03/03/2024
"আজও আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজও আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি"
এই পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম।।। পাঠাও রাইড এর ড্রাইভার আগেই বলে রাখেছিলো এই পথেই বেইলি রোড।।। কিছুদিন আগেও যারা এই রোড এর নাম শুনে নাই এখন সবাই এর রোড এর নাম জানে।।।।
আগে থেকেও বললেও ভবনটা চিনিয়ে দেওয়া লাগে নাই।। অন্তত ২০০ মিটার আগে থেকে লাশ, কাচ, আসবাবপত্র, খাবার পোড়ার একটা মিশ্র গন্ধ নাকে বাসতেছিলো। নেউজ বা সোস্যাল মিডিয়ায় দেখা আর বাস্তবে দেখার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।।
কথা হচ্ছিলো ড্রাইভার ভাই এর সাথে:
ড্রাইভার: এটা আল্লাহর একটা গজব।।। ২৯ ফেব্রুয়ারিতে একটা বিশেষ দিন ছিলো। যা সেলিব্রেট করতে এখানে ছেলে মেয়েরা অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলো। আর বরাবরই এখানে এমন বিভিন্ন ধরনের সেলিব্রেশন হয় তাই মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই গজব দেওয়া হয়েছে।
আমি: কিন্তু নিউজে দেখলাম এদের অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন হয়েছে।
ড্রাইভার: সেটাতো ঠিক আছে ভাই, এটার জন্য মালিক যদি ওইদিন ভবনে থাকতো তাহলে ষোল কলা পূর্ন হতো। এই যে ৪৫-৪৬ জন মারা গেলো, আরো লুকানো আছে কি না কে জানে। এর দায়ভার কার?
ড্রাইভার: সরি ভাই। এরকম করে বলার জন্য।
(আমি শুধু শুনালাম। করন এর পক্ষে বিপক্ষে ড্রাইভার ভাই এর সাথে কথা শুরু করলে তার মনোযোগ ঠিক থাকবে না। তাই অন্য প্রসঙ্গে কথা বললাম)
এখন, আপনাদের কাছে ড্রাইভার এর প্রশ্নের উত্তর আছে কি?
এর দায়ভার কার কার?
১. নিয়ম ভঙ্গ করে ভবনটিকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। (ভাড়া দিয়েছিলো মালিক, আর নিয়েছিলো রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বা মালিকেরা)
২. রাজউকের লোকদের ম্যানেজ করে’ তারা এটা করতে পেরেছে।
৩. ভবনটি আবাসিক ভবন হিসেবে নির্মিত হলেও পরবর্তীতে ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য বাণিজ্যিক সনদ সংগ্রহ করেন। ( সনদ দেয় কে?)
৪. অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন হয়েছে। (এটা দেখার কাজ কার)
৫. এতো দিন ধরে এখানে ত্রুটি নিয়ে কাজ হচ্ছে সরকারের কোনো অধদপ্তরের চোখে পড়ে নাই। ঘটনা ঘটার পর একে অন্যকে দোষ দেওয়া।
৬. জনগন যে হুজোগে চলে।।।
দোষ কার?
‘‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে/ তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে। ’’