02/04/2026
[ বাকি অংশটুকু ]
“হে আল্লাহর নবী! আমার জন্য একটু দোয়া করুন। অন্তত বেঁচে থাকার মতো সামান্য রিযিক দান করুন। অভাবের যন্ত্রণায় আমি আর বাঁচতে পারছি না।”
লোকটির করুণ অবস্থা দেখে হযরত মুসা (আ.)-এর হৃদয় গলে গেল।
তিনি তার সচ্ছলতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং চলে গেলেন।
কিছুদিন পর আল্লাহ নবীর দোয়া কবুল করলেন।
পরবর্তীতে হযরত মুসা (আ.) আবার সেই পথ দিয়ে ফিরছিলেন।
তিনি দেখলেন—রাস্তায় বিশাল ভিড়।
জিজ্ঞেস করলেন, “এত লোক কেন?”
লোকেরা বলল,
“এই লোকটিই আগে ভিক্ষুক ছিল। হঠাৎ অনেক সম্পদ পেয়ে মদ্যপান করে মাতাল হয়ে যায়। মাতলামির সময় ঝগড়া করে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এখন তার কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করা হবে।”
হযরত মুসা (আ.) তখন আল্লাহর প্রজ্ঞা উপলব্ধি করলেন
এবং নিজের আবদারের জন্য ইস্তিগফার করলেন।
এই ঘটনা উল্লেখ করে আল্লামা শেখ সাদী (রহ.) বলেন—
১. “বিড়ালের যদি ডানা থাকত, তবে সে দুনিয়ার সব চড়ুই পাখি ধ্বংস করে দিত।”
—অর্থাৎ, দুর্বলরা শক্তি পেলে অনেক সময় জুলুমে লিপ্ত হয়।
২. আফলাতুন (প্লেটো) বলেছেন—
“পিঁপড়ার পাখা না থাকাই ভালো। কারণ পাখা গজালে সে উড়ে বেড়াবে এবং নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।”
৩. আল্লাহ তা‘আলা বলেন—
“যদি আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে অঢেল রিযিক দিতেন, তবে তারা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করত।”
(সূরা শুরা: ২৭)
৪. যেমন—একজন বাবার কাছে প্রচুর মধু আছে,
কিন্তু জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে তিনি মধু খেতে দেন না।
কারণ তিনি জানেন—মধু মিষ্টি হলেও এই অবস্থায় তা ক্ষতিকর।
শিক্ষা
যিনি তোমাকে ধনী করেননি,
তিনি তোমার ভালো-মন্দ তোমার চেয়েও ভালো জানেন।
আল্লাহ কখনো কৃপণ নন—তিনি কেবল হাকিম (প্রজ্ঞাময়)।