18/07/2025
বিড়ালকে কখনো গম্ভীর আর নিরাসক্ত মনে হয়।
আবার কখনো মনে হয় মায়াময়, ভালোবাসায় ভরা পোষা প্রাণী।
আবার কখনো শান্ত, তো পরক্ষণেই হিংস্র।
কখনো মন মাতানো, কখনো বিরক্তিকর।
ক্ষণে ক্ষণে মতিগতি বদলায়। তারপরও বিড়ালই পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পোষা প্রাণী।
কেবল আমেরিকাতেই এক-তৃতীয়াংশ পরিবারে বিড়াল রয়েছে।
আর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০ কোটি বিড়াল মানুষের সঙ্গে বসবাস করছে।
এটি কয়েক বছর আগের হিসাব। এখন এ সংখ্যা হয়তো বেড়েছে।
অন্তত কমেনি সে কথা জোর দিয়েই বলা যায়।
কিন্তু এত পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও মানুষের সাথে বিড়ালের সম্পর্কের শুরু বা মাখামাখি সূচনার রহস্য পুরোপুরি জানা যায়নি।
গাধা, ঘোড়া, গরু, ছাগল বা ভেড়া মানুষ পোষ মানিয়েছিল দুধ, গোশত এবং পশম বা হাল বা গাড়ি টানা বিংবা ভারবহন বা দূরপাল্লার পথ পাড়ি দেওয়ার কাজে সাহায্যের জন্য।
কিন্তু বিড়াল না খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়, না মানুষের কাজে সহায়তা করে।
কখনো কখনো ইঁদুর বা সাপ মারে। তা-ও শহরে পোষা বাবু বিড়ালগুলো এসব কাজ কখনো করে না।
তাহলে কীভাবে মার্জার মহাশয় আমাদের ঘরে জায়গা করে নিল?
বিড়াল পোষ মানানোর সঠিক সময় জানা যায়নি। তবে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে কিছু ধারণা পাওয়া যায়।
সাইপ্রাসের আবিষ্কারের পর সবচেয়ে পুরোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে অধিকৃত ফিলিস্তিনে।
ইহুদিবাদী অধিকৃত এ ভূমির খননস্থলে প্রায় ৯,০০০ বছরের পুরোনো বিড়ালের একটি দাঁত পাওয়া গেছে।
আরেকটি বিড়ালের দাঁত পাওয়া গেছে পাকিস্তানে। সেটি প্রায় ৪,০০০ বছরের পুরোনো।
এই প্রমাণগুলো মানুষ আর বিড়ালের সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে রয়েছে।
বিড়ালকে পুরোপুরি পোষ মানানোর সূত্রও মিলেছে আরও পরে।
৩৭০০ বছর আগের অধিকৃত ফিলিস্তিনের এক হাতির দাঁতের মূর্তিতে বিড়ালের চিত্রই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বোঝা যায়, মিসরে জনপ্রিয় হওয়ার আগেই মানুষের ঘরবাড়ির কাছাকাছি বিড়াল বাস করত।
বিড়ালের পুরোপুরি পোষ মানার প্রমাণ সবচেয়ে স্পষ্টভাবে পাওয়া গেছে ৩৬০০ বছর আগের মিসরের নতুন রাজবংশের সময়কার আঁকা ছবিগুলোয়।
ছবিতে বিড়ালকে চেয়ারের নিচে, গলায় রশি বাঁধা, পাত্র থেকে খাবার খেতে অথবা টেবিল থেকে খাবারের টুকরো নিতে দেখা যায়।
এ থেকে বোঝা যায়, তখন পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছিল মার্জারকুল।
আরও পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রায় ৯-১০ হাজার বছর আগে ফার্টাইল ক্রিসেন্ট অঞ্চলে (বর্তমান ইরাক-সিরিয়া-অধিকৃত ফিলিস্তিন)