01/09/2021
গিরিবাজ কবুতর এর টস /রেইস / ধাপ
যারা একেবারেই নতুন পালার বয়স ১০ মাস কিন্তু সামনে টস করতে চান তাদের জন্য !
কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে পারি ???
১) কবুতর সংগ্রহ ঃ
খুব গুরুত্ব পূর্ণ কাজ
" কারন গরু কিনে ঘোড়ার দৌড় এ অংশ নিতে পারবেন না /
গরু ঘোড়ার সাথে পাল্লায় পারবে না "
মানুষ দুই প্রকার কবুতর সংগ্রহ করে
১) কেউ বুড়া বা এডালট কিনে বাচ্চা করে অই বাচ্চা ফিট করে উড়ায় পরে টস করে ।
২) কেউ বাচ্চা কিনে অই বাচ্চা ফিট করে উড়ায় পরে টস করে ।
দুই পদ্ধতিতে মানুষ কবুতর সংগ্রহ করে
******************************************
১) সরাসরি বাজার / নেট থেকে
২) কবুতর পালক এর বাসা থেকে
কবুতর কেনার বা সংগ্রহে সতর্কতা
************************************
আপনি নিজে বুঝলে ভালো না হয় একজন বিশ্বস্ত ও ভালো কবুতর চিনে এমন মানুষ খুজে বের করুন
যিনি আপনাকে কবুতর কিনতে সহায়তা করবেন
না হয় নিজে একটু আইডিয়া নিন কোনটা কি জাত ভালো উড়ার কবুতর বা টস এর কবুতর এর কি কি গুন থাকে বা থাকা দরকার
তার উপর নির্ভর করেই আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করুন কেনা
বাজার থেকে কেনা ?
************************
শীতে টস বা পাল্লায় অনেক কবুতর ধরা পরে বাজার শয়লাব থাকে তাই বাজার এর দাম ও কম থাকে
আবার শীতের পরে অনেকে কবুতর কমায় তা থেকে ও ভালো কবুতর পাওয়া যায় ।
তবে সকল ধরা কবুতর ভালো নয় বা সকল ধরা কবুতর আবার খারাপ ও নয় ।
যা বুঝেন কিনেন , কিনে নর মাদিকে প্লাসটিক এর নাম্বার আলা রিং পড়ান ১ জোড়া থেকে দুই জোড়া করে বাচ্চা নিন বাচ্চার পায় রিং লাগান ডায়রিতে লিখে রাখুন কোন জোড়ার কোন বাচ্চা ।
আবার এই নর অন্য মাদি এই মাদি অন্য নর দিয়ে বাচ্চা করেন নাম্বার লিখে রাখুন ।
তাতে বাচ্চা যখন টস করবেন কোন জাত ভালো করল কোন জাত হারাল বুঝতে পারবেন ।
নিজের পছন্দ মত ১৫০/২০০/৩০০ টাকা পিস বাচ্চা কিনুন কিনে ফিট করুন উড়ান
তবে আমার মতে কবুতর দুই পাঠঠা বা দুই দশক বয়স এ শুরু করলে ভালো হয় ।
কবুতর পালক এর বাসা থেকে কেনা ??
******************************************
১) উনি মানুষ ক্যামন জানুন ?
২) উনার কবুতর এর মান ক্যামন জানুন ?
