কি দেখার কথা কি দেখছি

কি দেখার কথা কি দেখছি Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from কি দেখার কথা কি দেখছি, Chittagong.

21/01/2026

বিষয়: ঋণখেলাপিদের আইনপ্রণেতা হওয়ার সুযোগ ও সুশাসনের সংকট: একটি নাগরিক পর্যবেক্ষণ

​সূচনা:
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ হলো আইনের সর্বোচ্চ সূতিকাগার। এখানে বসে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু যখন কোনো স্বীকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তখন নৈতিকতা এবং সুশাসনের ভিত্তিমূলই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

​স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিক অবক্ষয়:
একজন ব্যক্তি যিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আগেই জনগণের আমানত বা ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যবহার করেছেন, তার পক্ষে রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট ঠেকানো অসম্ভব। এখানে একটি সরাসরি 'স্বার্থের সংঘাত' (Conflict of Interest) তৈরি হয়। যিনি নিজেই ঋণগ্রস্ত এবং খেলাপি, তিনি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গিয়ে সেই ঋণ মওকুফ বা আইনি ফাঁকফোকর তৈরির চেষ্টা করবেন—এটিই স্বাভাবিক ও আশঙ্কাজনক।

​অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আঘাত:
ঋণখেলাপিরা যখন আইনপ্রণেতা হন, তখন তারা মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের আর্থিক দায় থেকে মুক্তি পেতে চান।
এর ফলে:
১. ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে।
২. সাধারণ করদাতা এবং আমানতকারীদের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
৩. সৎ উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন এবং নিরুৎসাহিত হন।

​আইন প্রণেতা বনাম আইন লঙ্ঘনকারী:
যিনি আইন মেনে সময়মতো পাওনা পরিশোধ করেন না, তিনি যখন আইন তৈরির আসনে বসেন, তখন আইনের শাসন তার মর্যাদা হারায়। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ঠেকানোর পরিবর্তে বরং লুণ্ঠিত অর্থ কীভাবে বৈধ করা যায়, সেই প্রবণতাই সেখানে প্রাধান্য পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি সুশাসনের সংজ্ঞাকে যেমন কলঙ্কিত করে, তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে করে তোলে দুর্বল ও লুটেরা-বান্ধব।

​উপসংহার:
রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে আর্থিক অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনসভা থেকে দূরে রাখা অপরিহার্য। একজন ঋণখেলাপি কখনোই জনস্বার্থের পাহারাদার হতে পারেন না। যদি আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, তবে আইনপ্রণেতা হওয়ার নূন্যতম শর্ত হিসেবে আর্থিক সততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

21/01/2026

নির্বাচন কমিশনার বরাবর
খোলা চিঠি

​তারিখ: ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

বরাবর,
প্রধান নির্বাচন কমিশনার
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
ঢাকা।

​বিষয়: ঋণখেলাপি ও আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিতে স্মারকলিপি।

​মহোদয়, আমরা সচেতন নাগরিক সমাজ অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক খাতে বিশৃঙ্খলা এবং ঋণখেলাপির হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর চেয়েও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, বিপুল অংকের ঋণখেলাপি ব্যক্তিরা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে আইনপ্রণেতা হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের সুচিন্তিত মতামত ও দাবিসমূহ আপনার সদয় অবগতির জন্য পেশ করছি:

​১. নৈতিক ও আইনি দ্বন্দ্ব: সংসদ সদস্যের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রীয় অর্থের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা এবং আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বজায় রাখা। একজন স্বীকৃত ঋণখেলাপি যখন আইনপ্রণেতা হন, তখন সেখানে চরম 'স্বার্থের সংঘাত' (Conflict of Interest) তৈরি হয়। যিনি নিজেই জনগণের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ, তিনি রাষ্ট্রের আমানত রক্ষা করবেন—এমনটি বিশ্বাস করা অযৌক্তিক।

