23/06/2026
#দুই মিনিট সময় চেয়ে নিচ্ছি। পড়বেন আশা করি।
#একটি জীবনাবসান এর গল্প।
বাচ্চাটি গতকাল মারা গেল।
কিন্তু ও অনেকদিন ধরে আক্রান্ত ছিল,
আপু যিনি ওকে জানালা দিয়ে ২০২২ সাল থেকে খাবার দেন, তিনি অনেক গ্রুপে পোস্ট করে সাহায্য চেয়েছেন। ছবি এবং ভিডিও পাঁচ তলা থেকে নেয়ার কারণে ওর ক্ষত এবং সার্বিক অবস্থা স্পষ্ট ছিল না। যার কারণে খুব বেশি ভাইরাল হয় না।
তবুও কিছু কমেন্ট এবং মেনশন থেকে অনেক পপুলার এবং এনিমেল লাভার নামধারী ফেমাস ব্যক্তিদের নাম এবং পেজ পেয়েছিলেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন, সাহায্য চেয়েছেন, কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। তবে এটা তবে ১০০ ভাগ সত্যি যে, কেসটা আরেকটু ভাইরাল হলে, কিংবা র*ক্ত পড়তেছে এমন ভিডিও স্পষ্ট থাকলে ওকে রেসকিউ এর জন্য প্রতিযোগিতা শুরু করতো ,মারামারি লেগে যেত, হুমকি ধামকি দিতো।
কারণ আগেও এমন অনেক দেখেছি। প্রতিনিয়তই দেখছি। পেছনের কারণটা আপনারা জানেন।
হয়তো তাদের মধ্যে অনেকেই ব্যস্ত ছিল। তবে এই ব্যস্ততা দূর করে দিত ভিডিওটা স্পষ্ট এবং ভাইরাল হলে।
আমাকে একজন মেনশন করে এবং সাথে সাথে তিনি পাগলের মত আমাকে মেসেজ করেন,
কিন্তু ততক্ষণে আমি চট্টগ্রামের পথে, তিন দিন সেখানেই ছিলাম।।
এই তিন দিনের মধ্যেও তিনি অনেকের সাথেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন সাহায্য করেছেন কেউ এগিয়ে আসেনি।
আমার সাথে সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে যোগাযোগ হয় এবং সন্ধ্যার মধ্যে সেখানে পৌছাই,
সাধারণত দেয়াল টপকাতে অভ্যস্ত না, আর ইদানিং খুব বেশি কেস এ নিজেকে জড়াতে চাই না।
তবে যখন শুনলাম আপুর হাজবেন্ড অসুস্থ, ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং মহিলা মানুষ হয়ে কোন কিছু উপায় পাচ্ছেন না আমি ছুটে গিয়েছিলাম। রাতের বেলা দেয়াল টপকে ওকে খুঁজি, বেচারা ততক্ষণে নির্জীব প্রায়।
ওকে রেসকিউ করে পাঠাই কিন্তু ততদিনে ওর হাতে আর সময় ছিল না। কারণ কয়েকদিন আগে থেকেই খাওয়া বন্ধ ছিল, আর পোকা হয়ে পুরো মাথা ঘাড় খেয়ে ফেলেছিল।
কষ্ট লাগে, বাচ্চাটা ভাইরাল হয়নি বলে সময় থাকতে কারো সাহায্য পেল না।
তবে বাচ্চাটা খুব, খুব ভাগ্যবান।
মৃত্যুর পর মাটি দেয়া হয়েছে। ওর দুর্গন্ধ হয়ে যাওয়া স্পর্শ করে কেউ একজন আদর করেছে।
কেউ একজন অঝোরে বাচ্চা বাচ্চা বলে কান্না করেছে।
এরকম হয়ত অনেক মানুষের ভাগ্যেও জোটে না।
ভালো থাকুক বাচ্চাটা।
বিদায়।