতর সবুজ পায়খানা করতে পারে, আর এই অবস্থাই ঔষধ বন্ধ করা যাবে না, এটা ভিতরের জীবাণু তাকে বের করে সাহায্য করে। একটানা করাতে হবে ও ধরে খাওয়ান যাবে না ও অসুস্থ কবুতর কে খাওয়ান যাবে না, তাতে বমি করতে পারে বা সরাসরি খাওয়ান যাবে না। বাচ্চা থেক্লে বাবা-মা কে খাওয়াতে পারবেন। কারন এ সময় তারা সরাসরি কোন খাবার দেয় না। কর্প মিল্ক খাওয়ায়।)
৬তম দিনঃ
স্যালাইন(ভেট এর) বা লেবুর রস ও লবন যোগ করে দিতে পারেন বা ভিটামিন সি প্রয়োজন মত ব্যাবহার বা প্রয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি অ্যাপেল সিডার ভিনেগার বা প্রবায়টিক প্রয়োগ করতে পারেন ১ মিলি/সিসি/গ্রাম ১ লিটার পানিতে মিক্স করে।
৭তম-১২তম দিনঃ
ভিটামিন বি কমপ্লেক্স হিসাবে (toxynil, biovit, Rena B+C) ১ সিসি/গ্রাম= ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন (একটানা)। ( এর সাথে যদি মনে করেন রেনা কে ভিটামিন তাও মিক্স করে ব্যাবহার করতে পারেন। ১০(দশ) লিটার পানিতে ১ গ্রাম রেনা কে এই অনুপাতে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করবেন।) আপনি ২ দিন (toxynil) ও ৩ দিন (biovit, Rena B+C)দিতে পারেন। এ সময় আপনি Hiprachock প্রয়োগ করতে পারেন ২-৩ দিন যদি আপনি মনে করেন এতে আপনার কবুতরের পড় ভাল থাকবে ও Immune system কার্যকরী থাকতে সাহায্য করবে।
১৩তম দিনঃ
হোমিও Belodona 30, ১ সিসি= ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন (মাসে ১ বার)।
(বিঃ দ্রঃ প্যারামক্সি বা এই ধরনের রোগ থেকে মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে। যারা মুরগির ভ্যাকসিন দিবার জন্য পারাপারি করেন তাদের জন্য এটি ভাল কাজ করবে।)
১৪তম-১৮তম দিনঃ
ক্যালসিয়াম ও ই ভিটামিনের জন্য (Calcium Forte or Calfast etc ) এইধরনের ভাল মানের ভিটামিন প্রয়োগ করতে পারেন, ১ সিসি/গ্রাম= ১ লিটার পানিতে মিক্স করে ৩-৪ দিন সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন (একটানা)।এর সাথে AD3e মিক্স করে দিতে পারেন।
১৯তম দিনঃ
রসুন বাঁটা +মধু+লেবুর রস।(১ লিটার পানিতে ২ চা চামচ রসুন বাটা,২ চা চামচ মধু আর ১ চামচ লেবুর রস মিক্স করে দিলে ভাল।তবে পানি অবশ্য ছেকে নিতে হবে। আর লেবু চিপার সময় গ্লভস বা লেমন ইস্কুইজার ব্যাবহার করবেন। এটা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করবে।তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এই কোর্স করার আগে ক্রিমির ঔষধ দিয়া আছে কিনা টা জেনে নিবেন।কারন ক্রিমি থাকলে এটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।)
২০তম দিনঃ
হোমিও Borax 30 ১ সিসি ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন।
২১তম দিনঃ
অ্যাপেল সিডার ভিনেগার দিন।( এক্ষেত্রে আমিরিকার তৈরি অ্যাপেল সিডার দিয়া উত্তম। তবে অপরিশোধিত টা পেলে ভালো এটা সাল্মনিল্লা প্রতিরোধে সাহায্য করবে।১ লিটারে ১ সিসি বা তার কম, বেশি প্রয়োগ করবেন না তাতে বিপরিত ফল হতে পারে।)
২২তম দিনঃ
স্যালাইন (ভেট এর) বা লেবুর রস ও লবন যোগ করে দিতে পারেন বা ভিটামিন সি প্রয়োজন মত ব্যাবহার বা প্রয়োগ করতে পারেন। এ দিন আপনি লিকার চা বা গ্রীন টি দিতে পারেন ।( এটা কাঙ্কার প্রতিরোধ ও ভাল ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনে সাহায্য করবে।) এটি প্রবায়টিক হিসাবেও ভাল কাজ করবে।
