21/01/2026
বিষয়: ঋণখেলাপিদের আইনপ্রণেতা হওয়ার সুযোগ ও সুশাসনের সংকট: একটি নাগরিক পর্যবেক্ষণ
সূচনা:
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ হলো আইনের সর্বোচ্চ সূতিকাগার। এখানে বসে জনপ্রতিনিধিরা রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন—এটাই জনগণের প্রত্যাশা। কিন্তু যখন কোনো স্বীকৃত ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পান, তখন নৈতিকতা এবং সুশাসনের ভিত্তিমূলই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিক অবক্ষয়:
একজন ব্যক্তি যিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আগেই জনগণের আমানত বা ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ অপব্যবহার করেছেন, তার পক্ষে রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট ঠেকানো অসম্ভব। এখানে একটি সরাসরি 'স্বার্থের সংঘাত' (Conflict of Interest) তৈরি হয়। যিনি নিজেই ঋণগ্রস্ত এবং খেলাপি, তিনি নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে গিয়ে সেই ঋণ মওকুফ বা আইনি ফাঁকফোকর তৈরির চেষ্টা করবেন—এটিই স্বাভাবিক ও আশঙ্কাজনক।
অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আঘাত:
ঋণখেলাপিরা যখন আইনপ্রণেতা হন, তখন তারা মূলত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের আর্থিক দায় থেকে মুক্তি পেতে চান।
এর ফলে:
১. ব্যাংকিং খাতে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে।
২. সাধারণ করদাতা এবং আমানতকারীদের মনে আস্থাহীনতা তৈরি হয়।
৩. সৎ উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন এবং নিরুৎসাহিত হন।
আইন প্রণেতা বনাম আইন লঙ্ঘনকারী:
যিনি আইন মেনে সময়মতো পাওনা পরিশোধ করেন না, তিনি যখন আইন তৈরির আসনে বসেন, তখন আইনের শাসন তার মর্যাদা হারায়। রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট ঠেকানোর পরিবর্তে বরং লুণ্ঠিত অর্থ কীভাবে বৈধ করা যায়, সেই প্রবণতাই সেখানে প্রাধান্য পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি সুশাসনের সংজ্ঞাকে যেমন কলঙ্কিত করে, তেমনি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে করে তোলে দুর্বল ও লুটেরা-বান্ধব।
উপসংহার:
রাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে আর্থিক অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনসভা থেকে দূরে রাখা অপরিহার্য। একজন ঋণখেলাপি কখনোই জনস্বার্থের পাহারাদার হতে পারেন না। যদি আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, তবে আইনপ্রণেতা হওয়ার নূন্যতম শর্ত হিসেবে আর্থিক সততাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।