৩) যার থেকে কবুতর কিনবেন ভাবছেন কয়েকবার তার বাসায় যান কবুতর এর জাত গুলি দেখার জানার বুঝার চেষ্টা করুন কোন জাত এর বাচ্চা ক্যামন হয় রং চেহারা সেইপ ।
৩) যারা টস বা পাল্লায় ছিল তাদের থেকে জানার ও চেনার চেষ্টা করি ।
৪) কোন জাতের কয়টা কবুতর আসছে অই জাত এর কয় জোড়া কবুতর দিয়ে বাচ্চা নিচ্ছে জেনে বুঝে আগান ।
৫)জাতের পরিবর্তে বাজারের না জানা জাত জেন না কিনি জাত হিসাবে ।
৬)নিজে শিখে নিজেই যেন জাত তৈরির কারিগর হই।
৭)যেসব বড় জাত ওয়ালা কে ,জাত বিক্রেতাকে প্রতি বাজারেই দেখা যায় কিনতে বা তাদের চামচাদের হাটে দেখা যায় তাদের থেকে সাবধান হই ।
৮)যুক্তি দিয়া মিলাই কিভাবে ২/৪ টা কবুতর থেকে.৩০/৬০/৯০ দিনে ১৫/২০/৩০ বাচ্চা সেল হয় ।
৯) ছারা ছাড়ির জাত হলে যারা পাল্লায় ছিল , যারা জানে তাদের সাহায্য নেই ।
১০) মনে রাখবেন যেই কবুতর নিজেই আসছে পাল্লা থেকে , আর তার ব্লাড লাইন অনেক কাছের কিন্তু একি নাহ ।
১১) মনে রাখবেন একি জাতের একি পেয়ার এর সব কবুতর একি রকম নাও হতে পারে ।
১২) যেই কবুতরের সারা বছর বাচ্চা নেয়া হয় তার থেকে, যেই কবুতরের বাচ্চা বছরে ২/৩ পেয়ার নেয়া হয় তার গুনাগুন অনেক ভাল হবে ।
১৩) পারলে সরাসরি যে কবুতর নিজে আসছে পাল্লা থেকে তাকেই কিনার চেষ্টা করুন ।
১৪) কারো থেকে কিনার চিন্তা করলে তার বাসায় কয়েকবার গিয়া জাত গুলা চিনুন , জানুন বুঝুন । তার পর কিনুন ।
সঠিক জোড়া মিলানো ও নির্বাচন ও এর গুরুত্ব ঃ
*****************************************************
কবুতর পালায় সব থেকে কঠিন অধ্যায় ।
ভালো কবুতর অনেকের কাছেই আছে কিন্তু কার সাথে কার জোড়া ভালো মিলবে বা ভালো ফলাফল আসবে তা অনেকেই জানি নাহ , আমি নিজে ও জানি না বা বুঝি না ।
দুই জন ৬০ কিলো জয় করা কবুতর জোড়া দিলেই যে তাদের বাচ্চা আসবে তার গ্যারান্টি নাই ।
নর মাদির গায়ের রং ঃ
**************************
জোড়া মিলানোর সময় কালার এর দিকে নজর দেওয়া জরুরী যাতে বাবা মায়ের রং এমন ভাবে মিলাতে হবে বা একটু বডি ফ্রেশ এর সাথে জাবরা জোড়া দেওয়া , বাচ্চার বাজু ও পর যেন কালো হয় , কালো পর সহজে নষ্ট হয়না ।
সাদা কবুতর বা সাদা পর সহজেই কাঞ্জি বা ঝাঞ্জি হয়ে যায় বা খেয়ে যায় । তাই টস বা পাল্লায় সাদা কবুতর অনেকে এড়িয়ে যায় ।
সঠিক কবুতর জোড়া মিলানো আমরা যারা বূঝীনা তারা কি করতে পারি ঃ
**************************************************************************
নিজেদের পছন্দ মতো বা যা বুঝি তাই জোড়া দিয়ে ২ জোড়া বাচ্চা নিয়ে আবার আরেক ণর মাদি দিয়ে জোড়া মিলিয়ে তাদের ২ জোড়া বাচ্চা নেই ।
তারপর এদের রেকর্ড রাখি কার বাচ্চা কোণ্টা ।
তারপর খেয়াল করি কার বাচ্চা উড়তে গিয়ে হারায় , কার বাচ্চা ভালো ঊড়ে ? টস এ আসে ?
