17/06/2026
অনেক রেস্তোরাঁ, ক্যাফে বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজেদের পরিবেশ আকর্ষণীয় করে তুলতে খরগোশ, পাখি, মাছ, বিড়াল কিংবা অন্যান্য প্রাণী রাখে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রাণীগুলো পর্যাপ্ত খাবার, পরিচর্যা, চিকিৎসা বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
কিছুদিন আগে শহরের একটি সনামধন্য রেস্তোরাঁয় দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় কিছু পাখি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছিল, যা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আলোকে সম্পূর্ণ অবৈধ। আবার সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি বিদেশি জাতের কুকুরকে একটি রেস্তোরাঁয় অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখার অভিযোগ নিয়েও আলোচনা দেখা যাচ্ছে। সত্যতা যাচাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয় হলেও, প্রাণীটির পরিবেশ দেখে অনেকের মতো আমারও মনে হয়েছে—এটি তার কল্যাণের জন্য যথাযথ নয়।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ, যদি কোনো পোষা প্রাণীর জন্য আরামদায়ক, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তাহলে তাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের পরিবর্তে বাসায় সঠিক যত্নে রাখা অনেক ভালো।
একটি প্রাণী কখনোই শুধু সাজসজ্জার উপকরণ নয়। তারা অনুভূতিসম্পন্ন জীব, যাদেরও ক্ষুধা লাগে, ভয় লাগে, অসুস্থতা হয় এবং ভালোবাসা ও যত্নের প্রয়োজন হয়।
একইভাবে, যারা শখের বসে বিভিন্ন প্রাণী পালন করতে চান, তাদের প্রতিও অনুরোধ—শুধু শখ থাকলেই হবে না, সেই প্রাণীর দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, চিকিৎসা, সময় ও দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে। যদি সেই প্রস্তুতি না থাকে, তাহলে প্রাণী না পালাই উত্তম। আমাদের শখের কারণে যেন কোনো নিরীহ প্রাণী কষ্ট না পায়।
আসুন, এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে ব্যবসার সৌন্দর্যের পাশাপাশি প্রাণীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সৌন্দর্য তখনই অর্থবহ, যখন তার সঙ্গে থাকে দায়িত্ব, সহমর্মিতা এবং মানবিকতা।
আসুন আমারা প্রাণের প্রতি সদয় হয়।