03/12/2018
"বাংলাদেশের মুসলিমদের কাছে প্রশ্ন"
---------------------------------------------
যে আল্লাহর উপর ঈমান ও আস্থা তুলে দেয় তাকে কাফের বলে। আল্লাহর প্রতি যার আস্থা আছে তাকে বলে আস্তিক, আর যার নেই তাকে বলে নাস্তিক। নাস্তিক শব্দের সরল আরবী হচ্ছে কাফের। আর তার বহুবচন হচ্ছে কুফ্ফার। যে দল বা সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী বা সমিতি বা সংগঠন আল্লাহর উপর ঈমান ও আস্থা তুলে দেয় সেই দলকে সমষ্টিগতভাবে কুফ্ফার বলা হয়। সেই দলের নাম জামায়াত হোক, বিএনপি হোক, আওয়ামীলীগ হোক বা অন্য যাই হোক। কাফেরের কয়েকটি স্বরূপ আছে। যেমন: ব্যক্তি পর্যায়ে কাফের। এই জাতীয় কাফেররা নিজেকে কাফের বলে, এবং অন্য কেউ মুসলিম বা খ্রিষ্টান বা হিন্দু হলে তার কিছু আসে যায় না। সে নিজের কুফরী বিশ্বাসকে সমৰ্থন করে সাথে সাথে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে-ও শ্রদ্ধা করে। এই জাতীয় কাফের ইসলামের জন্য খুব হুমকি স্বরূপ নয়। তবে এই জাতীয় কাফেরদের অনেকের এই রূপের কারণ সেখানে ক্ষমতার অভাব। যখন সে ক্ষমতা পায় বা ঐক্যবদ্ধ শক্তি পায় তখন তার আসল রূপ প্রকাশ পায়। কাফেরের পরের রূপটি হচ্ছে: ঐক্যবদ্ধ একটি দল বা সংগঠন। কাফেরদের এই রূপটি ইসলামের জন্য হুমকি স্বরূপ। তারা ইসলামের ক্ষতি করতে না পারলে-ও অনেক মুসলিমদের বিশেষ করে ইসলামিস্টদের ক্ষতি করে। তারা মুসলিম ব্যক্তিকে বা মুসলিম দলকে যে কোনো ভাবে পরাজিত করার জন্য সব রকম শৃঙ্খল ও সাংগঠিনকভাবে চেষ্টা করে। তারা নানাভাবে মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষকে ব্রেন ইয়াশ করে ইসলামের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ করে ইসলামিস্টদের কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। এই জাতীয় কুফ্ফারদেরকে একাকী ব্যক্তিগত ভাবে প্রতিহত করা অনেক কঠিন কাজ। বরং তাদেরকে- সাংগঠিনক ও শৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করা বাঞ্চনীয়।
কাফেরদের সবচেয়ে বড়ো ও ফাইনাল রূপটি হচ্ছে মুসলিমদেরকে ধ্বংস করেই তারা ক্ষ্যান্ত হয় না বরং পরবর্তীতে যেন কোনোভাবেই এমন একটি ইসলামিক প্রজন্ম কখনোই বের না হতে পারে সেইজন্য ইসলামকেই পরিবর্তন করার টার্গেটে কাজ করে। এরা ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে এবং সেই প্রক্রিয়ায় কৌশলগত ভাবে ইসলামের প্রিন্সিপ্যালকেই পরিবর্তন করে। পরবর্তী প্রজন্মের সামনে ইসলামের মূলধারা যেটা তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বা তাদের মাতবরী শেষ হয়ে যেতে পারে এমন সব প্রিন্সিপ্যাল গুলোকে পরিবর্তন করে ইসলামের অন্য প্রিন্সিপ্যালের মধ্যে ঢুকিয়ে শিক্ষা দেয়, লক্ষ্য হচ্ছে, এমন একটি প্রজন্ম তৈরী করা যা "করে নাক ফোঁস ফাঁস, মারে নাক ঢুশ ঢাস"। মানে মাতবরি করবো আমরা, দুনিয়া চালাবো আমরা, অর্থনীতি চালাবো আমরা, রাষ্ট্র চালাবো আমরা, আইন প্রণয়ন করবো আমরা, আর এই মুসলিমগুলো আমাদের কথা মতো শান্ত শিষ্ট নাগরিক ধর্মপালন করবে মসজিদে মন্দিরে। এই কাফেররা এর জন্য সাংগঠনিক ভাবে পর্যায়ক্রমে প্রথম টার্গেট করে শিক্ষা ব্যবস্থা, তার পরে চলতে থাকে মিডিয়ার মাধ্যমে ব্রেইন ওয়াশ, তার পার্ট হিসেবে নাটকে, সিনেমায়, পাঠ্য বইয়ে সব জায়গায় তাদের প্রোপাগান্ডা। তাদের অন্য একটি ধাপ হচ্ছে মোল্লা ব্রাডলিকে সমাজে প্রচলন করে ইসলামের শিক্ষা দেয়া। মোল্লা ব্রাডলি মানে হচ্ছে তাদের ধারার মোল্লা, মানে যেখানেই দেখবা মোল্লা ওমর বলছে ইসলামী রাষ্ট্রের কথা, ইসলামী অর্থিনীতির কথা, কাফেরদেরকে