​২. আর্থিক খাতে লুটপাট ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি: অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, ঋণখেলাপিরা ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকিং আইন সংশোধন, ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ বা মওকুফের সুবিধা গ্রহণ করেন। এটি মূলত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে লুণ্ঠিত অর্থ পরিশোধ না করার একটি বৈধ পথ তৈরির নামান্তর। এর ফলে সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং সৎ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

​৩. আইনের শাসনের অবমাননা: যিনি প্রচলিত ব্যাংকিং আইন ভঙ্গ করে খেলাপি হয়েছেন, তিনি যখন আইন তৈরির ক্ষমতা লাভ করেন, তখন আইনের শাসন তার নৈতিক ভিত্তি হারায়। এটি সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বার্তা দেয় যে, বড় অংকের ঋণ আত্মসাৎ করেও পার পাওয়া সম্ভব এবং ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছানো যায়।

​৪. আমাদের দাবি: দেশের অর্থনীতি রক্ষা এবং সংসদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে আমাদের দাবিগুলো নিম্নরূপ:
​নির্বাচনী হলফনামায় ঋণের তথ্য গোপন বা জালিয়াতি করলে তাৎক্ষণিক প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
​একজন ব্যক্তি বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হলে, উক্ত ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধের নূন্যতম ২ বছর অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।
​ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে নির্বাচন কমিশনের তথ্য আদান-প্রদান আরও কঠোর ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে করতে হবে।

​উপসংহার: আমরা বিশ্বাস করি, রাষ্ট্র পরিচালনার উচ্চস্থানে সৎ ও কলঙ্কমুক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি ব্যতীত দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাটকারীদের আইনপ্রণেতা হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আপনার বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করছি।

​বিনীত,
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ

27/12/2025

🇧🇩স্মার্ট ও সময়োপযোগী রাজনৈতিক অঙ্গীকার 🇧🇩

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যে অঙ্গীকার করেছেন।
#ইনসাফের_বাংলাদেশ_প্রতিষ্ঠা
#সামাজিক_সুবিচার_নিশ্চিত
#দুর্নীতির_মুল_উৎপাটন
#কর্মমুখী_ও_নৈতিক_শিক্ষা

​একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার
​একটি আদর্শ রাষ্ট্র কেবল ভূখণ্ডের নাম নয়, বরং তা নাগরিকের অধিকার, ন্যায়বিচার এবং নৈতিকতার এক সুরক্ষিত দুর্গ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা হবে সুরক্ষিত।
জামায়াতের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মূল ভিত্তি চারটি বিশেষ স্তম্ভ:
​১. ইনসাফ কায়েম: রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব
​রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা জামায়াতের প্রধান অগ্রাধিকার। শক্তিমান হোক বা দুর্বল—আইনের চোখে সবাই সমান। আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফ ছাড়া কোনো রাষ্ট্র টিকে থাকতে পারে না।

​২. সামাজিক সুবিচার: শৃঙ্খলার মূল ভিত্তি
​ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে রাষ্ট্রের সম্পদে সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই সামাজিক সুবিচার। যখন মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত হয়, তখনই সমাজে প্রকৃত শৃঙ্খলা ও শান্তি ফিরে আসে।

​৩. দুর্নীতি বন্ধ: স্বচ্ছতার চাবিকাঠি
​দুর্নীতি একটি জাতির উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায়। আমরা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত করাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে জনগণের প্রতিটি টাকা দেশ গড়ার কাজে ব্যয় হয়।

​৪. কর্মমুখী নৈতিক শিক্ষা: উন্নয়নের সোপান
​শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং কর্মমুখী এবং নৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। যে শিক্ষায় দক্ষতা আছে কিন্তু নৈতিকতা নেই, তা সমাজকে ধ্বংস করে। আমরা চাই এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা যা উন্নত চরিত্রের পাশাপাশি স্বাবলম্বী নাগরিক তৈরি করবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই দূরদর্শী লক্ষ্যগুলো নিয়ে একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসুন, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে আমরা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি।

