23/11/2023
অ্যাকুয়ারিয়াম ফিস এর হোয়াইট স্পট রোগের চিকিৎসা :
ঋতু পরিবর্তনের প্রাকৃতিক ধারা অনুযায়ী শীতকালীন আবহাওয়া ইতিমধ্যে চলে এসেছে। দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা তাপমাত্রায় অ্যাকুয়ারিমের বেশির ভাগ ফিশ এর প্রাথমিকভাবে যে সমস্যা টি প্রায়শই দেখা যায় সেটি হচ্ছে ইচ/ইক/হোয়াইট স্পট! এটি মূলত এক ধরনের পরজীবি।
এটা মাছ এর খুবই কমন একটা অসুখ। শুধুমাত্র সময়মতো লক্ষ্য না করা এবং চিকিৎসার অভাবে এই রোগে অনেকেরই মাছ মারা যায়। কিন্তু একটু নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে খুব সহজেই আক্রান্ত মাছ কে সুস্থ করা সম্ভব আল্লাহর রহমতে।
আজকে এই রোগ এর লক্ষ্মণ এবং চিকিৎসার বিষয়ে জানাবো ইনশাআল্লাহ। এর প্রধান লক্ষ্মণ হচ্ছে মাছ শরীরে একদম ছোট ছোট সাদা অসংখ্য দানা দানা দেখা যাবে, মাছ তুলনামূলক কম নড়াচড়া করবে, খাবার কম খেতে চাইবে, মাছের রঙ ফ্যাকাসে হয়ে যাবে ইত্যাদি।
এর চিকিৎসা খুবই সহজে করতে পারবেন। বাজারে মুদি দোকান থেকে সস্তা আয়োডিন মুক্ত মোটা লবন কিনবেন। প্রতি কেজি ২০-৩০৳ দাম। বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদিও এইসব লবণের মোড়কে "আয়োডিন যুক্ত " লেখা থাকে, কিন্তু বাস্তবে এইগুলো "আয়োডিন মুক্ত "।
আর লাগবে একটি সাবমার্সিবল অটো হিটার। সম্ভব হলে অসুস্থ মাছ টিকে আলাদা একটি ছোট ট্যাংক-এ রেখে চিকিৎসা করবেন। আপনার ট্যাংকে যত লিটার পানি ধরে, ততো ওয়াট - এর হিটার ব্যবহার করতে হবে। তাপমাত্রা ৩২° ডিগ্রি সেলসিয়াস নির্ধারণ করবেন। এরপর প্রতি ১০ গ্যালন পানি তে এক টেবিল চামচ লবণ দিবেন। প্রতিদিন অর্ধেক পানি সাইফুন করে ফেলে দিয়ে পুনরায় সর্বনিম্ন একদিন আগে জমিয়ে রাখা পানি দিয়ে পূর্ণ করবেন এবং সেই অনুপাতে আবারও লবণ দিবেন। এইভাবে অন্তত ৭ দিন চিকিৎসা করবেন। ইনশাআল্লাহ আশা করা যায় আপনার সখ এর অ্যাকুরিয়ামের হোয়াইট স্পট আক্রান্ত মাছ সুস্থ হয়ে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে।
ধন্যবাদ ধৈর্য্য সহকারে লেখা টি পড়ার জন্য। আশা করি নতুন সৌখিন অ্যাকুয়ারিয়াম মাছ পালনকারী, ব্রীডার এবং যারা ব্যাবসার সাথেও জড়িত সবারই কাজে লাগবে।