খেদিয়ে দিয়ে মুসলিম মা ও বোনকে মুক্ত করার কথা, তার অপর পাশে তারা ঠিকই মোল্লা ব্রাডলিকে গড়ে তুলেছে যাকে বলতে শোনা যাচ্ছে "ইসলাম মানে শান্তি, জিহাদ মানে কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়া, ইসলামে রাজনীতি হারাম, ইসলামে অর্থনীতি হারাম, ইসলাম হচ্ছে মিলাদ দাঁড়িয়ে পড়বা নাকি বসে পড়বা" এই সব হাবিজাবি। মোল্লা ব্রাডলিদের মাধ্যমে এই কাফেররা ইসলামকে পরিবর্তন করার টার্গেটে নেমেছে, এটা হচ্ছে তাদের ফাইনাল রূপ। আর আল্লাহ এদেরকে টার্গেট করে বলছেন, ইসলামের সংরক্ষক আল্লাহ নিজে। আল্লাহ বলছেন, ওরা ভাবছে আল্লাহর নূরকে ফু দিয়ে নিভিয়ে দিবে, কিন্তু এটা আল্লাহর ওয়াদা, আল্লাহ এই দ্বীনকে পৃথিবীর অন্য সকল মতবাদ, বিশ্বাস, ফিলোসফি, ওর্য়াল্ডভিউ, আদর্শ, তত্ব ইত্যাদিকে হারিয়ে তাঁর দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করবেনই, তাতে কাফেররা কি ভাবল বা কষ্ট পেলো তাতে কিছু যায় আসে না।
প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের কাফেররা কোন পর্যায়ে? আমি বলবো তারা কাফেরদের যে ফাইনাল রূপ সেটিতে অলরেডি প্রবেশ করেছে এবং নিজেরা শুধু আল্লাহর উপর ঈমান ও আস্থা তুলে দেয়নি, বরং অন্যদেরকে আল্লাহর উপর ঈমান ও আস্থা তুলে দিতে বাধ্য করছে। "সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ" এই বিশ্বাস যারা পোষণ করে তাদেরকে সমাজে, রাজীনীতিতে, অর্থিনীতিতে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ সকল ক্ষমতার মালিক এটার বিরুদ্ধতা করাই কাফের হওয়ার জন্য যথেষ্ট। আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কাফের বলিনি, অনেকেই আমাকে বলতে পারেন, ভাই তাকফিরি একটা কঠিন ব্যাপার, আপনি কাউকে কাফের বলতে পারেন না, কারণ আপনি তেমন মাপের মুফতি না। কথা টা সঠিক, আমি কাউকে কাফের বলছি না, শুধু মাত্র জেনারেল ভাবে কাফেরের সংগা ও বৈশিষ্ট্য বলছি। আকাশে চরে যে, তাকে এক কথায় বলে খেচর, মিথ্যা কথা বলে যে তাকে বলে মিথ্যুক, আর আল্লাহর উপর ঈমান ও আস্থা তুলে দেয় যে তাকে বলে কাফের। কাফেরের এর চেয়ে সিম্পল ও সহজ সংগা আর কি হতে পারে? সেই সঙ্গায় আওয়ামীলীগ পড়লো নাকি বিএনপি পড়লো নাকি জামায়াত পড়লো সেটা আপনারা বিচার করবেন। তবে আমি এইটুকু বলবো, কুফরী আদর্শ জেনে শুনে ও বুঝে যারা সমৰ্থন করে, তা প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে, তাদের পক্ষে ভোট দেয় বা টাকা দেয়, তারা সকলেই এই কুফরী আদর্শের ধারক ও বাহক। আর কুফরী আদর্শের ধারক ও বাহককে কাফের ছাড়া কি বলে? বাংলাদেশের মুসলিম ভাই ও বোনদের কাছে প্রশ্ন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এখন আপনাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। কোনো কিছুই এখন আর অস্পষ্ট নেই। এখন চয়েস আপনাদের, কুফরী শক্তিকে প্রতিহত করবেন নাকি সমর্থন করবেন? তবে মনে রাখবেন আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে একদিন। আপনার যতটুকু সামর্থ্য তটকুটু কোন পক্ষের সমর্থনে কাজে লাগিয়েছেন? আর-রহমানের দলের পক্ষে নাকি আশ-শয়তানের দলের পক্ষে। কারণ এই মাঝখানে কিছু নেই, হয় আপনি আর রহমানের ক্যাম্পের অন্যথায় আপনি শয়তানের ক্যাম্পের। সময় এসেছে আপনার চয়েস মেক করার। সুযোগকে কাজে লাগান। মনে রাখবেন আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে বিজয়ী করবেনই তাতে আপনার সমর্থন থাকুক আর না থাকুক, বরং এই বিজয় প্রক্রিয়ায় আপনার অংশ গ্রহন, এই সুযোগটা নিবেন নাকি নিবেন না সেটা আপনার চয়েস। (Writer: Shahad, Canada)