17/05/2019
সিয়াম পালন করার আদেশ
মহান আল্লাহ এই উম্মাতের ঈমানদারগণকে সম্বোধন করে বলেন যে, তারা যেন সিয়াম পালন করে। সিয়ামের অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহ্র নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে খাঁটি নিয়াতে পানাহার ও স্ত্রী সহবাস হতে বিরত থাকা। এর উপকারিতা এই যে, এর ফলে মানবাত্মা পাপ ও কালিমা থেকে সম্পূর্ণ রূপে পরিস্কার ও পবিত্র হয়ে যায়। এর সাথে সাথেই মহান আল্লাহ বলেন যে, এই সিয়ামের হুকুম শুধুমাত্র তাদের ওপরেই হচ্ছে না, বরং তাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের প্রতিও সিয়ামের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। এই বর্ণনার উদ্দেশ্য এটাও যে, উম্মাতে মুহাম্মাদী যেন এই কর্তব্য পালনে পূর্বের উম্মাতদের পিছে না পড়ে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ
﴿لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّ مِنْهَاجًا١ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمْ اُمَّةً وَّاحِدَةً وَّ لٰكِنْ لِّیَبْلُوَكُمْ فِیْ مَاۤ اٰتٰىكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَیْرٰتِ﴾
‘তোমাদের প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য আমি নির্দিষ্ট শারী‘আত এবং নির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণ করেছিলাম; আর যদি মহান আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তোমাদের সকলকে একই উম্মাত করে দিতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি এ কারণে যে, যে ধর্ম তিনি তোমাদেরকে প্রদান করেছেন তাতে তোমাদের সকলকে পরীক্ষা করবেন, সুতরাং তোমরা কল্যাণকর বিষয়সমূহের দিকে ধাবিত হও।’ (৫ নং সূরা মায়িদাহ, আয়াত নং ৪৮)
এই বর্ণনাই এখানেও করা হচ্ছে যে, ‘এই সিয়াম তোমাদের ওপর ঐ রকমই ফরয, যেমন ফরয ছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। সিয়াম পালনের দ্বারা শরীরের পবিত্রতা লাভ হয় এবং শায়তানের পথে বাধার সৃষ্টি হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ، مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ، وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّهُ لَهُ وِجَاءٌ.
‘হে যুবকবৃন্দ! তোমাদের মধ্যে যার বিয়ে করার সামর্থ্য রয়েছে সে বিয়ে করবে, আর যার সামর্থ্য নেই সে সিয়াম পালন করবে। এটা তার জন্য রক্ষা কবয হবে।’ (সহীহুল বুখারী ৪/১৪২/১৯০৫, ফাতহুল বারী ৯/৮, সহীহ মুসলিম ২/১-৩/১০১৮, ১০১৯)
অতঃপর সিয়ামের জন্য দিনের সংখ্যা বর্ণনা করা হচ্ছে যে ‘এটি কয়েকটি দিন মাত্র’ যাতে কারো ওপর বোঝা স্বরূপ না হয় এবং কেউ আদায়ে অসমর্থ হয়ে না পড়ে; বরং আগ্রহের সাথে তা পালন করে।
বিভিন্ন প্রকার সিয়ামের বর্ণনা
প্রথমে প্রতি মাসে তিনটি সাওম রাখার নির্দেশ ছিলো