14/12/2025

"বুদ্ধিজীবী" ডা. আলিম চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে নিজামী জড়িত। এই দাবীটা করেন আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী।

নিজামীর নামে যখন হাসিনার কোর্টে মামলা চলছিল তখন শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী কোর্টে আসে নিজামীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্য দিতে।

শ্যামলী দাবী করেন আল বদরের লোকজন পরিচয় ঢাকতে মুখে কাপড় পরে তাদের বাসায় এসেছিল। কিন্তু শ্যামলী জিজ্ঞেস করার সাথে সাথেই তারা নিজেদের দলের নাম এবং দলের কমান্ডারের নাম বলে দেয়!

শ্যামলী নাকি এই ঘটনা ৪০ বছর নানান মানুষকে বলেছেন কিন্তু কেউ নাকি নিজামীর ভয়ে এটা পাবলিকলি বলে নাই।

শ্যামলী এই ঘটনা নিয়ে বইও লিখেছেন। কিন্তু সেই বইয়েও প্রথমে নিজামীর নাম নেন নাই। দোষ দিয়েছেন ডা. আলিমের বন্ধু মাওলানা মান্নানকে।

যখন শ্যামলীকে জিজ্ঞেস করা হয় যে কেন নিজামীর নাম সে বইয়ে প্রথমে উল্লেখ করে নাই, তখন শ্যামলী উত্তর দেয় যে লেখার বিষয়বস্তু তার স্বামী ছিল তাই সে নিজামীর প্রসঙ্গ আনে নাই। আরেকবার বলে যে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রকাশক নিজামীর নাম বাদ দিয়ে দেয়।

তখন আইনজীবীরা দেখায় যে বইটার দ্বিতীয় সংস্করণ ১৯৯৬ সালে আসে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। শ্যামলী কোন উত্তর দিতে পারেন নাই।

এরপর শ্যামলী দাবী করেন যে তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নাকি নিজামীর ইনভলভমেন্টের ব্যাপারে বলেছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তার কোর্টের জবানবন্দীতে বলে যে যে শ্যামলী তাকে এই ব্যাপারে কিছু জানায় নাই।

এরপর শ্যামলীকে জিজ্ঞস করা হয় যে নিজামী আল বদরের কমান্ডার এটা শ্যামলী কিভাবে জানলো। শ্যামলী জানায় যে দৈনিক সংগ্রামে সে পড়েছে ১৯৭১ সালে।

সরকার কোর্টে ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রামের সব কপি জমা দিয়েছিল। কিন্তু ঘেঁটে দেখা যায় যে কোথাও আল বদর কমান্ডার হিসাবে নিজামীর উল্লেখ নাই।

কিন্তু এই স্বাক্ষ্যের ওপর বেসিস করেই হাসিনার কোর্ট রায় দেয় যে নিজামী বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমাইন্ড। এই স্বাক্ষ্যের ওপর বেসিসেই নিজামীর ফাঁসি হয়।

কোর্ট শ্যামলীর কথাকে বিশ্বাস করেছে কেন জানেন? কারণ শ্যামলী একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তাই তিনি মিথ্যা বলছেন এটা বিশ্বাসযোগ্য না! উনি যেহেতু বলেছেন যে সংগ্রামে আল বদর কমান্ডার হিসাবে নিজামীর নাম এসেছে তাই এসেছে। কোন পেপার কাটিং পর্যন্ত জমা দেওয়ার দরকার নাই। শ্যামলী নাসরিন বললেই হবে-

"The P.W. 13 [Shamoly Nasrin Chowdhury] is a most respectable person of the society. We find no reason to disbelieve her. We accept her evidence that during the Liberation War in 1971 news were published in different newspapers mentioning the accused appellant Motiur Rahman Nizami as leader/commander of Al-Badr Bahini."

