11/10/2021
বিষয়ঃকবুতরের খাদ্য তালিকা
কবুতরকে ৩ ধরনের খাবার দেওয়া প্রয়োজন। যথা:
(১)কর্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার: গম,ভুট্টা,চিনা,বাজরা,মিলেট,জব, বাকহুইট,চাল,জিরাগম,কাউন ইত্যাদি।
মোট খাবারের ৭০% কার্বোহাইড্রেট থাকতে হবে।
(২)আমিষ জাতীয় খাবার: মুগডাল, মসুর ডাল, রেজা, ডাবলি, ছোলা, খেশারি,সয়াবিন,ফেলন ডাল ইত্যাদি।
মোট খাবারের ২৫ % আমিষ থাকতে হবে।তবে বাচ্চা থাকা অবস্থায়,মল্টিং চলাকালীন সময়ে আরও বাড়িয়ে ৩৫% করা ভালো।সেক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট কিছুটা কমে যাবে।৬০% হয়ে যাবে।ব্রিডিং কবুতরের ক্ষেত্রে ৫% সয়াবিন দিলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বলে থাকেন।
(৩)তেল জাতীয় খাবার: সরিষা,কুসুম ফুলের বীজ,সূর্যমুখী ফুলের বীজ,ক্যানারি ইত্যাদি।মোট খাবারের ৫% তেল জাতীয় খাবার দিতে হবে।তবে শীতকালে বাড়িয়ে দিতে হবে।গরম অতিরিক্ত হলে ২% করতে হবে।
যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী কবুতরের খাবার মিক্স তৈরি করুন। আমার বাড়িতে থাকা কিছু কবুতরের খাবারের নাম সহ ছবি দিলাম। দেখে চিনে নিতে পারেন।
এবার খাবার বিষয়ক কিছু তথ্য :
সব খাবার ঝেড়ে, রোদে ভালো করে শুকিয়ে কবুতরকে খেতে দিতে হবে। আমি personally সব খাবার ধুয়ে কবুতরকে খেতে দেই।তবে এক্ষেত্রে খাদ্যদানাগুলো ভালোভাবে রোদে শুকাতে হবে। তবে তিসি,চিনা,মিলেট,ক্যানারি,কাউন ইত্যাদি ধুইনা।তিসি ধোয়ার পর একবার কেমন যেন হয়ে গিয়েছিল !
তেল জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে দেয়া যাবেনা কখনোই।গরমকালে শীতকালের তুলনায় কম দিতে হবে। অতিরিক্ত তেল জাতীয় খাবার দিলে কবুতর বাজা হয়ে যেতে পারে।
কবুতরকে মানুষের খাওয়ার উপযোগী লাল সরিষা দিতে হবে।
#চিনা, #রেজা, #কাউন এই খাবারগুলোতে ধুলাবালির পরিমাণ বেশী থাকে। তাই এই খাবারগুলোর দিকে বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে। এগুলো কবুতরকে খেতে দেয়ার আগে ভালো করে ঝেড়ে পরিষ্কার করে,রোদে শুকিয়ে দিতে হবে। #রেজা ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে কবুতরকে দিতে হবে। কারণ শুধু ঝাড়লেও #রেজার ধুলাবালি থেকেই যায়।
#ভুট্টাভাঙ্গা কবুতরকে দেয়া উচিত নয়।এতে ফাঙ্গাস হয়। পপকর্ণ দেয়া যাবে তবে তা ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে।ভুট্টা না দিলে কোনো সমস্যা হবেনা।অন্য কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দিলেই হবে।
কবুতরের বাচ্চা থাকা অবস্থায় অপেক্ষাকৃত ছোট খাদ্যদানাগুলো (জিরাগম,চিনা,কাউন,বাজরা,সরিষা,মিলেট ইত্যাদি)খেতে দিলে ভালো হয়। এতে কবুতরের বাচ্চাকে খাওয়াতে সুবিধা হয় আর বাচ্চারও খাবার হজম হয় সহজে।
অনেকে কবুতরের মলের দূর্গন্ধ হয় বলে কবুতরকে আমিষ জাতীয় খাবার দেননা এটা ঠিক না। কবুতরকে সঠিক পরিমাণ অনুযায়ী আমিষ জাতীয় খাবার দিতে হবে।
কবুতরকে শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার দিলে পেট ফোলা,গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি সমস্যা হয়।
কিছু কবুতরের গলায় #ধান আটকে যায়। তাই ধান দিলে ভালো করে কবুতরকে খেয়াল করতে হবে যে কবুতরের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।ব্রিডিং এর কবুতরকে ধান না দিলে কোনো সমস্যা নেই।বাচ্চা থাকা অবস্থায় কবুতরকে ধান দিলে অনেক সময় বাচ্চার গলাতেও তা আটকে যায়। ধান দিলে ধানের পাতান (যে ধানে শুধু খোসা আছে ভেতরে চাল নেই) বেছে তারপর দিতে হবে। ধানের পাতান বাছার একটা ভালো উপায় বলি।
ধানকে পানিতে ভেজাতে হবে। তারপর উপরে যে ধানগুলো ভেসে উঠবে সেই ধানগুলো হচ্ছে পাতান। এগুলা ফেলে দিতে হবে। আর নিচে যে ধানগুলো থাকবে সুগুলো ভালো ধান। আমি যতদূর মনে করি ধানের পাতান কবুতরের গলায় আটকানোর সম্ভাবনা বেশী।
বাজারে যে মিক্সার খাবার পাওয়া যায় তা কবুতরকে না দেয়াই ভালো।
মহান আল্লাহ তায়ালা সবার কবুতরকে ভালো রাখুক।
c.c.p.