23/04/2026
এই চাইনিজ ফ্লি অ্যান্ড টিক ড্রপের মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কেন এটি বর্জন করা হয়েছে উন্নত দেশে
ছবিতে দেখানো "灭虫宁滴剂" (Miechongning Drops) নামক এই চাইনিজ ওষুধটি কুকুর এবং বিড়ালের উকুন, এঁটেল পোকা, মাইটস এবং কৃমি মারার জন্য বাজারে বেশ সস্তায় পাওয়া যায়। এর প্যাকেটে ৯৯.৯% জীবাণু ধ্বংসের কথা বলা হলেও, বাস্তবে এটি পোষা প্রাণীর জন্য একটি নীরব ঘাতক। এর ভয়াবহ ক্ষতিকর দিকের কারণে বর্তমানে USA সচেতন পশুপ্রেমী এবং পশু চিকিৎসকেরা এটি ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা (Ban) জারি করেছেন।
প্রোডাক্টটির মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ক্ষতিকর দিকগুলো আলোচনা করা হলো:
মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ক্ষতিকর দিকসমূহ
এই ওষুধটিতে সাধারণত 'Avermectin' (অ্যাভারমেকটিন) জাতীয় রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত এবং অনিরাপদ মাত্রা ব্যবহার করা হয়, যা বিড়াল এবং অনেক জাতের কুকুরের জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত।
স্নায়বিক বৈকল্য ও খিঁচুনি: এই ওষুধের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো এটি প্রাণীর সরাসরি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত করে। ড্রপটি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনেক কুকুর বা বিড়ালের শরীরে অস্বাভাবিক কাঁপুনি, পেশির খিঁচুনি এবং হাঁটাচলার ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি ও ঘা: ড্রপটি চামড়ার যে স্থানে প্রয়োগ করা হয় (সাধারণত ঘাড়ের পেছনে), সেখানকার চামড়া পুড়ে যাওয়ার মতো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এর ফলে তীব্র চুলকানি, র্যাশ এবং সেই অংশের লোম পুরোপুরি ঝরে গিয়ে দগদগে ঘা তৈরি হয়।
অনবরত লালা ঝরা এবং বমি: বিষক্রিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে পোষা প্রাণীর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত ফেনা বা লালা ঝরতে থাকে। এর পাশাপাশি তীব্র বমি এবং চরম শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয়, ফলে প্রাণী খাওয়া-দাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।
অন্ধত্ব এবং পক্ষাঘাত: বিষক্রিয়া মারাত্মক আকার ধারণ করলে প্রাণীটি তার দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণী আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্যারালাইজড (পক্ষাঘাতগ্রস্ত) হয়ে পড়ে।
অকাল মৃত্যু: সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই সস্তা ড্রপটির বিষক্রিয়া সামলাতে না পেরে অসংখ্য সুস্থ কুকুর এবং বিড়ালের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
কেন মানুষ উন্নত দেশে এটি ব্যবহার করা বন্ধ (Ban) করে দিয়েছে?
অসংখ্য পোষা প্রাণীর মৃত্যু এবং ভয়াবহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পেট লাভার্স কমিউনিটিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার পর, সচেতন মানুষ এই প্রোডাক্টটিকে সম্পূর্ণভাবে বর্জন করেছে।
১. চিকিৎসকদের সতর্কতা: ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা এই ধরনের অনিবন্ধিত এবং মানহীন চাইনিজ প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেন।
২. সচেতনতা বৃদ্ধি: মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে যে, সস্তা দামের ফাঁদে পড়ে এই ওষুধটি কেনা মানে নিজের আদরের প্রাণীকে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। তাই উন্নত দেশে পেট শপ এবং ফার্মেসিগুলো থেকেও ক্রেতারা এটি বয়কট করেছেন।
পরামর্শ: আপনার আদরের কুকুর বা বিড়ালের উকুন, ফ্লি বা টিক্স-এর সমস্যা থাকলে কখনোই যাচাই-বাছাই ছাড়া সস্তা ওষুধ ব্যবহার করবেন না। যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে সর্বদা অনুমোদিত, বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ওষুধ ব্যবহার করুন।