শ্যামলী নাসরিন গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের সমর্থন করেছেন। তার মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী গণতন্ত্রহীনতার জাস্টিফিকেশন দিয়েছেন।

অথচ স্বাধীন দেশে আমরা নিজামী হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে পারছি না। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টপ রেজাল্ট করা পলিটিশিয়ানকে মেরে ফেলল শ্যামলী-নুজহাতরা এটা কি বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড না?

যারা আজও নিজামী হত্যাকাণ্ডের পক্ষে আছেন, তারা যেন জেনে রাখেন যে কালকে তাদের শত্রুরাও এরকম মিথ্যাচারের মাধ্যমে তাদের হত্যা করতে পারে।

আমাদের লড়াইটা শুধু হাসিনার বিরুদ্ধে না। খুনী মিথ্যুক শ্যামলী-নুজহাতদের বিরুদ্ধেও। হাসিনা পালালেও শ্যামলী-নুজহাতরা পালায় নাই। আমাদের লড়াইও তাই জারি আছে।

আজ ১৪ই ডিসেম্বর শ্যামলী-নুজহাতদের শাস্তি না চাইলে আমরা কোনদিন বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারব না। আলীম চৌধুরীর যেমন বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। নিজামীরও আছে। আলীম চৌধুরী ডাক্তার জন্য সে বুদ্ধিজীবী আর নিজামী ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজের ছাত্র ছিল জন্য সে বুদ্ধিজীবী না তাই তাকে অপবাদ দিয়ে মেরে ফেলা জায়েজ এমন মনোভাব নিয়ে তো জাতি হিসাবে আমরা আগাতে পারব না।

১৪ই ডিসেম্বর ২০২৪

(নুজহাত চৌধুরী জুলাই গণহত্যায় "বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী" হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তির বিরোধিতা করে বিবৃতি দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় বিরোধিতাকারীদের একজন এই খুনী নুজহাত)

লেখক: ইশরাক

07/12/2025

🕊️ ইতিহাস, আবেগ ও বিশ্বাসের জটিল সমীকরণ

​ইতিহাসের পাতায় এমন বহু ঘটনা রয়েছে, যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কাছে গভীর আবেগ এবং অতিরিক্ত শ্রদ্ধা বা গুরুত্ব (হাইপ) বহন করে। এই আবেগ বা অতি-শ্রদ্ধা প্রায়শই কিছু মিথ্যা বিশ্বাস বা অন্ধ ধারণার জন্ম দেয়।
​উদাহরণস্বরূপ, ধর্মীয় ক্ষেত্রে, কিছু মানুষ কোনো পীর-আউলিয়ার প্রতি এমন তীব্র আবেগ পোষণ করেন যে, তাঁদের বিষয়ে কিছু অসত্য ধারণা বা কিংবদন্তি বিশ্বাস করতে শুরু করেন। কখনও কখনও এই অতিরিক্ত ভক্তি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তাঁরা সেই পীর-আউলিয়াকে নবী-রাসূলদের চেয়েও বেশি মর্যাদার আসনে বসিয়ে দেন।
​এই ধরনের গভীর আবেগ এবং দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে, সেই ঐতিহাসিক ঘটনা বা ব্যক্তিত্বের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। যদি সেই আলোচনা আবেগ-প্রবণ মানুষগুলোর লালিত বিশ্বাসের বিপক্ষে যায়, তবে তা প্রায়শই সমালোচিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়।
​একইভাবে, আমাদের মহান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ-এর মতো স্পর্শকাতর ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে সত্যনিষ্ঠ আলোচনা করাও কঠিন হতে পারে, যদি তা কিছু আবেগ-প্রবণ মানুষের প্রতিষ্ঠিত বা মিথ্যা বিশ্বাস বা ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়। কারণ, গভীর আবেগ ইতিহাসকে যুক্তির চেয়ে বড় করে তোলে, যেখানে সত্যের চেয়ে ব্যক্তিগত বা দলীয় বিশ্বাসকেই বেশি মূল্য দেওয়া হয়।