যার টা ভালো করবে আলহামদুলিল্লাহ তার জোড়া ই সঠিক , ঐ জোড়া দিয়ে বাচ্চা নেই কাজে লাগবে ।
শীতের আগে কবুতর রেডি করার এই সময় সতর্কতা ও করণীয় ঃ
********************************************************************
১)অনেক দিন কবুতর আটকা থাকার পর , শরীর ভারি হয়ে যায় তাই খুব সাবধানে বাহিরে দেওয়া
২) কবুতর অনেক গুলি আছে যারা ছাড়ার পর বাসায় না বসে ডাঈড়েক ঊড়াল দেয় আর পরে যায় অন্য কোথাও তাই এদের একটু শরীর ভিজিয়ে বা পাণি স্প্রে করে / খাঁচার ভিতর গোসল করিয়ে বাহিরে দেওয়া ভালো তাতে তারা ছাদে থাকবে ।
৩) প্রথম থেকেই সকালে না ছেড়ে বীকালে ছেড়ে তারপর ৫/৭ দিন পর আছতে আছতে রোদের তাপ সহ্য করার ক্ষমটা বাড়িয়ে সকালে বাহিরে দেওয়া ভালো ।
৪) ১০/ ১৫ দিন শুধু বাহিরে দিবেন যখন নিজে ঊড়ে পর ফ্রি হবে তখন আছতে আছতে ণাড়া দিবেন চাপ বা ফ্লাগ দিবেন নাহ । কবুতর ১/২/৫ চক্কর দিক অসুবিধা নেই ।
আছতে আছতে ঊড়া বাড়বে ।
৫) এই সময় কবুতর প্রথমে অল্প উড়েই হাপায় ৫ মিনিটে মণে হয় ৩ ঘণ্টা ঊড়লো । আর অল্প ঊড়ে শরীর ও ব্যাথা হয় ।যেমন আমরা ১ বছর পর হটাত ক্রিকেট বা ব্যাডমিন্টন খেল্লে যেমন লাগে জয়েন্ট ব্যাথা হয় তেমন ।
A)এই হাঁপানি কমাতে আগের দিন আস্ত ধইণ্ণা ১ লিটার পানিতে ১ মূঠ পরিমাণ ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ঊড়ে নামলে রেস্ট দিয়ে তারপর খেতে দিন ।
B) ব্যাথা কমাতে গোল হলুদ বেটে বা অনেকে ঐ হলুদ কিছুক্ষণ পুড়িয়ে উপরের কালো আবরণ ফেলে ভিতরের অংশ বেটে ১ লিটার পানিতে ১ চা চামচ মিশিয়ে ঐ পাণি খাওয়ান ইনশাআল্লাহ উপকার হবে ।
C) এই সময় কবুতর এর দিকে খেয়াল রাখা অনেক রোদে কবুতর অসুস্থ হয় , চোখ ঊঠে , শুকীয়ে যায় , হটাত খাওয়া বন্ধ করে , শুধু পাণি খায় , ঝীমায় তাদের আলাদা করে চিকিৎসা করে ১০/১৫ দিন পর বাহিরে দেওয়া ।
৬) ঊড়াণো কবুতর ণর মাদি আলাদা রাখা , পাশাপাশি খাঁচায় বা ণর মাদি কাছাকাছি না রাখা ।
৭) ণর মাদি আলাদা ছাড়া প্রথম দিকে । প্রয়োজনে ণর ছেড়ে উড়িয়ে নামিয়ে আটকিয়ে তার পর মাদি ছাড়া / আজকে ণর ছাড়লেন কালকে মাদি ছাড়েন ।
৮) কবুতর পুরো ঊড়া শুরু করলে ণর মাদি একসাথে ঊড়াণ কিন্তু একসাথে ছাড়া রাখা যাবে নাহ ।
তাতে তারা চড়া মূষতি করে জোড়া খেয়ে ঊড়া বন্ধ করে পর বাড়ী দিয়ে ণেমে যায় । মাদি ডিমে এসে যায় ।
ঊড়ে নামলে বামে বা আড়ায় রেস্ট দিয়ে ধাপটিতে ছিটা আদার বা খাবার দিয়ে কবুতর আটকে ফেলতে হবে । খুব কঠিন কিন্তু অভ্যাস করতে হবে ।
তারপর পানি খাইয়ে অফ আবার দুপুরে ফুল খাবার ।
পলির কবুতর বা প্রথম বাহিনী ঃ
***********************************
এরা থাকবে সব দিক থেকে ভালো ।অভিজ্ঞ ।
