11/08/2026
আজ এমন একটা ঘটনা লিখছি, যেটা শুনলে আপনার ও গা শিউরে উঠবে।
আমরা সত্যিই অনেক চেষ্টা করেছিলাম আপুকে সাহায্য করার। কিন্তু শেষটা যে এতটা নির্মম হবে, সেটা কখনোই ভাবিনি।
একজন পরিচিত আপু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন আপুর পরিবার তাঁর অজান্তেই আদরের খরগোশগুলো বাসার দারোয়ান রফিকের কাছে দিয়ে দেন। বলা হয়েছিল, গ্যারেজে রাখা হবে। কিন্তু রফিক কাউকে কিছু না জানিয়ে খরগোশগুলোকে ময়মনসিংহের এক প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠিয়ে দেয়।
আপু সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে খরগোশগুলোর কথা জানতে চাইলে বলা হয়, ওগুলো গ্রামে আছে। আমরা ফেরত চাইলে রফিক প্রথমে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে অনেক চাপের মুখে খরগোশগুলো ফেরত দিতে রাজি হয় এবং লোক পাঠিয়ে নিয়ে যেতে বলে।
আমার হাসব্যান্ড ওর ছোট ভাইদের নিয়ে সেখানে যান। কিন্তু গিয়ে দেখা যায়, দেওয়া ঠিকানাটি ভুল। রফিক ফোনে একবার ডানে, একবার বামে—এভাবে প্রায় আরও ৪০ কিলোমিটার ঘুরায়, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মেম্মার দিয়ে কথা বলিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের আনা হয়। জানা যায় সেই নির্মম সত্য।
খরগোশগুলো আর বেঁচে নেই।
এসি রুমে, পরিবারের সদস্যের মতো বড় হওয়া প্রাণীগুলোকে গ্রামের খোলা পরিবেশে মুরগির মতো ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। তারা না চিনত সেই পরিবেশ, না জানত কীভাবে খাবার সংগ্রহ করতে হয়। খাবারের খোঁজ করতে গিয়েই একে একে ওরাই শিয়ালের শিকার হয়েছে।
ভাবুন তো... যাদের সারাজীবন নিরাপদে, আদরে রাখা হয়েছে, তাদের শেষ পরিণতি হলো এভাবে?
এরপর আমি রাগে কল দেই সেই পরিবারের সদস্যদের, প্রশ্ন করি কেনো লুকানো হলো? কেনো চুরি করে গ্রামে আনা হলো ওদের? বিষয়টি জানার পর সে উল্টো আপুকে ফোন করে আজেবাজে কথা বলে বিভিন্ন রকমের হুমকি দেয়।
এবার আর বিষয়টি চুপ করে থাকার নয়। আপু পুলিশ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।
এই পোস্টের উদ্দেশ্য কাউকে হেয় করা নয়। উদ্দেশ্য একটাই—প্রাণীরা খেলনা নয়। কারও আদরের প্রাণীকে মালিকের অনুমতি ছাড়া সরিয়ে দেওয়া, অবহেলায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, তারপর আবার ভয়ভীতি দেখানো এসবের জবাবদিহি হওয়া উচিত।
ওদের আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। কিন্তু অন্তত এমন ঘটনা যেন আর কোনো নিরীহ প্রাণীর সঙ্গে না ঘটে।
এই হল সেই মানুষ রুপি জানোয়ার রফিক।