05/12/2021
পাখিদের কি জ্বর হয়??
জ্বর হলে মানুষের মতো শরীর গরম হয়ে যায়??
জ্বর হলে কি নাপা/প্যারাসিটামল দেয়া যাবে ??
চলুন জানা যাক পাখির জ্বর বলতে কিছু আছে কিনা।।
পাখির জ্বর v মানুষের জ্বর।
অনেক পাখাল বলেন যে পাখির জ্বর হয়।
স্পর্শ করলে তারা অনুভব করে পাখির শরীর গরম।
মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা 36.1C (97F) থেকে 37.2C (99F) এর মধ্যে, পাখিদের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা প্রজাতির উপর নির্ভর করে 38.3C (101F) থেকে 41.7C (107F) পর্যন্ত হয়।
এই কারণেই আমরা যখন পাখিদের ধরে রাখি তখন আমরা গরম অনুভব করি, কারণ তাদের শরীরের তাপমাত্রা আমাদের চেয়ে বেশি।
পাখিরা মানুষ বা অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মতো জ্বরে ভোগে না।
আর পাখিরা ঘামে না, তাই তারা অতি গরমে হাঁপায়।
যখন পাখি হাঁপায় তখন বুঝতে হবে যে পাখিটি তাপ বা গরম অনুভব করছে, তখন তারা তাদের ডানা চেপ্টা করে ধরে রেখে নিজেকে ঠান্ডা করে।
পানি পেলে তারা গোসল করে বডি ঠান্ডা করে।
একটি পাখি যে তাপ দ্বারা প্রভাবিত হয় সেটা জ্বর নয় , গরমে তাদের ঘাম হয় না তাই বডি টেম্পারেচার বেড়ে যায়। এই জন্য দেখা যায় গরম পড়লে পাখি হাপায় আর বডি ও গরম হয়ে যায় অনেক।
আক্রান্ত পাখির শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনা না হলে তা হিটস্ট্রোক এবং সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
পাখি অসুস্থ হলে বরং তাদের শরীরের তাপ কমে যায়।
পাখির তাপমাত্রা যাওয়াকেই পাখির হাইপোথার্মিয়া বা জ্বর বলে। পাখি অসুস্থ হলে তাদের শক্তি ক্ষয় হতে শুরু করে এতে করে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়। তাই পাখিকে বাল্ব এর হিট দিতে হয় যাতে পাখিটি শরীরের তাপ হারাতে না পারে এবং সেই শক্তিটি অসুস্থতার সাথে লড়াই করার জন্য ব্যবহার করে, শরীরের শক্তি বজায় রাখতে না। বাল্ব এর হিট দিলে পাখি সুস্থ হয় না বরং পাখির শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে তাই পাখির গায়ে শক্তি থাকে রোগ মোকাবেলা করার।
একটি অসুস্থ পাখিকে তাপমাত্রা 80 - 85 ফারেনহাইট (27 - 30 ডিগ্রি সেলসিয়াস) দিতে হবে।
তবে আরও ভালো হবে যদি এক বা দুই দিনের জন্য 100 ফারেনহাইট (38 ডিগ্রি সেলসিয়াস) বৃদ্ধি করা হয় এবং ধীরে ধীরে হ্রাস করা হয়।
তাই যখন শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এর মানে হল যে পাখিটি হিটস্ট্রোক করতে পারে।
তাই পাখিকে ঠান্ডা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কিডনি প্রবলেম হলেও পাখির তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
যখন পাখিটি তার শরীরের তাপমাত্রা হারাতে শুরু করে তার মানে পাখিটি অসুস্থ (জ্বর হয়েছে)।
পাখিকে উষ্ণ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যাতে তার শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে, তাপ পাখিকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।
মানুষ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় যখন তারা অসুস্থ হয় এবং পাখিদের সাথে ঠিক উল্টো কারণ তারা অসুস্থতার কারণে তাপ হারায়।
এখন দ্বিতীয় প্রশ্নে আসি পাখিদের কি নাপা/প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) দেওয়া যেতে পারে?
এটি এমন একটি ওষুধ যা মানুষ এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে কিছু সংক্রমণের কারণে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু পাখিদের ক্ষেত্রে তা হয় না। কারণ পাখির জ্বর হলে তাপমাত্রা কমে আর প্যারাসিটামল তাপমাত্রা কমায়। তাহলে পাখির জ্বর হলে নাপা প্যারাসিটামল দিলে পাখির তাপমাত্রা আরো দ্রুত কমে পাখি মারা যাবে। পাখির আর মানুষের জ্বর একরকম না । তাই মানুষের জ্বর হলে তাপমাত্রা কমাতে নাপা প্যারাসিটামল খাওয়া গেলেও পাখির ক্ষেত্রে খাওয়ানো যাবে না।
শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয় শরীরের তাপমাত্রা হ্রাসের ক্ষেত্রে নয়।
এটি পাখিদের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
কিন্তু এশিয়ান উপমহাদেশে অ্যাভিকালচারে এর ব্যবহারে খুব বেশি ক্ষতি হয় না কারণ এটি ট্রেস আকারে ব্যবহৃত হয় নিয়মমাফিক ডোজ দিয়ে।
প্যারাসিটামলের একটি ট্যাবলেট একটি ভাল জাতের টিয়া পাখি কে মেরে ফেলতে পারে।
সো পাখির জ্বর হয়, জ্বর হলে নাপা/প্যারাসিটামল খাওয়ান এসব ভিত্তিহীন কথা।
পাখির জ্বর=তাপমাত্রা কমে।
মানুষের জ্বর=তাপমাত্রা বাড়ে।
প্যারাসিটামল=(তাপমাত্রা বেড়ে গেলে দেয়া হয়)।
Collected