ঊড়বে ভালো , যেকোনো ঝাক এর সাথে মিশে বা অনেকক্ষণ ঊড়বে । অনেক সময় দেখা যায় শীতকালে আমাদের কবুতরের ঝাক এর সাথে অন্য কারো ঝাক মিশে বা পাল্লার কবুতর এসে মিশে যায় তখন আপনার কবুতর শক্তিশালি না হলে ওদের সাথে চলে যাবে ।
১০) টস বা ধাপ ছাড়া বা ধাপ এ ধাপ এ ছাড়া বা জাত বাছাই করা বা
সাধারণ বা গরিবের কবুতরের খাবার ঃ
*****************************************
সাধারণত উড়ানোর কবুতরকে খাবার
৭০% ধান
২০% রেজা
১০% গম /৫% ডাবলি/ ৫% ছোলা । দেওয়া যায় ।
ধান ঘিগজ ধান হলে ভালো ।
খাবার ও এর পার্টিশন / ভাগ ঃ
*********************************
প্রতিটা আইটেম আলাদাভাবে খাওয়ানোকে এর পার্টিশন বা ভাগ বলে
মনে করেন আপনার ১ ধাপটিতে ৪০ পিস কবুতর থাকে ডেনিশ এর টিনের কৌটার ৮-১০ পট খাবার খায় ।
ক) আপনি মোট খাবার এর ১০ ভাগ এর ১ ভাগ/ ১ পট ধান এ ১ চা চামচ মাখন মিশিয়ে অই ধান খাবার দেওয়ার ১ ঘণ্টা আগে রোদ দিয়ে খাওয়াতে পারেন
খ ) ১ পট এর ৩ ভাগ এর ১ ভাগ তিশি বাজরা কুসুম সূর্য খাওয়াতে পারেন
গ) বাকি ৮.৬৫ পট শুধু ধান দিতে পারেন
অনেকে ১০/২০ আইটেম ও খাওয়ায় ? কিন্তু কেন কোনটা খাওয়ায় জানে না বুঝে না ।
ভালোর শেষ নেই ।
আমি বলি THE BEST RULE IS NO RULE ???
পাল্লায় কবুতর এর খাবার এর সতর্কতা ঃ
********************************************
পাল্লায় বের হওয়ার ১৫ দিন আগেই ভাবুন কি কি খাবার দিবেন
পাল্লায় বের হয়ে একেক দিন একেক খাবার দেওয়া যাবে না ।
খাবার এর সময় ?পরিমান ? আইটেম ? একই থাকা গুরুত্বপূর্ণ ।
যারা আগে আসবে বা খাবার সময় এর মধ্যে আসবে তাদের সঠিক সময়ে খাবার দিতে হবে
যারা পরে আসবে তাদের আলাদা খাবার দিতে হবে ।
পাল্লার সময় কবুতর এর খাবার পানি ঃ
******************************************
কবুতরের কালা পাণি ঃ
************************
অনেক গোপন , রহস্য ঘেরা এই কালা পাণি , অনেকে জানেন , নিজের জন্য বানান বা অনেকে বিক্রি ও করে ।
অনেকের টায় কবুতর উপড়ে ঊঠে ও ভালো ঊড়ে ।
অনেকের টায় কবুতর মিডিয়াম লেবেল এ থাকবে ভালো ঊড়বে ।
জাণা যায় এতে ১৫-২০ আইটেম থাকে , যা কবুতর এর খাবার হজম করায় , শারীরিক শক্তি বাড়ায় ।
গরিবের কালা পাণি ঃ
**********************
আপনি আমলকী , হরতকি, বহেরা শুকনা কিণে ৩/৪ পিস ১ লিটার পানিতে আগের দিন ভিজিয়ে রেখে তা পরের দিন খাবার পাণি হিসাবে খাওয়ান ।
অথবা হামদর্দ এর কারমিনা + সিনকারা ১ লিটার এ ২+২ মিলি মিশিয়ে খাবার পাণি হিসাবে খাওয়ান ভালো ফল পাওয়া যায় ।জাতে হজম শক্তি বাড়ে , শারীরিক দুর্বলতা কমে যায় ।
গোলাপী পাঊডাড় ঃ
********************
অনেক গোপন , রহস্য ঘেরা এই পাঊডাড় যা কিনা আবিষ্কারক এর কাছের মানুষ কিণে নিতে পারে ।