২৩তম-২৭তমঃ
পর্যন্ত লিভার টনিক দিন।( অধিকাংশ কবুতর লিভার জনিত সমস্যায় বেশি ভুগে থাকে। তাই লিভার এর ব্যাপারে একটু খেয়াল রাখা জরুরি।১-২ চামচ ১ লিটার পানিতে এক্ষেত্রে হামদারদ এর Cinkara, Icturn, Karminaইত্যাদি জেকন ১টি ব্যাবহার করা যেতে পারে।)
২৮তম দিনঃ
হোমিও Kali Curb 30, ১ সিসি ১ লিটার পানিতে মিক্স করে সাধারন খাবার পানি হিসাবে পরিবেশন করবেন। এটি বর্ষায় আপনার কবুতরের সাধারন ঠাণ্ডা জনিয় সমস্যা থেকে নিরাপদ থাকবে।
২৯তম দিনঃ
লিকার বা লাল চা বা গ্রিন টি(চা) দিয়া ভাল।( এটা কাঙ্কার প্রতিরোধ ও ভাল ব্যাকটেরিয়া উৎপাদনে সাহায্য করবে।)
৩০-৩৪তম দিনঃ
মাল্টি ভিটামিন দিয়া ভাল।( এক্ষেত্রে All Vit Ma(Made in Germany) দিয়া যেতে পারে। এতে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করবে। সকল ভিটামিন ও মিনারেলস এর অভাব পুরন করবে।)
এই ছক যে আপনাকে অনুসরন করতেই হবে এমন কন বাধ্যবাধকতা নাই, এটা আপনার পছন্দ অনুযায়ী পরিবত্তন করে নিতে পারেন বা কাট ছাট করে তৈরি করে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন অসুস্থ কবুতর কে বিশেষ করে যদি পক্স এ আক্রান্ত হয় তাহলে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ছাড়া অন্য কোনও ভিটামিন দিবেন না। তাহলে তাতে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অনেকেই আছেন যারা এই ছক এখে মাথা ঘুরে যায় অনেকেই আছেন নানা সমালোচনা করেন। অনেকেই আছেন এগুলো কে মানতে চান না। তাদের কে আমি বলি যে যারা এই ছক অনুইসরন করেন আর যারা করেন না তাদের পার্থক্য টা একটু জেনে নিবেন দোয়া করে। অবশ্য যারা অল্প কবুতর পালেন তাদের অনেককেই এতো বড় ছক অনুসরণ করা মুশকিল হয়ে যায়। তাদের কে বলব সব যে অনুসরণ করতে হবে টা নয়। একটি বাড়ি যেমন ৪ টি পিলার এর উপর তৈরি হয়। তেমনই আপনার খামার যদি ৫ টি জিনিষ নিয়মিত প্রয়োগ করেন তাহলেও অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। সেগুলো হলঃ
১) সাল্মনেল্লা কোর্স করান ৪-৫ দিন।
২) বি কমপ্লেক্স দিয়া ৫ দিন।
৩) ক্যালসিয়াম দিয়া ৪-৫ দিন।
৪) লিভার টনিক দিয়া ৪-৫ দিন।
৫) মাল্টি ভিটামিন দিয়া ৪-৫ দিন।
এই নিয়মটি ও যদি আপনি অনুসরণ করেন তাহলেও হবে। একটি জিনিষ খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই আছেন শীতের ভয়ে খামার কে আমন ভাবে বন্ধ করেন যাতে কোন প্রকার ঠাণ্ডা প্রবেশ তো দুরের কথা আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। অনেকেই বলেন ভাই আমি তো দিনের বেলাতে খামার খোলা রাখি রাতে বন্ধ করি। আপনাকে মনে রাখতে হবে একজন কে শ্বাস রোধ করে মারতে ২ মিনিট সময়ই যথেষ্ট। তাই অনর্থক খামারের জানালা বন্ধ করবেন না। আর যদি করেন তাহলে বহিঃ নির্গমন ফ্যান চালিয়ে রাখবেন। অনর্থক রুম হিটার চালাবেন না। মনে রাখবেন আপনার আমার শরীরের যে তাপমাত্রা টার থেকে কবুতররের শরীরের তাপমাত্রা অনেক বেশী থাকে। শীতের সময় কবুতর কে গোসল করাতে ভুলবেন না যেন... তাহলেই আপনি সফল খামারি হিসাবে পরিনত হতে পারবেন।