03/09/2025
#মাইকোপ্লাজমা ও #কোরাইজা সাধারণত মুরগির দুটি
শ্বাসতন্ত্রের রোগ। উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি হলেও কারণ ছড়ানোর ধরন ও চিকিৎসা আলাদা।
#মাইকোপ্লাজমা (Mycoplasma gallisepticum):
এটি মূলত মুরগির শ্বাসতন্ত্র আক্রমণ করে। বাতাস, সরাসরি সংস্পর্শ বা আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে বাচ্চায় ছড়াতে পারে। খারাপ বায়ু চলাচল, বেশি ভিড় বা অন্য কোনো রোগ থাকলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এর প্রধান লক্ষণ হলো চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক দিয়ে সর্দি আসা, হাঁচি দেওয়া, সাইনাস ফুলে যাওয়া এবং ডিম উৎপাদন কমে যাওয়া। চিকিৎসার জন্য সাধারণত টাইলোসিন, টাইলভালোসিন বা ডক্সিসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয় (ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে)। অসুস্থ মুরগিকে আলাদা রাখা, খামারে বাতাস চলাচল ভালো রাখা এবং বায়োসিকিউরিটি মেনে চলা খুবই জরুরি।
#কোরাইজা (Infectious Coryza):
এটি ব্যাকটেরিয়া Avibacterium paragallinarum দ্বারা সৃষ্ট একটি রোগ। এটি খুব দ্রুত ছড়ায় এবং সাধারণত ভেজা ও গাদাগাদি পরিবেশে বেশি দেখা যায়। সংক্রমিত পানি, খাবার বা সরাসরি সংস্পর্শ থেকেও রোগটি ছড়ায়। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখ ও মুখ ফুলে যাওয়া, দুর্গন্ধযুক্ত নাকের সর্দি, শ্বাসকষ্ট, খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া এবং ডিম উৎপাদন হ্রাস। চিকিৎসায় সালফার জাতীয় ওষুধ যেমন সালফাডাইমেথক্সিন বা এরিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হয়। আক্রান্ত মুরগিকে আলাদা রাখা, খামার জীবাণুমুক্ত করা এবং কঠোর বায়োসিকিউরিটি মানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
#প্রতিরোধের_উপায়:
দুটি রোগ প্রতিরোধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে হয়। যেমন অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার পানি ও খাবার দেওয়া, প্রয়োজনে ভ্যাকসিন ব্যবহার করা, নতুন আনা মুরগিকে আগে কোয়ারেন্টিনে রাখা এবং সর্বদা ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা
❗মাইকোপ্লাজমা = দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট ও হাঁচি
❗কোরাইজা = তীব্র সর্দি, মুখ-চোখ ফুলে যাওয়া ও দুর্গন্ধযুক্ত নাকের সর্দি