যা কবুতর যারা ছাড়ে বা বাজী খেলে তারা অনেকে ব্যাবহার করেন ।
অনেকে বলে এই পাঊডাড় খাওয়ালে ৫০ কিলো থেকে এসে ও কবুতর নরমাল থাকে ।
ঘোলা পানি ঃ
*****************
অনেকে কবুতরকে মাঠার পানি সাথে আখের গুর মিশিয়ে খাওয়ায় ।
অনেকে তাল মিসরির পানি ও খাওয়ায় ।
মানুষ ও মত এর শেষ নাই ।
খাবারে অতিরঞ্জন ঃ
*************************
অনেকে ধান এ মাখন বা ঘি মিশায় তারপর রোদে শুকায় তার পর ঐ ধান কবুতরকে খাওয়ায় ।
অনেকে ফলের জূষ খাওয়ায় ।
অনেকে খাবারে ১০/১৫ আইটেম হোমাড় কবুতর এর মতো খাওয়ায় ।
অনেকে শীতে তিসি , সরিষা, কুসুম ফূল এর বীচি সূর্য মূখী ফূল এর বীচি দেয় খাবার এর সাথে এতে কবুতর উপড়ে ঊঠে কম কিন্তু নীচে বা মিডিয়াম লেভেল এ দৌড়ায় বা মোচড়ায় বা খেলে ।
মাদক বা নেশার সাথে কবুতরের সম্পর্ক ও ক্ষতিকর দিক ঃ
****************************************************************
অনেকে নেশা জাতীয় খাবার আফিম ,গাজার বীচি , মদ ও দেয় যা অনেক সময় হিতে বিপরীত হয় ,কবুতর কোথাও থেকে ছাড়ার পর দিক রেখে অন্য দিকে চলে যায় ।অনেক সময় বাড়ির উপড়ে এসে চলে যায় । আর ঐ কবুতর ধরা পড়ার পর বেশি দিন বাঁচে নাহ ।
সাময়িক ভালো হলে ও দীর্ঘ মেয়াদ এ ফল খারাপ হয় ।
অতি সন্ন্যাসী তে গাজন নষ্ট ঃ
***********************************
অনেকে আছেন যাকে পাণ তার পরামর্শ নেন ???
সবার টা নিয়ে ফল হয় খুব খারাপ , আরও কারণ ভালো পরামর্শ দেওয়ার মানুষ নেই ।
জাণে সবাই বলে নাহ কেঊ ।
তাই যে কারো ১ জন ভালো মানুষের পরামর্শ নিন ।
শেষ কথা ঃ
অতিরঞ্জিত কিছু না করা ই ভালো ।
ন্যাচারাল বা সাধারণ ভাবে করা বা পালা ই উচিৎ ।
আমার আপনার সাধ আর সাধ্য এর মধ্যে যা পারি অতোটুকু করা ই ভালো ।
নিষিদ্ধ কাজ / যা না করা ভালো ??
*************************************
অনেকে ১০ টি পর এক সাথে টেনে তুলে দেয় একসাথে সকল পর
গজায় তবে এতে বেশির ভাগ কবুতর এর পর এর দুর্বলতা দেখা দিতে পারে ।
অনেকে টস এর সময় কানি পর বা ১০ নং পর ছোট বা কাঁচা থাকলে টেনে তুলে দেন যা খুব খারাপ কাজ ।
অনেক সময় এর রক্তক্ষরণে কবুতর অসুস্থ হয় / হারায় আবার অই পালক আর গজায় না ।
টস এর আগে যা ভাবা বা দেখা দরকার আছে কিনা ??
********************************************************
১) টাকা ঃ
যা ই করবেন টাকা লাগবে টস এর খাঁচা কিনবেন ? ভালো খাবার কিনবেন ?? গাড়ি ভাড়া ???
২) বিশ্বস্ত মানুষ বের করা যে আপনার টস এর সময় পাশে থাকবে একা টস করা অনেক কঠিন ।
৩) কবুতর এর বডি ফিটনেস ও পর এর গুলি ঠিক আছে কিনা ??
৪) মনকে শক্ত করা কবুতর উড়ানোর যা আছে তা নিয়ে বের হওয়া
৫) কবুতর এর সেইপ সাইজ আচরণ দেখে টস এর কবুতর নির্বাচন না করা ।.
