15/11/2025
ক্যাট ফ্লু ( Feline Panleukopenia Virus) নিয়ে মানুষের মধ্যে তিনটি ভূল ধারনা কাজ করে-
১. ভ্যাক্সিন করিয়ে আনলাম, এর পরেও ফ্লু হলো...
বিড়ালে ভ্যাক্সিন দেয়ার ৩-৫ দিনের মধ্যেই ভ্যাক্সিন বডিতে কাজ শুরু করে, এর মানে এই নয় যে বডিতে ইমিউনিটি চলে আসছে। এই ইমিউনিটি আসতে সময় লাগে ১০-১৪ দিন। তাও পার্সিয়াল ইমিউনিটি। ফুল ইমিউনিটি এর জন্য বিড়ালের কে ভ্যাক্সিন করাতে হবে মিনিমাম ২ বার। ৩ বার হলে সব থেকে ভালো। একটা ভ্যাক্সিন থেকে আর একটা ভ্যাক্সিনের মাঝে গ্যাপ হবে ৩-৪ সপ্তাহ।
এডাল্ট বিড়াল, যাকে কখনোই ভ্যাক্সিন করানো হয় নি, তার ইমিউনিটি আসতে সময় লাগে ২১-২৮ দিন। এবং অবশ্যই ৩-৪ সপ্তাহ পরে আবার বুস্টার ডোজ দিতে হবে। এরপরে প্রতিবছর একটা করে।
২. ভ্যাক্সিন করানো বিড়ালে ফ্লু হলো কিভাবে?
ভ্যাক্সিন করানো বিড়ালেও ফ্লু হওয়া স্বাভাবিক বিষয়। ভ্যাক্সিন আসলেই ইমিউনিটি তৈরী করতে পেরেছে কি না সেটা জানার একমাত্র উপায় এন্টিবডি টেস্ট যেটা বাংলাদেশে এখনো সম্ভব হয় নি, তবে খুব বেশি দেরি নেই। তাই ভ্যাক্সিন করানো বিড়ালে ফ্লু হতে পারে। এর সাথে সাথে অবশ্যই বিড়ালের ম্যাটারনাল এন্টিবডির প্রভাবে ইনজেকশন করা ভ্যাক্সিনের একটা সম্পর্ক আছে। ভ্যাক্সিনের ডেট এক্সপায়ার্ড, কুল চেইন মেইন্টেন, ভাইরাসের স্ট্রেইন চেঞ্জ সহ আরো অনেক কিছু ফ্যাক্টর আছে।
৩. ভ্যাক্সিনের আগেই ভালো ছিলো, ভ্যাক্সিন করিয়েই অসুস্থ হলো...
ভ্যাক্সিনের পর শরীর ব্যাথা, জ্বর, খাওয়া ছেড়ে দেয়া, ন্যাতায় পড়া এগুলা স্বাভাবিক বিষয়। ১২-২৪ ঘন্টার মধ্যেই এইসব সময় ঠিক হয়ে যায়। এর জন্য আলাদা কোনো ওষুধ লাগে না। সব ভ্যাক্সিনের ক্ষেত্রেই এটা কমন বিষয়, এমন না যে এই কোম্পানীর টা দিলে সমস্যা হয় না আর অন্য কোম্পানীর টা দিলে সমস্যা হয়।
তবে ভ্যাক্সিন করানোর পর বিড়ালে ফ্লু ধরা পড়ার বিষয় হচ্ছে, আপনার বিড়ালে আগে থেকেই ভাইরাস ছিলো, ভ্যাক্সিন করানোর পর স্ট্রেসের কারনে এই ভাইরাস মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, মানে সাইন সিম্পটম দেখানো শুরু করেছে। কেননা, ফ্লু এর ভাইরাস শরীরে ঢুকার ২-১০ দিন পর সাইন সিম্পটম দেখাতে পারে।
মনে রাখবেন, ভ্যাক্সিন নিজে কখনো ভাইরাস ছড়ায় না। ভ্যাক্সিন ফেইল করতে পারে কিন্তু ভ্যাক্সিন থেকে বিড়ালে ভাইরাস আসে না।
করনীয়:
১. ৬-৮ সপ্তাহ বয়সেই ভ্যাক্সিন শুরু করুন।
২. বুস্টার ডোজ ২ থেকে ৩ ডোজ । ৩ বার দেয়া সব থেকে ভালো। প্রতিটা ডোজের মধ্যে ৩-৪ সপ্তাহ গ্যাপ রাখুন। এরপর বছরে একবার করে।
৩. র্যাবিস ভ্যাক্সিন ৩ মাস বা ৩ মাসের আশে পাশে বয়সেই দিন। এটা বছরে একবার দিলে হয়। সব থেকে ভালো হয়, ৬ মাস পর আবার একটি র্যাবিস বুস্টার করানো। এরপর প্রতিবছর একবার করে দিন।
৪. ভ্যাক্সিন হোম সার্ভিস নেয়ার সময়, কুল চেইন মেইন্টেন কি না চেক করে নিন। ক্লিনিকে কুল চেইন মেইন্টেন করানোই থাকে, তাই ক্লিনিক থেকে দেয়া সব থেকে ভালো।
৫. ফ্লু হয়ে গেলে কালক্ষেপন না করে, ক্লিনিকে নিন। দিনে দুইবার সময় মত মেডিকেশন করান। বমি থাকলে অবশ্যই ইনজেক্টেবল মেডিসিন দিবেন।
৬. ভ্যাক্সিনের সাথে সাথে রেগুলার ব্যাসিসে বিড়ালের কৃমি, ফ্লি, উকুনের ব্যবস্থা নিন। কারন ফ্লু হওয়া বিড়ালের চিকিৎসা জটিলতার একটা বড় কারন বিড়ালের কৃমি, উকুন, ফ্লি।
© Dr. Abdur Rajjak