03/03/2024
~বিনীর গল্প~
রেদওয়ান আহমেদ রাকাত
সালটা ছিল ২০১৮। রোজার সময় আমরা পরিবারের সবাই মিলে ইফতার করছিলাম। হঠাৎ আমার পায়ে খামচির অনুভব করলাম, পিছে তাকিয়ে দেখি এত মায়াবী চেহারার একটা বিড়ালছানা। আমি ডাকতেই চলে এলো, কিছু খাবার দিলাম,খাওয়ার পর থেকেই আমার পিছু পিছু আমার রুমে চলে এলো। ও এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, ওর চোখ দুটো যেন বলছে বাবা আমায় রেখে দাও৷ আমিও ভাবলাম আজ থেকে ও আমার। ওর নাম রাখলাম বিনী।
ওকে কয়েকবার ডাকার পরই ও বুঝে গেছে ওর নাম বিনী। ডাকলেই সাড়া দিত। আমার বিনী ছিলো খবুই আদরপ্রিয়, যখন ওর আদর পেতে ইচ্ছে হতো মাথা উঁচু করে দিত। রাতে ঘুমাত আমার বুকের উপর, পরে মানুষের মতো বালিশে মাথা রেখে কাথা গায়ে জড়িয়ে ঘুমাত। আমাকে রেডি হতে দেখলে ও পাগলের মতো করত। কোথাও গেলে ফিরে এসে দেখতাম ও দরজার সামনে বসে আছে। যদি কোনো বিড়ালকে খাবার দিতে দেখত, তাহলে আর রুমে আসতে চাইত না। পরে আমি অনেক আদর করে নিয়ে আসতাম। বিনীর সাথে দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছিল।
২০২১-এ আমি চলে এলাম সৌদি আরবে। আসার সময় যখন আমি ওর কাছে বিদায় নিতে গেলাম ও আমাকে জোরে একটা খামচি দিয়ে দিল। তারপর থেকে আমার ছোট বোন ওর দেখাশোনা করত। বিনী আমাকে যেমন ভালোবাসত, তেমনি আমার বোনকেও ভালোবাসতো। প্রতিদিন ওর সাথে ভিডিও কলে কথা বলতাম, আমার প্রতিটা কথার জবাব দিত মেও মেও করে, যেন ও সব বুঝে। আমি কল দিলেই দেখতাম ও কোথা থেকে এসে হাজির, আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত।
১৫ এপ্রিল, ২০২৩ রোজার মধ্যেই সেহরির পর বাড়ি থেকে কল এলো, ভিডিও কল রিসিভ করেই দেখি বিনীর প্রাণহীন দেহটা। আমি পাথর হয়ে গিয়েছিলাম। আমার সন্তান আর নাই, আমার বিনী আর নাই। আমি কত কিছু ভেবে রেখেছিলাম, দেশে ফিরে ওর সাথে কত কিছু করব ,কত কিছু ওর জন্য নিয়ে যাব। কিন্তু আল্লাহ ওকেই নিয়ে গেল। বিনীর সাথে দেখা করার আশা আমার সারাজীবনের জন্য আশা হয়েই রয়ে গেল।
সবশেষে বিনীকে উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, তোমাকে আজও ভুলেনি তোমার বাবা। আমায় মাফ করে দিও বিনী। বাবা তোমায় শেষবারের মতো বুকেও নিতে পারি নাই।