কিভাবে পাল্লা শুরু করবেন ঃ
********************************
৬) রোড এ বা পাল্লায় বের হওার আগে প্রথমে ২/৩ দিন কবুতর ছাড়ার খাঁচায় ভরে ২০/৩০ মিনিট রেখে আবার ছাদে ছেড়ে দিন ।
না হলে প্রথম খাঁচায় ভরলে অনেক অস্থির হয় লাফালাফি করে ।
বাড়ির কাছ থেকে ২/৪/৫ বাড়ি পর থেকে একবার ছাড়ুন অল্প দূরে দিলে প্রথম দিকে তারা জানলো বাড়ি থেকে দূরে তাদের ছাড়া হচ্ছে । তারা মানসিক প্রস্তুতি নিলো ।
পাল্লায় দুরত্ত নির্ধারণ ঃ
*************************
যদি ঝাক ছোটো করতে না চান তবে শীত এর মাঝামাঝি বা শেষ এর দিকে কিছু কবুতর বাড়ি থেকে ১/২ , ১ কিলো করে ২/৪ টা ধাপ বা ছাড়তে পারেন আপনার বাড়ির সব জাত থেকে ২/১ পিস করে ।
তারপর ৫ কিলো করে ২/৪ টা দিয়ে ৭/১০ কিলো করে আগানো যায় । তবে জায়গা বুঝে গ্যাপ দিবেন একেবারেই নদীর কিনার থেকে বা কয়েক নদীর মোহনা থেকে না ছাড়া ভালো প্রয়োজনে ১ কিলো আগে বা ১ কিলো পরে ছাড়া ভালো ।
যেই দিকে নদী / বিল / খোলা ময়দান বেশি / গ্রাম এর পর গ্রাম সেইদিকে ৩/৫ কিলোর বেশি গ্যাপ দেওয়া ক্ষতিকর ।
৭/১০ কিলো গ্যাপ দিলে অনেক বেশি কবুতর হারাতে পারে ।
এক ধাপ থেকে আরেক ধাপ ১/২ দিন ৫০ কিলো পর্যন্ত ৫০ এর উপড়ে হলে ২/৩ দিন পর পর হলে ভালো হয় ।
কারন সকল কবুতর এক সময় আসে না খাবার খায় না , আসার পর অনেকের শরীর দুর্বল থাকে যা রিকভারি করতে সময়ের দরকার ।
টস বা পাল্লার সময় যা খেয়াল রাখতে হবে ঃ
***********************************************
কবুতর এর যোগ্যতা /+ বয়স+ উপযুক্ত সময় +দিক ?
**********************************************
কবুতর ২/৩ দশক হলে ভালো হয় বয়স । কারন বয়সের সাথে অভিজ্ঞতা ও বারে ।
কবুতর যখন বাড়ির উপর ১.৫-২.৫ ঘণ্টা উড়া শুরু করবে ঝাক নিজেই মোচড়াবে খেলবে দউরাবে বুঝবেন কবুতর মউজে আসছে এই সময় ছারা ভালো ।
আপনার কবুতর যদি এলাকায় বিভিন্ন ঝাকের সাথে না মিশে বা ফেইটটা অভ্যাস না থাকে তবে আগে কয়েকবার আশে পাশের কোন ঝাক এর সাথে মিশাইয়া বা ফেইটা ছাড়েন অই ঝাক থেকে ছুটে বাড়িতে আসার অভ্যাস জরুরী ।
নতুবা কবুতর কোথাও থেকে ছাড়ার পর কোন ঝাকে মিশলে ছুটে আসতে পারবে না বা অনেক দেরি হয়ে যাবে বা অন্য পাল্লার ঝাক এর সাথে মিশে দূরে চলে যাবে ।
দিক নির্ধারণ করুন ???
কোন দিকে টস বা পাল্লা করবেন ভাবুন দেখুন বুঝুন
স্পট নির্ধারণ করুন ।
একটি রাস্তা যদি ভিত্তি করে আগান প্রতিটা টস রাস্তার হয় বাম / ডান দিক থেকে দিবেন । একবার ডান আরেকবার বাম এ দিবেন না ।
এক দিক থেকে টস শেষ করে অন্য দিকে যাওয়ার আগে আবার ছোট করে অই দিক থেকে শুরু করে শুধু দিকটা বুঝান এর পর ৫/৭/১০ কিলো করে আগাতে পারেন ।
পাল্লায় টাকা আর নিজের গাড়ি থাকার সুবিধা ঃ
***************************************************
নিজের গাড়ি আর টাকা থাকলে তো কথাই নাই হোক তা অটো বা সি এন জি বা পাজেরো
মনের মাধুরি মিশিয়ে টস বা পাল্লা ১/২/৫ কিলো করবেন টুর্নামেন্ট এর স্পট থেকে ১০ বার ছাড়বেন ।
১ দিক ২ দিক ৩ দিক ৪ দিক কোন বিষয় না
কারন অনেকে গাড়ি আর টাকার অভাবে বড় গ্যাপ দিয়ে পাল্লা করে কবুতর অনেক বেশি সর্ট হয় ।
২ দিক ছেড়ে ৩ দিকের বাজি খেলে ????