05/12/2025

ফ্যাসিবাদ (Fascism) হলো একটি চরমপন্থী, কর্তৃত্ববাদী, উগ্র-জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক মতবাদ যা বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ইউরোপে খ্যাতি লাভ করে।
​প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালিতে বেনিটো মুসোলিনির (Benito Mussolini) হাত ধরে এই মতবাদের উদ্ভব হয়। এই মতবাদে রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখা হয় এবং ব্যক্তি স্বাধীনতাকে খর্ব করে সকল ক্ষমতা একটি একক শাসক বা দলের হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়। এটি গণতন্ত্র, উদারতাবাদ, সাম্যবাদ এবং সমাজতন্ত্রের বিরোধী।
​🔥 ফ্যাসিবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
​ফ্যাসিবাদ একটি জটিল মতবাদ হলেও এর কিছু মূল বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
​একনায়কতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী শাসন: ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে সমস্ত ক্ষমতা একজন একচ্ছত্র নেতা বা একদলীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। জনগণের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
​চরম জাতীয়তাবাদ: ফ্যাসিবাদীরা জাতি বা সংস্কৃতিকে সর্বশ্রেষ্ঠ মনে করে এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে অন্ধ আনুগত্য সৃষ্টি করে। এই জাতীয়তাবাদী আবেগ প্রায়শই জাতিগত বিদ্বেষ (Xenophobia) বা অন্য সংস্কৃতির প্রতি অশ্রদ্ধার জন্ম দেয়।
​সামরিক শক্তির প্রতি অতিরিক্ত শ্রদ্ধা: সামরিক বাহিনীর ওপর অতিনির্ভরশীলতা ও সামরিকায়ন ফ্যাসিবাদী সরকারের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা রাজনৈতিক সহিংসতা, যুদ্ধ ও সাম্রাজ্যবাদকে রাষ্ট্রের নতুন কাঠামো গঠনের জন্য মৌলিক বিষয় হিসেবে অনুমোদন দেয়।
​এক নেতা, এক দল, এক রাষ্ট্র: রাষ্ট্রের সকল মানুষকে একাত্ম করে একটি সর্বগ্রাসী একদলীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেখানে নেতার আদর্শই চূড়ান্ত। নেতার ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে একটি ব্যক্তিত্বের উপাসনা (Cult of Personality) তৈরি করা হয়।
​গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার বিরোধিতা: ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যক্তি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং বহুদলীয় রাজনীতির ঘোর বিরোধী। তারা রাষ্ট্রের স্বার্থকে জনগণের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেয়।
​অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: ফ্যাসিবাদী অর্থনীতি সাধারণত স্বনির্ভরতার (Autarky) ওপর গুরুত্বারোপ করে। অনেক বিশ্লেষক একে পুঁজিবাদ ও সাম্যবাদের মধ্যবর্তী বা তৃতীয় অবস্থান বলেও উল্লেখ করেছেন।
​👤 ফ্যাসিবাদী শাসকগণ
​বিশ্ব ইতিহাসে যে দুজন শাসককে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফ্যাসিবাদী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, তাঁরা হলেন:
​বেনিতো মুসোলিনি (Benito Mussolini): ইতালির এই নেতাকে ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি ১৯২২ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত ইতালি শাসন করেন।
​অ্যাডলফ হিটলার (Adolf Hi**er): জার্মানির এই নেতা তাঁর দল নাৎসিবাদের (Na**sm) মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের একটি রূপ প্রতিষ্ঠা করেন। নাৎসিবাদ ছিল উগ্র জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব ও ইহুদিবিদ্বেষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
​এই শাসকগণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ইউরোপে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও জাতীয়তাবাদী চেতনার সুযোগ নিয়ে উত্থান লাভ করেন।

