29/04/2024
•গরমে পোলট্রি পালনের কিছু গুরুত্ব পূর্ণ টিপস্•
ধীরে ধীরে পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে। প্রচণ্ড রোদ এবং গরম দেশের অন্যান্য উষ্ণ স্থানগুলিকে রীতিমত টেক্কা দিচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে দক্ষিণবঙ্গের গড় তাপমাত্রা ৩০° সেলসিয়াস থেকে ৩৭° সেলসিয়াস এর আশপাশে থাকতো সেখানে আজ গড় তাপমাত্রা ৪০° সেলসিয়াস - ৪২° সেলসিয়াস। এর প্রভাব পড়ছে পোল্ট্রি শিল্পে। হিট স্ট্রোকে মুরগির মৃত্যুহার বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তাই কিভাবে পোল্ট্রি খামারীরা মুরগির যত্ন নেবেন সে বিষয়ে কিছু তথ্য উপস্থাপিত করা হলো :---
• পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও এর প্রভাব: স্বেদগ্রন্থি না থাকার কারণে মুরগির অতিরিক্ত গরম অসহ্য লাগে। এতে উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাহত হয়। অতিরিক্ত তাপে এদের জলপান , শ্বাস-প্রশ্বাস এবং শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। অপরদিকে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার, রক্তচাপ, নাড়ির স্পন্দন, রক্তে ক্যালসিয়ামের সমতা, খাদ্য গ্রহণ, শরীরের ওজন ও ডিমের উৎপাদন হ্রাস পায়। ১৫° হতে ২৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এদের উৎপাদন সর্বোচ্চ। ৩৬° হতে ৩৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা মুরগির জন্য অসহনীয় এবং ৩৮° এর পর মৃত্যু হার খুব বৃদ্ধি পায়।
• তাপজনিত ধকল প্রতিরোধে করণীয়: খামারের আশে পাশে ছায়াযুক্ত বৃক্ষ রোপণ বাঞ্চনীয়। তবে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় বায়োসিকিউরিটির কথা চিন্তা করে গাছপালা রোপণের প্রতি অনুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। গরমে পোল্ট্রি শেডে সরাসরি রোদ পড়া যাবে না। অত্যধিক গরম প্রতিরোধে প্রয়োজনে শেডের ছাদে বিচালী বা পাটকাঠি ছড়িয়ে দিতে হবে। স্প্রে মেশিন দিয়ে ঠান্ডা জল শেডের গায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। ড্রিংকার ও ফিডারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ঘন ঘন ড্রিংকারের জল পাল্টাতে হবে। গরমে বাতাসের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ার কারণে শেডের মেঝে অনেক সময় স্যাঁতসেঁতে হয়ে লিটার দ্রুত ভিজে যায়। ফলে রোগের আক্রমণও বাড়ে। সেজন্য প্রতিদিন সকালে ব্রয়লার শেডের লিটার উলোট-পালোট করা প্রয়োজন। লিটারে গুঁড়ো চুন ব্যবহার করলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়। শেড হতে শেডের দূরত্ব ৩০ ফুটের অধিক হলে ভাল হয়। শেডে মোরগ-মুরগির ঘনত্ব বেশি হলে তা কমিয়ে দিতে হবে। বাতাসের অবাধ চলাচল শেডের ভেতরের তাপমাত্রা শীতল রাখতে সাহায্য করবে এবং পোল্ট্রির জন্য ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস মুক্ত রাখবে। শেডে ফ্যানের ব্যবস্থা করতে হবে। রাতে আলোর পরিমাণ কমাতে হবে।
•গরমে পোল্ট্রি খামারে খাবার ব্যবস্থাপনা: ঠাণ্ডা ও বিশুদ্ধ জল সরবরাহ করতে হবে। সেই জলে লবণ - চিনি নির্দিষ্ট পরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে। অথবা বাজারে পাওয়া যায় Intalyte Oral বা Electrobest জলে মিশিয়ে দিতে হবে । Tonoboost ও একবেলা করে জলে মিশিয়ে দিতে পারেন এনার্জি বুষ্ট করার উদ্দেশ্যে।