আপনি তখন খাওয়াবেন ৩০০০ টাকা লিটার বেলগাসল
বাকুইট / বিদেশ থেকে ইম্পরট করা খাবার
খাঁচা ঃ
**********
গাড়িতে কবুতর নেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে আলো বাতাস পায় অনেকে কবুতর পলিথিন বা ত্রিপাল দিয়ে ঢেকে নেয় যাতে কবুতর গরমে ঘামে পর ভিজে যায় মাথা ঘুরায় বমি করে
কবুতর বেশি সর্ট হয় বা হারায় ।
কবুতর সুতি কাপড় বা ছালার চট দিয়ে ঢাকা দরকার অল্প আলো বাতাস চললে কবুতর ভালো থাকে ।
কবুতর ছাড়ার সময়
১) আবহাওয়া ঃ ??
**********************
এখন সবার ই মোবাইল আছে গুগল থেকে আগাম আবহাওয়া বার্তা দেখুন আগামী কাল আবহাওয়া কেমন থাকবে দেখুন
স্পট এ গিয়ে ও আবহাওয়া দেখে বুঝে কবুতর ছাড়ুন
কুয়াশা বেশি হলে অপেক্ষা করুন ।
আবহাওয়া বেশি খারাপ হলে কবুতর ফেরত আনুন ।
মনে রাখবেন হাড় থাকলে গোস্ত হবে কবুতর থাকলে পরে ও ছাড়তে পারবেন ।
২) খেয়াল রাখুন কবুতর ছাড়ার জায়গা যেন একটু খোলা মেলা হয় ।
কবুতর যেইদিকে উঠবে সামনে যেন বিল্ডিং বা গাছ না থাকে বা কারেন্ট এর তার না থাকে উঠতে যাতে কোন বাধা না পায় ?
বেশী গাছ বা টাওয়ার থাকলে কবুতর ছাড়ার সময় ই বাজের আক্রমন হয় কবুতর উপড়ে উঠার আগেই পরে যায় । পরে অই কবুতর বেশিরভাগ ই সর্ট হয় ভুল আমাদের দোষ হয় কবুতর এর ।
৩) কবুতর ছাড়ার আগে খেয়াল করুন অইখানে বালি না থাকে বালি থাকলে কবুতর উড়ার সময় চোখে বালি ঢুকবে ।
ঘাস আছে এমন জায়গায় খাঁচার সামনে ছালা বিছিয়ে কবুতর বের করুন যাতে কবুতর বের হয়ে ছালার উপর দাড়াতে পারে না হয় অনেক সময় ঘাসে কুয়াশার পানি থাকে পা পাখা ভিজে যেতে পারে উড়তে সমস্যা হতে পারে ???
কবুতর ছাড়ার সময় খাঁচার উপরের অংশ আছতে করে তুলে সরে আসুন কবুতর বের হয়ে একটু দাঁড়াবে হাঁটবে পাখা ঝারা দিবে পায়খানা করবে একটু ফ্রি হবে তারপর উড়বে সেই সুযোগ দিবেন অনেকেই খাঁচা খুলেই উরিয়ে দেয় যা সঠিক নয় ।
ছাড়ার সময় কবুতরের সংখ্যা ঃ
**********************************
কবুতর এর সংখ্যা ৫০ এর বেশি হলে কয়েক ভাগে ছাড়ুন এক গ্রুপ হাইট এ গেলে আরেক গ্রুপ ছাড়ুন ।
কবুতর পাল্লা থেকে বাসায় আসার পর কবুতর এর প্রতি খেয়াল রাখা ঃ
***********************************************************************
কবুতর বাসায় আসার পর দেখা দরকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা
কে কখন আসলো
খাবার ঠিক মত খেলো কিনা
শরীর ফিট আছে কিনা
পর ঠিক আছে কিনা
বাজ পাখির আক্রমন আছে কিনা
কোন সমস্যা থাকলে পরের পাল্লার আগে ঠিক হলে ভালো না হয় সরিয়ে দেওয়া পরের বছরের জন্য ।
পাল্লা থেকে আসার আগে বা পরে পানি ও সতর্কতা ঃ