05/12/2025

শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে (১৯৭২-১৯৭৫) স্বাধীনতার মূল আদর্শ— সামাজিক সুবিচার— প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়। সামাজিক সুবিচার বলতে বোঝায় সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সমতা, ন্যায়বিচার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
​১. অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সুবিচারের অভাব
​স্বাধীনতার মূল ভিত্তি ছিল শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা (সমাজতন্ত্র)। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল:
​ব্যাপক দুর্নীতি ও কালোবাজারি: যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনের সময় সরকারি নীতি, লাইসেন্সিং এবং ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট ও কালোবাজারির মাধ্যমে দ্রুত ধনী হতে থাকে।
​ব্যর্থতা: এর ফলে সমাজের সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়। সম্পদ মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ায় নতুন করে শ্রেণী-বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সামাজিক সুবিচারের ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
​জাতীয়করণে অব্যবস্থাপনা: প্রধান প্রধান শিল্প ও ব্যাংক জাতীয়করণ করা হলেও, তা পরিচালনার জন্য দক্ষ প্রশাসক ও কর্মী বাহিনীর অভাব ছিল। এর ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শিল্পগুলোতে লোকসান হতে থাকে।
​ব্যর্থতা: রাষ্ট্রীয় খাত জনগণের কল্যাণে সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায়, অর্থনৈতিক সুবিচারের লক্ষ্য ভেস্তে যায়।
​১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ: ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ ছিল সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এই দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে মারা যায়।
​ব্যর্থতা: খাদ্যের চরম ঘাটতি, দুর্নীতি ও ত্রাণ বিতরণে অব্যবস্থাপনার কারণে ধনী-গরিবের পার্থক্য প্রকট হয়। খাদ্যের অভাবে মানুষের মৃত্যু প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র সাধারণ জনগণের অন্ন ও জীবনধারণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
​২. মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুবিচারের অভাব
​সামাজিক সুবিচারের মধ্যে রয়েছে প্রতিটি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এই ক্ষেত্রেও গুরুতর সমস্যা ছিল:
​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ছড়িয়ে থাকায় দেশে রাজনৈতিক গুপ্তহত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য বৃদ্ধি পায়। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
​ব্যর্থতা: জনগণের নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
​রক্ষী বাহিনী (Rakkhi Bahini)-এর বিতর্কিত ভূমিকা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য গঠিত বিশেষ বাহিনী জাতীয় রক্ষী বাহিনী (JRB)-এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। গুম, খুন ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের অভিযোগ ছিল এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
​ব্যর্থতা: রাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী যখন নিরপেক্ষভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করে রাজনৈতিক দমন-পীড়নে জড়িত হয়, তখন তা সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দেয়।
​৩. রাজনৈতিক সুবিচার থেকে বিচ্যুতি
​যদিও এটি সরাসরি সামাজিক সুবিচার নয়, কিন্তু গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সমাজের সুবিচার প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি:
​রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও দমন-পীড়ন: সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রকার রাজনৈতিক বিরোধিতা ও ভিন্নমত কঠোর হাতে দমন করা হয়। বিশেষত, বামপন্থী রাজনৈতিক দল জাসদ (JSD)-এর বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমিত হয়।
​ব্যর্থতা: নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত হওয়ায় রাজনৈতিক সুবিচার বিঘ্নিত হয়, যা বৃহত্তর সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব করে তোলে।
​সংক্ষেপে, শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার— এই তিনটি মূলনীতির মধ্যে প্রধানত দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে সামাজিক সুবিচারের লক্ষ্য অর্জনে চরম ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছিল।

05/12/2025

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে স্বাধীনতার মূল আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণে ব্যর্থতার মূলে ছিল মূলত রাজনৈতিক দিক থেকে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি।
​মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণের প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক মুক্তি, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু যুদ্ধ-পরবর্তী কঠিন বাস্তবতায় এবং সরকারের কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে সেই আকাঙ্ক্ষাগুলো ধীরে ধীরে হতাশা ও ক্ষোভে পরিণত হয়।

​১. রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ব্যর্থতা: গণতন্ত্র থেকে বাকশাল (Baksal)
​স্বাধীনতার মূল দাবি ছিল সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। কিন্তু ১৯৭৫ সালে এসে এই আকাঙ্ক্ষার অপমৃত্যু ঘটে:
​চতুর্থ সংশোধনী ও একদলীয় শাসন: ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি-শাসিত সরকার প্রবর্তন করা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) নামে একমাত্র জাতীয় দল প্রতিষ্ঠা করে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
​ব্যর্থতা: এই পদক্ষেপ বহুদলীয় গণতন্ত্রের মূলনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল, যার জন্য বাঙালিরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছিল। এটি জনগণের রাজনৈতিক স্বাধীনতা এবং মৌলিক অধিকার সীমিত করে দেয়।
​জরুরি অবস্থা জারি: ১৯৭৪ সালের শেষদিকে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক্-স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
​ব্যর্থতা: জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সরকারের সমালোচনার সুযোগ কমে যায়, যা স্বাধীনতার অন্যতম স্তম্ভ ছিল।

​২. অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ব্যর্থতা: শোষণহীন সমাজ থেকে চরম দুর্ভোগ
​স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ থেকে মুক্তি এবং একটি শোষণহীন, ন্যায়ানুগ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাস্তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি চরম সংকটে পতিত হয়:
​দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা: যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারের অদক্ষতা, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক দুর্নীতি জেঁকে বসে। শিল্পকারখানা জাতীয়করণের (Nationalization) ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যবহারের শিকার হয়।
​ব্যর্থতা: সরকার দুর্নীতি রোধে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সুবিচারের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। স্বয়ং শেখ মুজিবুর রহমানই দুর্নীতি প্রসঙ্গে আক্ষেপ করে বলেন, "আমি পেয়েছি চোরের খনি।"
​১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ: ১৯৭৪ সালে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ অনাহারে মারা যায়। একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে দেশে কৃত্রিম খাদ্য সংকট ও রিলিফ সামগ্রীর লুটপাট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
​ব্যর্থতা: অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি এবং দুর্ভিক্ষমুক্ত জীবন লাভের যে স্বপ্ন ছিল, তা এই চরম খাদ্য সংকটে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়।
​আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি: দেশজুড়ে গুপ্তহত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
​সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
​১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে, স্বাধীনতার আদর্শ (গণতন্ত্র ও শোষণমুক্তি) বাস্তবায়নের বদলে, দেশ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (একদলীয় শাসন) এবং অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের (দুর্ভিক্ষ ও দুর্নীতি) পথে হাঁটে। এই মৌলিক বিচ্যুতির কারণেই স্বাধীনতার মূল আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ব্যর্থ বলে প্রতিভাত হয়েছিল।

05/12/2025

🇧🇩 বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র (Proclamation of Independence) ছিল একটি যুগান্তকারী দলিল, যা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হয়। এই ঘোষণাপত্রটি নিম্নলিখিত প্রধান বিষয়বস্তু নিয়ে গঠিত:

​১. স্বাধীনতার ঘোষণা ও অনুমোদন
​২৬ মার্চের ঘোষণা অনুমোদন: এতে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন ও অনুমোদন করা হলো।
​কার্যকর হওয়ার তারিখ: ঘোষণাপত্রটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে বলে ঘোষণা করা হয়।

​২. রাষ্ট্রীয় আদর্শ ও লক্ষ্য
​নবঘোষিত সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করা হয়:
​সাম্য (Equality)
​মানবিক মর্যাদা (Human Dignity)
​সামাজিক সুবিচার (Social Justice)
​এই তিনটি আদর্শই ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রধান চেতনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি।

​৩. সরকারের বৈধতা ও কাঠামো
​গণপরিষদ গঠন: ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজেদেরকে গণপরিষদ (Constituent Assembly) হিসেবে ঘোষণা করেন।
​অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান: এই ঘোষণাপত্রটিই সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কাজ করবে বলে ঘোষণা করা হয়।
​নেতৃত্ব ঘোষণা:
​রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি থাকবেন।
​উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রজাতন্ত্রের উপ-রাষ্ট্রপতি থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

​৪. রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব
​রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা: রাষ্ট্রপতি প্রজাতন্ত্রের সকল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হবেন এবং নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
​আইনের ধারাবাহিকতা বলবৎকরণ: ঘোষণাপত্রের ক্ষমতাবলে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে সকল আইন চালু ছিল, তা স্বাধীনতার ঘোষণার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর থাকবে বলে আদেশ জারি করা হয়।
​মুক্তিযুদ্ধের জন্য নির্দেশ: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড (Chain of Command) প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়, যা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অপরিহার্য ছিল।
​আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা: এতে জাতিসমূহের পরিবারভুক্ত সদস্য হিসেবে এবং জাতিসংঘের চার্টার অনুযায়ী দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের অঙ্গীকার করা হয়।
​সংক্ষেপে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছিল স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার আইনি ভিত্তি এবং এটি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য মুজিবনগর সরকার-এর বৈধতা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করেছিল।
​এই ঘোষণাপত্রটি বর্তমানে সম্পূর্ণ আকারে বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম তফসিলে সংযুক্ত রয়েছে।

05/12/2025

🇧🇩 বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল দাবিগুলো দীর্ঘ সংগ্রাম ও বঞ্চনার ইতিহাস থেকে উৎসারিত। এই দাবিগুলোর প্রধান ভিত্তি ছিল:
​১. স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্র:
পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের একচেটিয়া ক্ষমতা এবং বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা।

​২. ভাষা ও সাংস্কৃতিক অধিকার:
বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর পশ্চিম পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া উর্দু সংস্কৃতি বা অন্য কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে মুক্তি। (এর ফলস্বরূপ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হয়।)
​৩. অর্থনৈতিক বৈষম্যের অবসান:
পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ ব্যবহার করে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি অর্থনৈতিক বঞ্চনা ও শোষণের অবসান ঘটানো। সমতার ভিত্তিতে সম্পদ ও উন্নয়নের সুষম বন্টন নিশ্চিত করা।

​৪. ছয় দফা দাবি:
আওয়ামী লীগ এর সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৬৬ সালে উত্থাপিত এই ৬ দফা ছিল মূলত পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনের একটি রূপরেখা, যা স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত ভিত্তি তৈরি করে। এর মূল বিষয়গুলো ছিল:
➡️* একটি ফেডারেল রাষ্ট্র কাঠামোর অধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা।
➡️* কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় রাখা।
➡️* দুটি স্বতন্ত্র কিন্তু সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা প্রবর্তন (অথবা একক মুদ্রার অধীনে কার্যকর সাংবিধানিক রক্ষাকবচ)।
➡️* রাজস্ব, কর ও শুল্ক ধার্যের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে রাখা।
➡️* বৈদেশিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে রাখা।
➡️* আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া গঠনের ক্ষমতা আঞ্চলিক সরকারের হাতে রাখা।

​৫. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর:
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও সামরিক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানালে, জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী অবিলম্বে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জোরালো হয়।

​সংক্ষেপে, এই দাবিগুলো ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, এবং সাংস্কৃতিক আত্ম-পরিচয় প্রতিষ্ঠার এক সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা। যখন পাকিস্তান সরকার এই দাবিগুলো উপেক্ষা করে এবং দমন-পীড়ন শুরু করে, তখন এই সংগ্রাম চূড়ান্তভাবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের দাবিতে পরিণত হয়।

Address

Chittagong

Telephone

01811116815

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কি দেখার কথা কি দেখছি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to কি দেখার কথা কি দেখছি:

Share