*********************************************************
অনেকে পাল্লার দিন ভোর রাতে কবুতরকে পানি খেতে দেয় বা সিরিঞ্জ দিয়ে অল্প পানি খাইয়ে দেয় ।
তবে এই পানিতে হটাত কোন নতুন কিছু যোগ করলে অনেক সময় কবুতর এর শরীরে সহ্য হয়না ফল হয় উল্টা কবুতর হারায় ।
পাল্লা থেকে আসার পর রেস্ট দিয়ে ও পানি খাওয়াতে হয় ।
তবে এইসব পানিতে ডাবের পানি , মালটার / আনার এর রস , গ্লুকোজ দেওয়া যেতে পারে ।
পানি বা তুশকার সতর্কতা ঃ
*******************************
হঠাৎ ভেল্কাবিয়ন / বেলগাসল না দেওয়া ভালো দিতে চাইলে অল্প অল্প করে ১০/১৫ দিন আগে থেকেই অভ্যাস করাতে হবে ।
হঠাৎ দিলে তাপ বেড়ে কবুতর অসুস্থ বা মাথা গরম হয়ে উল্টা দিকে যেতে পারে ।
১ম বছর পাল্লার পর এর দায়িত্ব ঃ
************************************
খেয়াল করা কারা আসলো কি তাদের পরিচয় ?
বাবা মা আছে কিনা এবং যারা আসলো এদের নির্দিষ্ট জাত গুলি নিয়ে ধৈর্য ধরে চর্চা করা আগানো ।
পাল্লার দুরত্তের ক্ষমতা যাচাই ঃ
************************************
এবং আগামীতে এদের সব জাত নিয়ে যতদুর এরা টিকে ততদুর পাল্লা করা
কোন জাত কয় কিলো টিকলো বা পরে গেলো তা নোট রাখা
তা থেকে এদের কিলো কেপাসিটি জানতে বা বুঝতে পারবেন ।
কেউ ৩০ কিলো
কেউ ৪০/৫০ কিলো
কেউ ৬০/৭০ কিলো থাকবে বা টিকবে ।
বলা সহজ করা বা পাওয়া কঠিন ঃ
***********************************
আমরা দেখি যে ভালো করে বা জিতে সে শিকান্দার
যে খারাপ করে বা হারে তাকে বলি চকিদার ।
কিন্তু ভালো মাণ সম্পন্ন ভাবে যে হারে সেও কিন্তু অনেক শ্রম দিয়ে হারে , তাকে অসম্মান করার কিছু নেই ।
আজ কারো কবুতর ঊড়লোণাহ কিন্তু কাল যে ঊড়বে নাহ তা কি করে বলি ।
তাই যার কবুতর ভালো করে তার রুল ই রুল । তার নিয়ম ই ভালো ।
আমি এমন মানুষ দেখেছি যার কবুতর ৩/৪ ঘণ্টা ঊড়ে ছাড়লে আসে খাবার দেয় শুধু গম ????
অনেক কিছুই আমাদের জানার বাহিরে বুঝার বাহিরে ঘটে ।
আল্লাহ সব ই পারেন ।
কি পাই কবুতর পেলে ঃ
************************
মনের শান্তি ।
যতই মন খারাপ হোক ওদের কাছে গেলে ভালো লাগে ।
আমি কাজের জন্য ওদের টাইম দিতে পাড়ীণাহ তবুও পালি , সকালে একবার দেখি , যতো রাতেই বাড়ি ফিরি ওদের না দেখলে ঘূম হয়না । আর যেদিন ছুটি পাই ঐ দিন ঈদ ।
ওদের চাওয়া পাওয়া কম । অরা স্বার্থ বূঝে নাহ , বূঝে নাহ আমাদের মানুষ গুলার রাজনীতি ।
বিঃ দঃ ঃ
আমার স্বল্প জাণা থেকে বলা , ভূল থাকলে পরামর্শ দিন , শুধরে নিবো শিখবো ইনশাআল্লাহ ।
আমার কবুতরকে সময় দিতে না পারায়
নিজের মেধা ভালো না হওয়ায়
ওস্তাদ না থাকায় ভালো শিখতে পারিনাই ।
তবে শেখার আগ্রহ আছে , আজীবন শিখতে চাই । ছাত্র থাকতে চাই ।
তারিক বিন শহীদ ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে